Showing posts with label অন্যান্য বিষয়. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য বিষয়. Show all posts

Monday, September 3, 2018

বারবার চা ফুটিয়ে খাওয়া কি ক্ষতিকর? ফুটপাতের চা কতটা ক্ষতিকর ?

তরুণ থেকে বৃদ্ধ চা পছন্দ সবারই। শরীরের ক্লান্তি দূর করে সতেজ রাখতে চায়ের জুড়ি নেই। অফিস বা বাড়িতে দিনের মধ্যে কয়েকবারই খাওয়া হয় চা। কিন্তু একবার বানিয়ে বারবার তা ফুটিয়ে খাওয়া যাবে না। সেটা দুধ চা হোক বা চা পাতা দেয়া রঙ চা। কারণে না জেনে আমরা গরম করে যে চা খাই তা শরীরের জন্য খারাপ। তাছাড়া ফুটপাতের চা কতটা ক্ষতিকর জানলে বুক কেঁপে উঠবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, চায়ের মধ্যে ক্যাফেইন এবং ট্যানিক অ্যাসিড থাকে। চা পাতা বারবার ফোটানো হলে সেগুলোর মাত্রা বাড়ে। হজমের সমস্যা, বমিভাব, মাথাব্যথা বাড়ে এমন চা খেলে। এমন কি ক্যাফেইনের কারণে হৃৎস্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে ক্লান্তি বাড়ে।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট চিকিৎসকদের মতে, একাধিক বার ফোটানো চা খুবই অস্বাস্থ্যকর। চায়ের মধ্যে কিছু উপকারি উপাদান থাকে যা বারবার ফোটানো হলে সেগুলো নষ্ট তো হয়ই, শরীরেরও হয় ক্ষতি। এতে করে গ্যাসের সমস্যাও বাড়ে।

ফুটপাতের চা কতটা ক্ষতিকর জানলে বুক কেঁপে উঠবে

চায়ের দোকানে দেখা যায় চা বিক্রেতা চা বারবার ফুটিয়ে থাকেন। ঝামেলা কমানোর জন্য একবারে অনেকটা চা করেন। পরবর্তী তা বারবার ফুটিয়ে ক্রেতাকে দিয়ে থাকেন। কিন্তু এভাবে তৈরি চা পান করলে শরীরে বিশাল ক্ষতি হয়। যা কেউ হয়তো না জানার কারণে দোকানে চা খেয়ে থাকেন। তাই দোকানে চা খেতে সবাই সাবধান হতে হবে। বারবার ফোটানো চা পান করলে কী ক্ষতি হয় এবং সেই সংক্রান্ত কিছু সতর্কতা সবার জেনে রাখা উচিত।
ক্ষতিকর বিষয় গুলো হল:
  • খাদ্য গবেষকরা মনে করেন, বারবার
  • গরম করা চা পান করলে খাদ্যনালীতে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। দুই মিনিটের বেশি সময় ধরে চা গরম করা হলে চায়ে থাকা ক্যাফিন ও ট্যানিন দুটোই নষ্ট হয়ে যায়।
  • একই চা বারবার ফোটালে পাতায় মিশে থাকা কীটনাশক চায়ের মধ্যে দ্রবীভূত হতে শুরু করে। চায়ের মাধ্যমে তা শরীরে প্রবেশ করে।
  • চা ও দুধের মধ্যে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাস থাকে, যা গরম করলে বৃদ্ধি পায়। ব্যাকটেরিয়াযুক্ত চা দীর্ঘদিন খেলে চোখের গ্লুকোমায়, স্নায়ুতে প্রভাব ফেলে। এতে স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।
  • চায়ের মধ্যে থাকে উপকারী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যাথেচিন। দুধে থাকে কেসিন জাতীয় প্রোটিন। দুধ মিশিয়ে চা বারবার গরম করলে ক্যাথেচিন ও কেসিন মিশে গিয়ে চায়ের উপকারিতা নষ্ট করে।

