Friday, November 9, 2018

আইবিএস রোগীর খাবার ও IBS থেকে মুক্তির স্থায়ী উপায় (প্রাকৃতিক হোমিও চিকিৎসা)

আইবিএস (IBS) রোগীর খাবার: Irritable Bowel Syndrom (IBS) বা মানসিক অস্থিরতাজনিত আমাশয় রোগ। এ রোগের কোনো স্বীকৃত কারণ পাওয়া যায়নি। তাই একে Functional disorder বলা হয়। Irritable Bowel Syndrome (IBS) বা আই.বি.এস একটি সাধারন রোগ যা বৃহদান্ত্রের ফাংশনাল লক্ষণ সমূহের সমষ্টি। ফাংশনাল মানে হলো যার কোন গঠনগত ক্রটি নাই। কিন্তু কার্যকারিতায় ক্রটি রয়েছে। বিস্তারিত ভিটিওতে দেখুন-

আইবিএস এর লক্ষণ সমূহ

পেটে ব্যাথা,খাবার পর অস্বস্থি বোধ,পেট ফেঁপে যাওয়া,মলের সমস্যা,ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য — সাথে আরো কিছু সাধারণ লক্ষণ থাকতে পারে:
  • দূর্বলতা,মাথাব্যাথা,বমি বমি ভাব ইত্যাদি ,কারো কারো স্বল্প লক্ষণ থাকে, কারো কারে তীব্র লক্ষণ দেখাদেয়।
  • আইবিএস-এর যে উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়, সেগুলো হল—পেটে ব্যথা, পেট কামড়ানো—পায়খানা করলে কষ্ট কমে,পায়খানায় পরিবর্তন—ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনও দুই-ই পেট ফাঁপা পেটে বেশি গ্যাস হওয়া, বেশি বাতকর্ম হওয়া,হঠাৎ করে শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা, যেতে তর সয় না,পায়খানা করে আসার পরপর-ই আবার পায়খানা পাওয়া,পায়খানা করে পেট পরিষ্কার হল না—এমন মনে হওয়া,মলদ্বার দিয়ে আম যাওয়া।আইবিএস-এর জন্য যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তার জন্য রোগী অনেক সময় অবসাদ বা উদ্বেগে ভোগেন।

আইবিএস-এর প্রধানত তিনটে ধরন

  • ডায়রিয়া প্রধান আইবিএস
  • কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান আইবিএস। ডায়রিয়া-কোষ্ঠকাঠিন্য মিশ্র আইবিএস
সব সময় যে একজন একই ধরনের উপসর্গে ভুগবেন এমন না নয়, উপসর্গ বদলাতে পারে, এমনও হতে পারে যখন দীর্ঘ সময় ধরে কোন উপসর্গ নেই বা অল্প উপসর্গ আছে।
যে উপসর্গ থাকলে অবহেলা করা উচিত হবে না আইবিএস-এর মতো উপসর্গের সঙ্গে যদি নিচের উপসর্গগুলো থাকে তাহলে হয়ত আইবিএস নয়, অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা রয়েছেঃওজন কমছে, অথচ কারণ বোঝা যাচ্ছে না,পেটে বা মলদ্বারের কাছে কোনও ফোলা,মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া,রক্তাল্পতা 

কেন হয় এমন রোগ?

  • প্রথমত, আপনার পূর্বপুরুষদের মধ্যে যদি এমন রোগের ভুক্তভোগী থাকেন, তবে সেক্ষেত্রে আপনার হবার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না, অর্থাৎ বংশগত কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • দ্বিতীয়ত, আপনাকে যদি অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্থতা বা দুশ্চিন্তা গ্রাস করে থাকে, তবে আপনার পেটের এই সমস্যা হতেই পারে।
  • তৃতীয়ত, গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনাল ইনফেকশান, যা কিনা জল, খাবার বা অন্য যেকোনো কারণে পেটের সংক্রমণ থেকে হয়ে থাকে, এ ধরনের ইনফেকশানজনিত কারণেও পেটের এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আইবিএস-এর উপসর্গ

দেখা গেছে নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও পানীয় উপসর্গ শুরু করতে পারে—তবে সবারই যে সব কিছুতে হবে এমন নয়। এগুলো হলঃএ্যালকোহল,ঠান্ডা পানীয় (যেগুলোতে গ্যাস মেশানো থাকে),চকোলেট,চা-কফি-কোলার মতো কেফিন-যুক্ত পানীয়,প্যাকেটের জলখাবার—বিস্কুট বা মুচমুচে।বেশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার,ভাজা খাবার। আইবিএস-এর রোগী যদি খাবার-দাবারের ডায়েরি রাখেন, তাহলে কোন খাবারে উপসর্গ হচ্ছে বুঝতে সুবিধা হয়।এছাড়া আগেই বলেছি মানসিক চাপও আইবিএস-এর উপসর্গ শুরু করতে পারে। তাই মানসিক চাপ কমানোও আইবিএস-এর চিকিৎসার মধ্যে অন্যতম।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? 

