ডাঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন

ডাঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ইতিপূর্বে যিনি দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানী এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। জটিল এবং পুরাতন রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ পারদর্শী। স্ত্রীরোগ, পুরুষদের সমস্যাবলী ও শিশুদের রোগসহ যাবতীয় স্বাস্থ্য সমস্যায় পরামর্শ এবং সুচিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করুন...

মডেল হোমিও ফার্মেসি; যাত্রাবাড়ী মোড়, ঢাকা
ফোন : ০১৯২৪-০৪১৮৯৬, ০১৭৮৯-১৪৪৩৭১ (সরাসরি ডাক্তার)

Wednesday, June 5, 2019

অন্ডকোষের ভেরিকোসিল (Varicocele) স্থায়ী চিকিৎসা সমাধান হোমিওপ্যাথি

ভেরিকোসিল (Varicocele) স্থায়ী সমাধান হোমিওপ্যাথি। পুরুষদের অন্ডকোষের সমস্যা ভেরিকোসিল (Varicocele) যার কোনো এলোপ্যাথিক ঔষধ নেই। তাই এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা এটিকে সার্জারি করে ঠিক করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর ফলে অনেক দেখা যায় সমস্যাটি বহু ক্ষেত্রেই ঠিক না হয়ে আরো জটিল আকার ধারণ করে। তাই ভেরিকোসিল অপারেশন করা থেকে বিরত থাকুন।

আপনার জানা উচিত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা যদিও সব ডাক্তার এই রোগের ভালো চিকিৎসা নিতে পারেন না। পুরুষদের অন্ডকোষের সমস্যা ভেরিকোসিল (Varicocele) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন.....
ভেরিকোসিল রোগীদের ৯৫ ভাগ বাম পাশ্বে আক্রন্ত হয় আর ৫ ভাগ ডান পাশ্বে আক্রান্ত হয়।অনেকেই দেখা যায় ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন পেটেন্ট ঔষধের নাম জেনে সেগুলি খেয়ে ভেরিকোসিল নির্মূলের চেষ্টা চালায়। আপনার জানা উচিত এই সকল পেটেন্ট ওষুধ ভেরিকোসিল (Varicocele) নির্মূলের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখে না। যারা বছর ধরে এই সকল ঔষধ খেয়েছেন তারা ইতিমধ্যেই টের পেয়েছেন।

আবার এই সমস্যাটি হলে অনেকেই অবহেলা করে চিকিৎসা নেন না যার কারনে ধীরে ধীরে এটি এক সময় জটিল আকার ধারণ করে এবং পুরুষদের সন্তান জন্মদানে অক্ষম করে তুলে। তাই সময় মতো অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে উন্নত চিকিৎসা নিন।
বিস্তারিত

Monday, June 3, 2019

হস্তমৈথুনের মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক Masturbation Side Effects

লাখ লাখ যুবকের উপর চালিত পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে যে, হস্তমৈথুন এমন এক সমস্যা যাতে একবার কেউ আসক্ত হয়ে পড়লে প্রপার ট্রিটমেন্ট ছাড়া এ থেকে রেহাই পাওয়ার অন্য কোনো কার্যকর উপায় থাকে না বললেই চলে। আপনি অনলাইন সার্চ করলে হস্তমৈথুন অভ্যাস পরিত্যাগের বিষয়ে ভুরি ভুরি উপদেশ বাণী পেয়ে যাবেন। যার সবগুলিই অকার্যকর। তারপরও তাদের উপদেশ বাণীর যেন কোনো শেষ নেই।

কিন্তু তাদের অনেকেই বাস্তবতাটা বুঝতে পেরে কোথাও এর জন্য চিকিত্সা নেয়ার কথাটা বলে না।
কেন জানেন ??
ভালো করে শুনে নিন ** তাদের কাছে এ সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো চিকিত্সা নেই **

তাই উপদেশ বাণী শোনানো ছাড়া তাদের আর কি-ই বা করার আছে। কিন্তু ঐসব চিকিত্সকদের নিকট চিকিত্সা নিতে গেলে ঐ অবস্থায় যখন একে একে সব গুলো উপদেশ বাণী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তখন তাদের সর্বশেষ চিকিত্সা হলো - * বিয়ে করে ফেলেন *। বুঝেন অবস্থা !!!! আর এই সময়টাতে চিকিত্সার নাম করে আপনার কাছ থেকে যা নেয়ার সেটা কিন্তু তারা ঠিকই নিয়ে নিল। অথচ তারা নিজেরাই জানত তাদের কাছে এর কোনো কার্যকর ট্রিটমেন্ট নেই। শুধু তাই নয়, চিকিত্সার ব্যর্থতা ঢাকতে  অবশেষে তারা এও বলেন যে - *হস্তমৈথুন কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয় !!!!!!*

একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো 
অনেকেই শীতপ্রধান দেশের বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ ফলাফল আমাদের উপমহাদেশের অর্থাৎ গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বেলায় চালাতে চান। এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের বাস্তবতা উপলগ্ধি করতে হবে। আমাদের দেশের ছেলেদের ১০-১২ বছরের মধ্যেই যৌন পরিপক্কতা চলে আসার কারণে তারা অনেকেই তখন থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে এবং বিয়ের সময় অর্থাৎ বয়স ২০-৩০ বছর হওয়ার পর দেখা যায় তারা নানা প্রকার যৌন সমস্যা সৃষ্টি করে ফেলেছেন। কিন্তু শীতপ্রধান দেশগুলির বিষয়টা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। ঐসব দেশে ছেলেদের যৌন পরিপক্কতা আসে অনেক দেরিতে, অনেকের ১৬-১৮ বছর হয়ে যায়। তাছাড়া তারা যে কারো সাথে মেলামেশার সুযোগ পেয়ে থাকার কারণে  হস্তমৈথুন ততটা করে না। তাই তারা এর জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হয় না বললেই চলে। তাই আপনাদের অবশ্যই এ বিষয়টা বুঝতে হবে এবং তাদের ক্ষেত্রে যে থিওরি তাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন তা আমাদের দেশের ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ তারা যদি আমাদের দেশের ছেলেদের মত হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে এটা করতে থাকত তাহলে তারাও এর কুফল গুলির সম্মুখীন হত।

যারা হস্তমৈথুন করাকে ক্ষতিকর না বলে ভালো বলে থাকেন তাদের কাছে প্রশ্ন ????
সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম, যাকে বলা হয়ে থাকে *A complete code of life.* এ বিষয়ে হয়ত আপনারা সবাই আমার সাথে একমত হবেন আশা করি যদি আপনি মুসলিম হন। হস্তমৈথুন করাটা যদি মানুষের জন্য উপকারীই হত তাহলে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামের অনেক মুফতীগণ রাসূলের হাদিসের আলোকে এটাকে কেন পাপ বলে অবহিত করলো। আশা করি বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূর বলার প্রয়োজন নেই। জেনে রাখুন হস্তমৈথুন অভ্যাসটা এমন কিছু মারাত্মক সমস্যার জন্ম দেয়, যা এক সময় একজন পুরুষের যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলে। এটা যুবকদের শারীরিক এবং মানুষিক উভয় সমস্যারই সৃষ্টি করে থাকে। আমাদের কাছে চিকিত্সা নিতে আসা হাজর হাজার যুবকরা নিজ মুখেই স্বীকার করেছে তাদের জীবনের অতীত কালের এ সকল অনাচারের কথা।

ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিক সমুহ :-
অনেক আলেমরা এটিকে ইসলামের দৃষ্টিতে এটিকে হারাম ঘোষণা করেছেন । শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুনকরে তারা সীমালংগনকারী। তবে এখানে আমি শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব, যেহেতু আমি একজন ডাক্তার। পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে্সব সমস্যায় ভুগতে পারে সেগুলি হলো :-
  • পুরুষ হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে যায়। অর্থাৎ যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায় ।
  • আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয় । বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না ।
  • অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় । তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম । যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার দেখা দেয় । (যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত । স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয়না। )
  • অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়। Dr.Liu বলেন -
  • "There is a huge change in body chemistry when one masturbates excessively"
  • হস্তমৈথুনের ফলে শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয় :-
  • Nervous system, heart, digestive system, urinary system
  • এবং আরো অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয় । পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ - বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায় ।
  • মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
  • স্মরণ শক্তি কমে যায়  এবং চোখেরও ক্ষতি হয় ।
  • আরেকটি সমস্যা হল সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হওয়া যাকে বলা হয়  
  • Leakage of semen ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামায পড়তে কষ্ট হয়।
  • মহান আল্লাহ্ তা’ আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন। রসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেন-
  • "যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুইপায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব । -(বুখারী ও মুসলিম)
তাই কাউকে হস্তমৈথুন করার উপদেশ দিয়ে আপনি নিজে গুনাহ বা পাপের অংশীদার হবেন না। পারলে কেউ এতে আসক্ত হলে যথাযথ হোমিও চিকিত্সার মাধ্যমে তাকে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনুন। কারণ হোমিওপ্যাথিই একমাত্র কার্যকর চিকিত্সা বিজ্ঞান যা কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই যুবকদের হস্তমৈথুন অভ্যাস দূরীকরণে সফলতা দেখিয়ে আসছে।
বিস্তারিত