চা পান করার সময় যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকবেন

  • বারবার একই চায়ের পাতা দিয়ে তৈরি করা চা পান নয়।
  • এক থেকে দেড় মিনিটের বেশি চা ফোটানো চলবে না।
  • প্লাস্টিকের কাপে গরম চা একদমই খাওয়া যাবে না।
  • অল্প গরম চা পান করলে পেটের সমস্যা, গ্যাস ও আলসারের সমস্যা নিরাময় সম্ভব।
  • বারবার ফোটানো গরম চা পান করলে দীর্ঘদিন ধরে ঘুম না হওয়ার সমস্যা হয়।
  • খালিপেটে কখনও চা পান করতে নেই। খাবার খাওয়ার ২০-২৫ মিনিট আগে থেকে চা পান করবেন না। এতে বদ হজম হয়।
  • কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা পরে চা খাওয়া যাবে না। চায়ে থাকা ট্যানিন ওষুধের গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়।
বিস্তারিত

Sunday, April 15, 2018

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছেন? একবার খাওয়ার আগে ১০ বার ভাবুন কি খাচ্ছেন ?

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছেন- গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কম-বেশি সবারই হয়। গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণগুলো হল পেটে জ্বালা-পোড়া করা, বদহজম, বমি বমি ভাব, বমি করা, পেটে ক্ষুধা, ক্ষুধা হ্রাস পাওয়া, খাওয়ার পর উপরের পেট বেশি ভরে গিয়েছে অনুভূতি হওয়া ইত্যাদি।

খাবার সময়মতো খাওয়া হয়না, বাইরের ভাজা-পোড়া বেশি খাওয়া, জাঙ্কফুড খাওয়া, পরিমাণ মতো পানি না খাওয়া ইত্যাদি কারণে গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা দেখা দেয়।

পেটে জ্বালা-পোড়া করা, বুক ও গলা জ্বালাপোড়া বা পেটে গ্যাসের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এলোপ্যাথিক গ্যাস্ট্রিকের ধরনের ওষুধ সেবনে আমাদের কিডনিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করলেন গবেষকরা। কারণ এটা সবারই জানা যে - এমন কোন এলোপ্যাথিক ঔষধ নেই যার কোন না কোন সাইড ইফেক্ট নেই।

গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস (পিপিআইএস) জাতীয় ওষুধ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ তৈরি করে। নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক প্রদীপ আরোরা ও তার গবেষক দল ৭১ হাজার ৫১৬ রোগীর পরীক্ষা করেন, যাদের মধ্যে ২৪ হাজার ১৪৯ জন দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত।

এসব রোগীর মধ্যে ২৫ শতাংশ পিপিআইএস জাতীয় ওষুধ সেবন করেছেন। পিপিআই জাতীয় ওষুধ ব্যবহারকারী মধ্যে ১০ শতাংশের কিডনি রোগীর ঝুঁকি বাড়ায় এবং ৭৬ শতাংশের ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

প্রদীপ অরোরা বলেন, রোগীদের বৃহৎ একটা অংশ পিপিআইএস জাতীয় ওষুধ সেবন করেন। যারা স্বাস্থ্য সেবা দেন তাদের এই জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা উচিৎ।

একটি পানীয় যদি অনেকগুলো স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করে, তবে কেমন হয়? ভাবছেন এটি কী করে সম্ভব? এটি সম্ভব, একটি পানীয় রক্তচাপ হ্রাস করবে, ডায়াবেটিস কমিয়ে দেবে এমনকি এই একটি পানীয় শরীরে ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করবে! এটি দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে।
একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার নিন। এর সাথে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ বিশুদ্ধ মধু এবং ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টের সাথে এক গ্লাস জল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার পান করুন
এছাড়া আপনি যদি দীর্ঘস্থায়ী কোন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট দিন। কারণ হোমিওতে সকল প্রকার গ্যাস্ট্রিকের পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন উন্নত চিকিৎসা রয়েছে যা এলোপ্যাথি ডাক্তাররা কল্পনাও করতে পারে না। কারণ এলোপ্যাথি আপনাকে সারা জীবন গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়াবে - কিন্তু আপনার রোগ নির্মূল করতে পারবে না। অর্থাৎ সারা জীবনই তারা আপনার পকেট কাটবে। আর আপনি হয়তো ভেবে বসে আছেন এটিই হলো একমাত্র চিকিৎসা। আপনার জানা উচিত বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১৫০টিরও বেশি চিকিৎসা পদ্ধতি >>> রয়েছে। অর্থাৎ সব রোগেরই সুচিকিৎসা রয়েছে আপনাকে শুধু খুঁজে বের করতে হবে - কোনটি আপনার রোগ সারাতে স্থায়ী ফল দিবে। 
বিস্তারিত