যদি আপনার মনে হয় আইবিএস হচ্ছে, তাহলে ডাক্তার দেখানো উচিত। ডাক্তার দেখে নেবেন আপনার অন্ত্রে কোন জীবানু-সংক্রমণ আছে কিনা, সিলিয়াক ডিজিজ কিনা (যে রোগে রোগী গ্লুটেন সহ্য করতে পারেন না) বা খাদ্যনালিতে কোনও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ আছে কিনা। তবে এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের কাছে যাবেন কারণ এর একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এলোপ্যাথিতে এর কোন চিকিৎসা নেই তাই এলোপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে এই রোগ নিয়ে যাওয়া অর্থহীন। 

আইবিএস আক্রান্ত রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • সারাদিনে বারে বারে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • রাতের বেলায় অবশ্যই হালকা খাবার খাবেন।
  • বারে বারে অল্প অল্প করে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে বেশি বেশি ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
  • পেট ভরে কোনো খাবার খাবেন না, সাথে চেষ্টা করুন খাবার গ্রহণের মাঝে পানি না পান করে খাবার গ্রহণের আগে এক গ্লাস পানি পান করতে। এতে পেট কিছুটা পানি দ্বারা ভর্তি হয়ে থাকবে এবং খাবার হজমেও সাহায্য করবে।
  • খাবারের তালিকায় মাছ, মুরগি, সালাদ, আলু, ভুট্টা, সাইট্রাস জাতীয় ফল- এগুলো রাখার চেষ্টা করুন।
  • রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • আইবিএস রোগের সাথে জ্বর, রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ এসব লক্ষণ আইবিএস এর না হয়ে অন্য কোনো রোগেরও হতে পারে।

আইবিএস এর জন্য এড়িয়ে চলার জন্য খাবারের তালিকা

স্বাস্থ্যবিষয়ক মতে, অ্যালকোহল, ক্যাফেটেড পানীয় এবং কার্বনেটেড পানীয়গুলি প্রায়ই আইব্সের উপসর্গ দেখা দেয় যেমন পেট ব্যথা বা অস্বস্তি, ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।
আইবিএস রোগীর খাবার
আইসক্রিম এবং দুগ্ধ আইবিএস চালু করতে পারে। পনির, দুধ, আইসক্রিম এবং মাখনের মত ডেইরি পণ্যগুলি আইবিএস লক্ষণগুলি ব্যাহত করতে পারে। যারা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের মতো ল্যাকটোজ অশনাক্তকারী না, তাদের জন্যও দুগ্ধজাত দ্রব্যগুলি পেটে ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং অস্বস্তিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন ল্যাকটোজ, দুধ ফ্যাট, কেসিিন এবং ভাঁজ সমস্যাযুক্ত হতে পারে।

চকলেট অন্ত্র জ্বালিয়ে দিতে পারে। হার্ড চকোলেটের চর্বি এবং ক্যাফিনে উপসর্গ সংকোচনের কারণ হতে পারে, যা ব্যথা এবং অস্বস্তিতে পরিণত হয়। হেল্পফরিআইবিসের মতে কমবয়সী, কোকো পাউডার আইবিএস রোগীদের জন্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমে আরো বেশি সহনীয় হতে পারে কারণ এটি চর্বিহীন। রেসিপি মধ্যে হার্ড চকলেট জন্য কোকো পাউডার বিকল্প।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মত উচ্চ চর্বি খাদ্য এড়ানো উচিত। সব ফ্যাট কোলোনিক সংকোচনকে উত্তেজিত করে যা বেদনাদায়ক পেটে ক্রাম্পিং হতে পারে। আমেরিকান কলেজ অফ গ্যাস্ট্রোন্টারোলজি অনুযায়ী, আইবিএস রোগীদের উচ্চ চর্বিযুক্ত ও নিম্ন ফাইবার খাবারের জন্য উচ্চ ফাইবার খাবারের বিকল্প হওয়া উচিত। চর্বিযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে মাংস, হাঁস চামড়া, বাদাম, আভাকাডোস, শর্টেনিং, মার্জারিন, মটর, পনির, ক্রিম, পুরো দুধ, উদ্ভিজ্জ তেল, গভীর ভাজা খাবার, অনেক ক্যান্ডি, আইসক্রিম এবং চকলেট।

পাস্তা থেকে এড়ানো উচিত,কিছু শর্করার এবং চিনিযুক্ত বিকল্পগুলি পেটে চাপ, ফুসকুড়ি, গ্যাস এবং অন্যান্য অন্ত্রবিহীন অসুখের কারণ হতে পারে। মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের মেডিকেল পেশাজীবীরা সাদা চাল, পেস্তা, সাদা রুটি এবং সাদা ময়দার মতো সুশৃঙ্খল কার্বোহাইড্রেটগুলি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, যা শরীরের চিনিতে রূপান্তর করে।কিছু মানুষ চিনির বিকল্প ম্যানিনিটোল এবং সেরিবটোলের সাথেও সমস্যা হতে পারে। আইওয়া হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে ফ্রুকটাস বিশেষ করে সমস্যাযুক্ত হতে পারে।