Saturday, June 1, 2019

অন্ডোকোষের ভেরিকোসিল (Varicocele) কেন হয় ? অপারেশনবিহীন স্থায়ী চিকিৎসা নিন

পুরুষদের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য যৌন সমস্যা হলো ভেরিকোসিল (Varicocele)। স্পার্মাটিক কর্ড বা রেত্রজ্জু, এপিডিডায়মিস বা অন্ডকোষের উপরিস্থিত কেচোর মত লম্বা বস্তু - ইহাই উক্ত উৎপাদক নাড়ী এবং টেস্টিকেলের (কোষের) শিরা সমূহ স্ফীত হয় এবং গাট গাট মত হয়ে ফুলে উঠে, আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করলে যেন একটা কেচো কুন্ডলির মত পাকিয়ে আছে মনে হয়। সোজা ভাবে শুয়ে থাকলে ও চাপ দিলে ইহা ক্ষুদ্র হয়ে যায় এবং খাড়া হয়ে দাড়ালে পুনরায় বৃদ্ধি পায়। অধিকাংশ স্থলে এই পীড়া বাম দিকেই অধিক দেখা যায় কারণ বাম দিকের স্পার্মাটিক কর্ড ডান দিক অপেক্ষা অধিক লম্বা এবং অধিক জড়ানো থাকে। এছাড়া বাম দিকে এসগময়েড ফ্লেক্সরে অধিক পরিমান পানি জমে থাকলে তার চাপেও বাম দিক আক্রান্ত হয়।

এই রোগে কোনো কোন ক্ষেত্রে আদৌ যন্ত্রনার উদ্রেক করে না আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভয়াভহ যন্ত্রনার সৃষ্টি করে থাকে। এক প্রকার টানা হেচড়ার মত বেদনা কোমর থেকে প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এই বেদনা হাটাচলা করলে, দাড়ালে এবং গরম কালে অধিক অনুভূত হয়।
যে সকল পুরুষ অধিক কামাশক্ত অথবা যারা অত্যধিক হস্তমৈথুন করে তারা যদি হঠাত এই অভ্যাস ছেড়ে দেয় কিন্তু কাম চিন্তা ত্যাগ করতে না পারলে এপিডিডায়মিসের উপর দিকে স্পার্মাটিক কর্ড এর মধ্যে বীর্য ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়ে উঠে। ইহাতে কোষ উপর দিকে আকৃষ্ট হয়, স্ফীত হয় এবং স্পর্শ করলে, দাড়ালে বা হাটাচলা করলে বেদনার উদ্রক হয়। লিঙ্গ অর্ধবক্র হয়, এই অবস্থায় কিছুক্ষণ বা কিছুদিন থাকার পর ধীরে ধীরে ঐ স্ফীত ভাব কমে আসে এবং কখনো আবার বৃদ্ধিও পেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ভেরিকোসিলে পরিনত হয়। ইহার ফলে পুরুষাঙ্গ কখনো শক্ত ও সোজা হয়, কখনো বা বাকা হয়ে থাকে এবং এটা রাত্রেই বেশি হতে দেখা যায়। ইহাতে রোগী অনেক যন্ত্রনাও ভোগ করে থাকে।

ভেরিকোসিল (Varicocele) এর অত্যন্ত কার্যকরী এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা রয়েছে। একজন ভালো হোমিওপ্যাথ রোগীর সবগুলি লক্ষণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ঔষধ নির্বাচন পূর্বক যথাযথ ট্রিটমেন্ট দিলেই ভেরিকোসিল অনায়সে নির্মূল হয়ে যাবে। তবে এই সময় উগ্র মসলা যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। হালকা অথচ পুষ্টিকর খাদ্যই গ্রহণ করা শ্রেয়। কোনো প্রকার মদ্য পান বা উগ্র নেশা করা অনুচিত। সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। রাত্রি জাগরণ এবং অসৎ সঙ্গে মেলামেশা করা আদৌ উচিত নয়।
বিস্তারিত