Sunday, February 25, 2018

অ্যাসিডিটির ১২টি ঘরোয়া চিকিৎসা - কাজে লাগতে পারে আপনারাও

পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ড থেকে যখন অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরিত হয় তখনই মূলত অ্যাসিডিটি তৈরি হয়। এর ফলে পেটে গ্যাস উৎপাদন, দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস, পেট ব্যথা এবং আরো অনেক লক্ষণ দেখা যায়।

সাধারণত খাবার গ্রহণে অনিয়ম, না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত চা, কফি পান বা ধূমপান ও মদপানের কারণে অ্যাসিডিটি হয়। এর ফলে বুকে জ্বালাপোড়া এবং খাবার খাওয়ার সময় গলা দিয়ে অ্যাসিড উদগীরণের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এখানে রইল অ্যাসিডিটির সহজ ১২টি ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির বিবরণঃ

১. তুলসী পাতাঃ এই পাতার শীতল এবং বায়ুনাশকারী উপাদান আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাসিডিটির ফলে সৃষ্ট যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে। অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকটি তুলসী পাতা খেয়ে নিন। অথবা ৩-৪টি তুলসী পাতা এক কাপ গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং কয়েক মিনিট ধরে সেদ্ধ হতে দিন। এরপর পানিটুকু চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেলুন।
২. ফিনেল টিঃ প্রতিবেলা খাবার গ্রহণের পর অ্যাসিডিটি থেকে রেহাই পেতে ফিনেল চা বীজ চিবিয়ে খেতে পারেন। ফিনেল চা বদহজম এবং পেট ফাঁপার চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফিনেল বীজের নির্যাস থেকে যে তেল বের হয় তা এ ক্ষেত্রে খুবই উপকারী।

৩. দারুচিনিঃ এই নম্র মসলাটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে। এটি হজম প্রক্রিয়া ও শোষণক্রিয়া শক্তিশালী করে পাকস্থলীর সমস্যা দূর করবে। পাকস্থলীর নালীগুলোর ইনফেকশন থেকে মুক্তি পেতে দারুচিনির চা পান করুন।

৪. মাখন তোলা দুধ বা ঘোলঃ ভারী বা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অ্যান্টাসিড না খেয়ে বরং একগ্লাস ঘোল পান করুন। এতে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা পাকস্থলীর অ্যাসিডিটিকে স্বাভাবিক করে আনে। এর সঙ্গে কয়েকটি গোল মরিচ বা ১ চা চামচ ধনে পাতা মিশিয়ে দিলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৫. গুড়ঃ খাবারের পর বুড়োরা কেন গুড় খান তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? গুড়ে রয়েছে উচ্চমাত্রার ম্যাগনেশিয়াম উপাদান যা পাকস্থলীর কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করে। এটি হজম প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করে। আর হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করার মাধ্যমে পাকস্থলীকে অ্যাসিড মুক্ত করে। এ ছাড়া দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা এবং পাকস্থলীকে ঠাণ্ডা করার কাজও করে গুড়।

৬. লবঙ্গঃ লবঙ্গ হজমজনিত বিশৃঙ্খলার চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা শাস্ত্র এবং আয়র্বেদ শাস্ত্রে লবঙ্গের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। লবঙ্গ বায়ুনাশকারী। ফলে এটি পাকস্থলীতে গ্যাস নির্গমণে বাধা দেয়। লবঙ্গ ও এলাচ গুঁড়া খেলে নিশ্বাসের দুর্গন্ধও দূর হয়।

৭. জিরা বীজঃ জিরা বীজ অ্যাসিড প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে। হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক এবং পাকস্থলীর ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। ভাজা জিরা বীজ চূর্ণ করে এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে অথবা এক কাপ সেদ্ধ পানিতে ১ চা চামচ জিরা বীজ মিশিয়ে প্রতিবেলা খাবারের পর পান করুন।

৮. আদাঃ আদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হজমে সহায়ক এবং প্রদাহরোধী উপাদান। পাকস্থলীর অ্যাসিড দূরীকরণে এক ফালি তাজা আদা চিবিয়ে খান। অথবা প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার এক চামচ করে আদার রস খান। অথবা এককাপ ফুটন্ত পানিতে তাজা আদা সেদ্ধ করে পানিটুকু পান করুন।