মাশরুম এড়িয়ে চলুন, জুরিটি খালি আছে কি না তা আইবিএস এর উপসর্গের কারণ। আপনার শরীর অন্যের চেয়ে ভিন্ন, তাই আপনি যে খামির আপনার জন্য একটি সমস্যা হতে পারে, কিন্তু IBS সঙ্গে অন্যদের জন্য না। আগস্ট ২005 সালের "গুট" এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি খামির আইবিএস এর জন্য একটি ট্রিগার। খামারে আন্ডারগ্রাউন্ড, বা ক্যানডিডা, আইবিএস লক্ষণগুলি দেখাতে পারে। খামির মধ্যে- এবং ছাঁচ উত্পাদনকারী খাদ্যগুলি এড়ানো হয় খামিরবিহীন রুটি, মদ, বিয়ার, মাশরুম, চিজ এবং শুকনো ফল। চিনি এবং পরিশ্রুত কার্বোহাইড্রেটগুলিও খিদে দেয় এবং আইবিএসকে উত্তেজিত করে। "বিএমসি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি" এর 2012 বিষয়টি ব্যাখ্যা করে যে যখন আপনি খামির এলার্জি হতে পারে না, আপনি এটির প্রতি সংবেদনশীল হতে পারেন।

আলু চিপস ময়দার আঠা থাকতে পারে। কিছু লোক দেখায় যে গম এড়িয়ে যাওয়া আইবিএসের উপসর্গ উন্নত করে। অন্যরা দেখায় যে তারা সব গ্লুটেনজাত দ্রব্যকে বাদ দিতে হবে, যার মধ্যে গম, বার্লি, রাই, বানানো এবং কখনও কখনও ওট। যদি আপনি গ্লুটেন-ফ্রী যেতে চান, তবে সিলেইস ডায়েটিং করার পরে সাহায্য করতে পারেন। যেহেতু গম এবং গ্লুট্যান অনেক পণ্য পাওয়া যায়, তাই লেবেলগুলি পড়তে গুরুত্বপূর্ণ। গ্লুটেন এবং গম স্যুপ, সসেজ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, হিমায়িত খাবার এবং আলু চিপগুলিতে পাওয়া যায়।

তাজা ফল এবং সবজি খান। পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টারের ইউনিভার্সিটি অনুযায়ী, কিছু ওষুধ, মটরশুটি ও মটরশুটি, সেইসাথে তাজা ফল যেমন দ্রবণযুক্ত ফাইবারের মধ্যে উচ্চ হয় এবং যদি যোগ করা হয় তবে অন্ত্রে জ্বালামতে পারে খুব দ্রুত ডায়াবেটিস লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে গ্যাস, ব্লোটিং, ক্রাম্পিং বা ডায়রিয়া। যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, তবে প্রথমে ধনীভাবে আপনার খাদ্যের কাঁচামাল চাষের আগে রান্না করা ফল ও সবজি চেষ্টা করুন।

আইবিএস রোগীর খাবার ও IBS থেকে মুক্তির স্থায়ী উপায় (প্রাকৃতিক হোমিও চিকিৎসা) ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
আইবিএস (IBS) রোগীর খাবার: Irritable Bowel Syndrom (IBS) বা মানসিক অস্থিরতাজনিত আমাশয় রোগ। এ রোগের কোনো স্বীকৃত কারণ পাওয়া যায়নি। তাই এক...

ডাঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (মডেল হোমিও ফার্মেসি। যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।)

যৌনসমস্যা (দ্রুত বীর্যপাত, হস্তমৈথুন অভ্যাস, লিঙ্গ নিস্তেজ, যৌন দুর্বলতা, পুরুষত্বহীনতা, ধ্বজভঙ্গ, হাইড্রোসিল, ভেরিকোসিল, সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি) স্ত্রীরোগ (ডিম্বাশয়ে টিউমার, সিস্ট, ব্রেস্ট টিউমার, জরায়ুতে টিউমার, জরায়ু নিচে নেমে আসা, যোনিতে প্রদাহ, অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যাত্ব, অতিরিক্ত স্রাব ইত্যাদি), বাত ব্যথা, লিভার, কিডনি, আইবিএস, পুরাতন আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, পাইলস বা অর্শ, গেজ, ভগন্দর ইত্যাদি রোগের অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক।

কথা বলুন (সরাসরি ডাক্তার) : ০১৯২৪-০৪১৮৯৬ এবং ০১৭৮৯-১৪৪৩৭১
আপনার যেকোন স্বাস্থ সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে যোগাযোগ করুন।