Saturday, January 12, 2019

পুরুষের লিঙ্গ প্রদাহ (Inflammation of the Penis) !! কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকার

বর্তমান যুগে অ‌নেক পুরুষের মধ্যেই একটা সমস্যা বেশ প্রকট হয়ে উঠছে, তা হ‌লো লি’ঙ্গ প্রদাহ বা ব্যালানাই‌টিস, বাংলায় যাকে মনোষ বলা হয়ে থাকে। ব্যালানাইটিস শব্দটি গ্রিক ব্যালানস থেকে এসেছে। ব্যালানস শব্দের অর্থ লিঙ্গ মুন্ডু বা লিঙ্গের মাথা। লি’ঙ্গাগ্রের চামড়া আক্রান্ত হলে তাকে বলে ব্যালানোপসথাইটিস। লিঙ্গমুন্ডুর চারপাশে এক ধরনের ময়লা জমা ও নিঃসরণের কারণে জায়গাটা বাতাসের সংস্পর্শ কম পায় এবং সেখানে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয়; এ কারণে লি’ঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হয় ও লি'ঙ্গমুন্ডু ফুলে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যাদের খতনা করা হয়নি, তারাই এ সমস্যায় বেশি ভোগেন।

পুরুষের লিঙ্গ প্রদাহ রোগের কারণ

সাবান, শাওয়ার জেল বা কনডমের উপরিভাগের আঠালো পদার্থ পুরুষাঙ্গের মুখে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে যা থেকে ব্যালানাইটিস হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ যেমন- পেইনকিলার, ঘুমের ঔষধ, ল্যাক্সেটিভ (কোষ্ঠকাঠিন্যে ব্যবহৃত ঔষধ) ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। এগুলোকে ফিক্সড ড্রাগ ইরাপশনও বলে।

সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ঈস্ট যেমন- ক্যান্ডিডা অ্যালবিকান্স পুরুষাঙ্গের উপরিভাগেই থাকে। তাপ, চাপ, সাবান দিয়ে ওই স্থান পরিষ্কার করলে বা একেবারেই পরিষ্কার না করলে এসিড লেভেল ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, যার কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগে কোনভাবে কেটে গেলে বা আঁচড় লাগলে এই রোগ হতে পারে।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ইনফেকশনে হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ইনফেকশন থেকেই ব্যালানাইটিস হতে পারে।চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, খতনা করা হয়নি এমন ছেলেদের মধ্যে এ রোগের প্রকোশ বেশি। খতনা করা হয়নি এমন যে কোনো বয়সী পুরুষের যে কোনো সময় লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হতে পারে। যেসব পুরুষের লিঙ্গাগ্রের চামড়া টাইট বা আঁটোসাঁটো থাকে অর্থাৎ চামড়া পেছনের দিকে টেনে নামানো কষ্টকর অথবা যেসব পুরুষ লিঙ্গ ঠিক মতো পরিষ্কার করেন না তারা ব্যালানাইটিস বা লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ রোগে আক্রান্ত হন। তবে খতনা করানো হয়েছে এমন ছেলেও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের কারণেও লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হয়, বিশেষ করে যদি রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না থাকে।

লিঙ্গের পরিচ্ছন্নতা: অনেকেই লিঙ্গের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। বিশেষ করে ছোট ছেলেরা এ ব্যাপারে সচেতন নয়। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহের সাথে লিঙ্গের পরিচ্ছন্নতার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ সম্পূর্ণ লিঙ্গ ধৌত করেন না এবং যেসব পুরুষ খতনা করাননি তারা সচরাচর ব্যালানাইটিসে আক্রান্ত হন। আবার সাবান দিয়ে লিঙ্গ অতিরিক্ত পরিষ্কার করলেও ব্যালানাইটিস হয়।
লক্ষণ: এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন।

পেনিস বা পুরুষাঙ্গে লালভাব দেখা দেওয়া (Penis redness)পুরুষাঙ্গে ব্যথা হওয়া (Penis pain)ডায়পার র‍্যাশ (Diapper Rash)ত্বকের ফুসকুড়ি (Skin rash)অস্বাভাবিক ত্বক (Abnormal appearing skin)জ্বর (Fever)

মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা হওয়া (Painful urination)কাশি (Cough)তলপেটের নিচের দিকে ব্যথা হওয়া (Suprapubic pain)পেনিস বা পুরুষাঙ্গ দিয়ে তরল নির্গত হওয়া (Penile discharge)ত্বকের ক্ষত (Skin lesion)ত্বকে চুলকানি (Itching of skin)

এই সমস্যার স্থায়ী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। তাই অভিজ্ঞ কোন হোমিও ডাক্তারে সাথে এই সমস্যা নির্মূলের জন্য আজই যোগাযোগ করুন।
বিস্তারিত

কিডনি নস্ট হবার লক্ষণগুলো কী কী ? নষ্ট কিডনি ঠিক করার কার্যকর উপায় সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কিডনি নস্ট হবার লক্ষণগুলো কি কি ? কিডনি বিকল বা রেনাল ফেইলুর (Renal failure) ! কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা। কিডনির প্রাথমিক রোগে বা অন্য কোনো কারণে কিডনি আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ধরে যদি দুটো কিডনিরই কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে তখন তাকে ক্রনিক বা ধীরগতিতে কিডনি ফেইলুর (Kidney Failure) বলা হয়। আমি আমরা এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো -

একটি কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে এবং অপরটির কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলেও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। দুটো কিডনিরই শতকরা ৫০ ভাগ বিনষ্ট হলেও শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে, যার ফলে একজন সুস্থ মানুষ (কিডনি ডোনার) তার নিকট আত্মীয় বা অন্য আর একজন কিডনি বিকল রোগীকে (কিডনি গ্রহণকারী) একটি কিডনি দান করেও সুস্থ থাকেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। তবে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে আপনার নষ্ট কিডনিও আবার সুস্থ করতে পারেন।

কেবল দুটো কিডনির ৫০ ভাগের উপর নষ্ট হলেই কিডনি বিকল হওয়ার প্রবণতা শুরু হয় এবং ৭৫ ভাগ নষ্ট হলেই শরীরের লক্ষণগুলো ধরা যেতে পারে আর ৯৫ ভাগের উপর নষ্ট হলে কৃত্রিম উপায়ে (ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন) ছাড়া রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, যাকে বলে এন্ড স্টেজ রেলাল ফেইল্যুর (End Stage Renal Failure)। তবে এই অবস্থায় অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ট্রিটমেন্ট চালিয়ে গেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
এবার আসুন কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণগুলি জেনে নেই
  • গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস বা কিডনির ছাকনি প্রদাহ রোগ ৫০-৫৫%।
  • ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ ১৫-২০%।
  •  উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগ ১০-১৫%।
  • কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় পাথর ও অন্য কোনো কারণে বাধাজনিত রোগ ৭-১৯%।
  • কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় জীবাণুজনিত রোগ ৫-৭%।
  • বংশানুক্রমিক কিডনি রোগ ৩-৫%।
  • ওষুধজনিত কিডনি রোগ ৩-৫%।
  • অন্যান্য ও অজানা।

এবার আসুন জেনে নেই কিডনি নস্ট হবার উপসর্গ বা লক্ষণ

আমরা জানি যে, দুটো কিডনির শতকরা পঁচাত্তর ভাগ কার্যকারিতা নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কিডনি বিকলের উপসর্গ দেখা যায় না। রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য ধরনের কিডনি রোগ থাকার দরুন গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। শতকরা ৭৫ ভাগের উপর কিডনি অকেজো হয়ে গেলে রোগীর ক্ষুধা মন্দা, আহারে অনীহা, বমি বমি ভাগ, বমি হওয়া, শরীর ক্রমান্বয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। এছাড়াও প্রস্রাবের পরিমাণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, রাতে প্রস্রাব করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কোনো রকম চর্মরোগের উপসর্গ ছাড়াই শরীর চুলকায়, যখন তখন হেচকি ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে খিঁচুনি হতে পারে। রোগী শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট, তীব্র গতিতে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, ঝিমানো ভাব, এমনকি এক পর্যায়ে রোগী জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারে।
রোগীকে পরীক্ষা করে রক্তের স্বল্পতা বোঝা যায়। অধিকাংশ রোগীর উচ্চরক্তচাপ (Hypertention) ধরা পড়ে। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর কারণ সাপেক্ষে শরীরে পানি দেখা যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চামড়া শুকিয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু রোগীর হৃিপণ্ডের আবরণে পানি এবং হার্ট ফেইলুরের চিহ্ন দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের এমন কি হাত-পায়ের মাংসপেশী শুকিয়ে যায় যার দরুন রোগী সাধারণত চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