৯. ঠাণ্ডা দুধঃ ল্যাকটোজ গ্রহণে যাদের কোনো সমস্যা হয় না তাদের পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড দূর করতে দুধ খুবই কার্যকর ভুমিকা পালন করতে পারে। দুধ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। যা পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরিতে বাধা দেয়। সুতরাং পরেরবার অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হলে একগ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করুন।

১০. আপেল সুরা ভিনেগারঃ অনেক সময় পাকস্থলীতে স্বল্প অ্যাসিডিটির ফলেও সমস্যা দেখা দেয়। আর এ ক্ষেত্রে আপেলের সুরা থেকে তৈরি ভিনেগার কাজে লাগে। ১-২ চা চামচ অপরিশোধিত এবং অপরিশুদ্ধ আপেল সুরা ভিনেগার এক কাপ পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার বা দুইবার পান করুন। এ ছাড়া এক টেবিল চামচ আপেল সুরা ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে পান করতে পারেন।

১১. নারকেলের পানিঃ নারকেলের পানি দেহে পিএইচ অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে আনে। এ ছাড়া নারকেলের পানি পাকস্থলীতে শ্লেষ্মা তৈরিতেও কাজ করে। শ্লেষ্মা পাকস্থলীকে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। আর এটি আঁশসমৃদ্ধ হওয়ার কারণে হজম প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করে এবং পুনরায় অ্যাসিডিটির হাত থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে।

১২. কলাঃ কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড। অ্যাসিডিটি থেকে রেহাই পেতে এটি সবচেয়ে সহজ ঘরোয়া টোটকা। প্রতিদিনি অন্তত একটি কলা খান। তাহলে অ্যাসিডিটির কুপ্রভাব থেকে রেহাই পাবেন।
বিস্তারিত

Thursday, February 8, 2018

কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে লেবুর রস - জানেন কি ?

কিডনির ভিতরে ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের মত পদার্থ তৈরি হলে তাকে কিডনি পাথর বলা হয়। এই ক্রিস্টালের মত পদার্থ গুলো একত্রিত হয় এবং বৃদ্ধি পেয়ে পাথর তৈরি হয়। কিডনির ভিতরের এই পাথর গুলো নীচের দিকে অর্থাৎ মূত্র নালীর মাধ্যমে মূত্র থলিতে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাথর যখন সংকীর্ণ নালীর মধ্য দিয়ে যায় তখন প্রচণ্ড ব্যাথা হয় এবং কখনো কখনো নালীটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। চার ধরণের কিডনি স্টোন হতে পারে। এক প্রকার কিডনি পাথর বংশানুক্রমে হয়। অন্য তিন প্রকার কিডনি স্টোন যা ৮০% হয় ক্যালসিয়াম ভিত্তিক।

গত ৩০ বছরে কিডনি পাথরের সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে চরমে। কিন্তু কেন সেটা অজানাই রয়ে গেছে। কিছু গবেষক মনে করেন যে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এই সমস্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হতে পারে, আবার কেউ কেউ মনে করেন সমস্যা নির্ণয় করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেও হতে পারে। কারণ যাই হোকনা কেন, কিছু উপায়ে আপনি কিডনি পাথর প্রতিরোধ করতে পারেন এবং প্রাকৃতিক ভাবে এই পাথর গলানো ও সম্ভব।

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মুসুম্বি লেবু বা যে কোনও লেবু জাতীয় ফলের রস কিডনি স্টোন হওয়া থেকে আমাদের শরীরকে প্রতিরোধ করে।

লেবুর রসে hydroxycitrate (HCA) থাকে, যা আমাদের শরীরের ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল গলিয়ে দিতে সাহায্য করে। এই ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টালের কারণেই প্রধাণত আমাদের কিডনিতে পাথর হয়।

ইউনিভার্সিটি অফ হাউজটনের অধ্যাপক জেফ্রি রিমার জানিয়েছেন, মিনারেল জমে শক্ত হয়ে আমাদের কিডনিতে জমে যায়। একেই আমরা কিডনির পাথর বলে থাকি। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবিটিস, ওবেসিটি থেকে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যে কোনও লেবুর রস এই জমাট বাঁধা ক্যালসিয়াম গলিয়ে দিতে সাহায্য করে।