এই সমস্যায় আপনি লোকল কোন হোমিও ডাক্তারের কাছে না গিয়ে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের কাছে যাবেন। কারন ঠিক ঠাক ভাবে হোমিও চিকিৎসা নেয়া হলে আপনি অবশ্যই সুফল পাবেন ইনশাল্লাহ।
বিস্তারিত

Monday, November 19, 2018

গ্যাস্ট্রিক আলসার - কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়

আলসার হয় পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালের স্তরে। আরো হয় অন্ত্রনালীর এক অংশে যাকে বলা হয় 'স্মল ইনটেস্টাইন'। পাকস্থলীতে আলসার হলো পেপটিক আলসারের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ। পাচক রস থেকে পাকস্থলীকে রক্ষায় পাতলা শ্লেষ্মার যে স্তর থাকে, তা হ্রাস পেলে দেখা দেয় আলসার। এর পরিমাণ কমে গেলে পাচক রস পাকস্থলীর দেয়াল খেয়ে ফেলতে থাকে।

সাদারণত দুই ধরনের আলসার দেখা যায়। পাকস্থলী এবং অয়েসোফাগাস আলসার। দুটোর আবির্ভাব ঘটে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। অফেসোফাগাস সচরাচর দেখা যায় না। এটি হয় বেশি বেশি অ্যালোকোহল সেবনে। অন্যদিকে, এলোমেলো জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে দেখা দেয় পাকস্থলীর আলসার।

আলসারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি লক্ষণ স্পষ্টভাবে জড়িত। প্রধান লক্ষণটি হলো বুক ও নাভীমূলের মধ্যে ব্যথা হওয়া। আরেকটি বড় লক্ষণ হলো রক্ত বমি হওয়া। এই ব্যথা কিন্তু অ্যান্টাসিডের মতো ওষুধ খেলে আরো বেড়ে যায়।

অনেক কারণে আলসার দেখা দেয়। ব্যাকটেরিয়া আছে যাকে দেখা যায় পাকস্থলির শ্লেষ্মার স্তরে। এরা স্মল ইনটেস্টাইনেরও থাকে। ব্যথা উপশমে নিয়মিত ওষুধ খেলে বাড়তি ঝুঁকি দেখা যায়। এ সময় ধূমপান, অ্যালোকোহল সেবন এবং মসলাদার খাবার খেলে আরো বেশি সমস্যা দানা বাঁধে। পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে প্রদাহ দেখা দেয়। এই অতি পরিচিত রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো জেনে নেওয়া যাক।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের সাধারণ কারণ

  • হেলিকোবেকটার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া আলসারের কারণ হতে পারে। পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই সংক্রমণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। চুমু, খাবার বা পানি আদান-প্রদানের কারণে এমনটা হয়।
  • নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার জন্যে একই ঘটনা ঘটে। ননস্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি ওষুধ (এনএসএআইডি) পাকস্থলী এবং স্মল ইনটেস্টাইনে প্রদাহের কারণ হয়। বয়স্কদের মধ্যে পেপটিক আলসার অনেক বেশি দেখা যায় অতিমাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার কারণে।
  • অন্যান্য ওষুধের কারণে আলসার দেখা দেয়। স্টেরয়েড, অ্যান্টিকগুলান্ট, কমমাত্রার অ্যাসপিরিন খেলে আলসার হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণ

আলসার যাদের রয়েছে বা হতে চলেছে তারা চোখ-কান খোলা রাখলে লক্ষণগুলো বুঝতে পারবেন। খেয়াল রাখুন-
  • পেটের ওপর ও মাঝামাঝি অংশে ব্যথা হবে। মনে হবে যেন পুড়ে যাচ্ছে। কেবলমাত্রা এন্টাসিড খেলেই এই ব্যথা থেকে মুক্তি মেলে।
  • খাওয়ার পর আলসারের ব্যথা নির্ভর করে ঠিক কোন স্থানে রোগ হয়েছে তার ওপর। গ্যাস্ট্রিক আলসার হলে খাওয়ার পর পরই পেটে ব্যথা বাড়তে পারে। আর ডুয়োডেনাল আলসার হলে পেটের ব্যথা বাড়ে খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর।
  • খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেটে ব্যথা শুরু হয়। এটা আলসারের লক্ষণ।
  • ক্রমাগত ঢেঁকুর ওঠা এবং বমি ভাব আসা।
  • অবসাদ ভাব ঘিরে ধরে। সাধারণত বমির আগে দিয়ে এমনটা মনে হয়।

গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তির উপায় 

এই সমস্যা স্থায়ী ভাবে নির্মূল করার উন্নত মানের ঔষধ রয়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে। আপনি যদি এই বহুদিন যাবৎ গ্যাস্ট্রিক আলসার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে লোকাল কোন হোমিও ডাক্তারের কাছে না গিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে চিকিৎসা নিন। ইনশাল্লাহ এই সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি লাভ করবেন।
বিস্তারিত

পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়

কোষ্ঠ অর্থ হচ্ছে মলাশয় আর কোষ্ঠকাঠিন্য অর্থ হচ্ছে মলাশয়ের মল ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া বা মলে কাঠিন্যহেতু মলত্যাগে কষ্টবোধ হওয়া। যথেষ্ট পরিমাণ আঁশজাতীয় বা সেলুলোজ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরও যদি সপ্তাহে তিন বারের কম স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মলত্যাগ হয়, তবে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ভালোভাবে জীবনযাপন করাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শৌচাগারে লম্বা সময় কাটিয়েও অনেক ক্ষেত্রে মল পরিষ্কার হয় না। অনেকে তো কোষ্ঠকাঠিন্যের ভয়ে নানা ধরনের খাবার খাওয়াও ছেড়ে দেন। হয় তো আপনিও এই সমস্যায় ভুগছেন।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

  • বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ অজানা
  • সুষম খাবার, আঁশজাতীয় খাবার কম খাওয়া
  • পানি কম পান করা
  • শর্করা বা আমিষ যুক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া
  • ফাস্টফুড, মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া
  • সময়মত খাবার না খাওয়া
  • কায়িক পরিশ্রম কম করা
  • দুশ্চিন্তা করা
  • বিভিন্ন রোগ, যেমনঃ ডায়াবেটিস, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা টিউমার, থাইরয়েডের সমস্যা, অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার, কাঁপুনিজনিত রোগ, স্নায়ু রজ্জুতে আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ইত্যাদি হওয়া
  • দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা
  • বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, যেমনঃ ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ, পেট ব্যথার ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, পেপ্টিক আলসার এর ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ সেবন করা
পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ/উপসর্গ কি কি?

  • স্বাভাবিক এর চেয়ে কম সংখ্যকবার মলত্যাগ করা
  • ছোট, শুষ্ক, শক্ত পায়খানা হওয়া
  • মল ত্যাগে অত্যন্ত কষ্ট হওয়া
  • পায়খানা করতে অধিক সময় লাগা
  • পায়খানা করতে অধিক চাপের দরকার হওয়া
  • অধিক সময় ধরে পায়খানা করার পরও পূর্ণতার অনুভূতি না আসা
  • পেট ফুলে থাকা
  • আঙুল, সাপোজিটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমের সাহায্যে পায়খানা করা
  • মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথার অনুভব হওয়া
  • মলদ্বারে চাপের অনুভূতি হওয়া।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করা না হলে কি কি অসুবিধা হতে পারে?

  • অর্শ বা পাইলস হওয়া
  • এনাল ফিশার বা মলদ্বারে আলসার হওয়া
  • রেকটাল প্রোলেপস বা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা
  • পায়খানা ধরে রাখতে না পারা
  • খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লাগা
  • প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া
  • খাদ্যনালীতে আলসার বা ঘা, এমনকি পারফোরেশন বা ছিদ্র হওয়া ।
এই সমস্যা স্থায়ী ভাবে নির্মূল করার উন্নত মানের ঔষধ রয়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে। আপনি যদি এই বহুদিন যাবৎ কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে লোকাল কোন হোমিও ডাক্তারের কাছে না গিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে চিকিৎসা নিন। ইনশাল্লাহ এই সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি লাভ করবেন।
বিস্তারিত