কিডনি ভালো রাখতে আরো যা যা করতে পারেন 

যদি আপনার পরিবারের কারো কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে তাহলে আপনার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একবার যাদের কিডনি পাথর হয়েছে তাদের পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাদের দীর্ঘ দিনের কিডনি রোগ আছে তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই কিডনিতে পাথর হতে পারে। কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ পানিশূন্যতা। এবার তাহলে জেনে নেই কিডনি পাথর প্রতিকারের উপায় গুলো সম্পর্কে।

১। প্রচুর পানি পান করুন:- আপনার কোন প্রকারের কিডনি পাথর হয়েছে সেটা কোন ব্যাপার নয়। যদি কোন ব্যাথা না হয় তাহলে আপনার ডাক্তার আপনাকে প্রচুর পানি পান করার পরামর্শ দিবেন। বেশি করে পানি পান করলে কিডনি পাথর বাহির হয়ে যাবে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করুন যাতে আপনার ইউরিন ক্লিয়ার হয়, কারণ স্বচ্ছ প্রস্রাব দেখে বুঝা যায় যে, আপনার শরীর হাইড্রেটেড আছে।

২। আপেল সাইডার ভিনেগার ও অলিভ ওয়েল:- এই উপাদান গুলো আপনার ঘরেই পাওয়া যাবে এবং কিডনি পাথর অপসারণের জন্য খুবই কার্যকরী। লেবুর রস ও অলিভ ওয়েল এর মিশ্রণ পেট ব্যাথার উপসর্গ কমাতে পারে। এই মিশ্রণটি খাওয়ার পরে ১২ আউন্স পানি পান করতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ০.৫ আউন্স লেবুর রস ও ১২ আউন্স পানি মিশ্রিত করুন। পান করার পূর্বে মিশ্রণটির মধ্যে ১ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশান। ব্যাথা কমার আগ পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় মিশ্রণ দুটি চক্রাকারে পান করুন।

৩। ডালিমের রস:- ডালিমের অপরিমেয় স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আলাদা ভাবে ডালিমের জুস ও এর বীজ কিডনি পাথরের জন্য শুদ্ধ প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা ডালিমের এসারবিক ও তিক্ততার জন্যই একে ব্যবহারের কথা বলেন। ভালো ফল পাওয়ার জন্য অরগানিক ডালিম বা তাজা ডালিমের জুস পান করুন।

৪। তরমুজ:- অন্য সবজীর চেয়ে তরমুজ পটাশিয়ামে ভরপুর থাকে। এবং এতে প্রচুর পানি থাকে বলে পানিশূন্যতা রোধ করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে ডাক্তার ও পুষ্টিবিদগণ তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন কারণ তরমুজ মূত্রবর্ধক এবং কিডনি পাথরের প্রতিকার করে।

৫। আঙ্গুর:- কিডনি পাথরের সবচেয়ে ভালো হোম থেরাপি হিসেবে গণ্য করা হয় আঙ্গুরকে। আঙ্গুর মূত্র বর্ধক এবং এতেও পটাশিয়াম থাকে পর্যাপ্ত পরিমানে। এতে অল্প পরিমাণ সোডিয়াম ক্লোরাইড ও অ্যালবুমিন থাকে যা কিডনি সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও ক্যাফেইন, চিনি ও অ্যালকোহল মুক্ত পানীয় যেমন- আদা চা, তুলসি চা, ফলের রস, গ্রিনটি পান করুন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি কিডনি পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। ডাক্তার ও পুষ্টিবিদগণ স্বাস্থ্যবান কিডনির জন্য ‘কিডনি বিন’ বা ‘শিমের বীচি’ খাওয়ার পরামর্শ দেন। এনার্জি ড্রিংক ও সোডা খাওয়া বাদ দিন। কিডনি পাথর অপসারণ হওয়া পর্যন্ত ক্যালসিয়াম অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার যেমন- বেরি জাতীয় ফল (স্ট্রবেরি), ইনস্ট্যান্ট কফি, চকলেট ও গাড় সবুজ শাক সবজি খাওয়া বাদ দিতে হবে।
বিস্তারিত