Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts

Sunday, May 20, 2018

রোযায় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনাকে যা যা খেতে হবে ?

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারণ এক সমস্যা হলেও এই সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের কাছে অত্যন্ত আতঙ্কের। কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ হল শরীরে ঠিক মতো হাইড্রেশন না হওয়া। আর তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা তরল প্রয়োজন। আর রোযায় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে পেটপুড়ে খেলে হজমের সময় নানা সমস্যা করে। ফলের মধ্যে প্রচুর পানি বা রস থাকার পাশাপাশি থাকে ফাইবারও। যা হজমে সাহায্য করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খেতে পারেন এসব জুস-

মুসাম্বির রস: পৌষ্টিকনালী থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে মুসাম্বির রস। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এই রস কাজে দেয়।

আনারসের রস: আনারসের মধ্যে থাকা উত্সেচক ব্রোমেলিন হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

তরমুজের রস: গরম কালে শরীরে ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাই এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। আবার গরম কালে প্রচুর তরমুজ ওঠে। তরমুজের রস এই সময় পেট ঠান্ডা রাখতে, হজমে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

লেবুর রস: লেবুতে থাকা ভিটামিন সি হজমে ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আপেলের রস: আপেলের মধ্যে সরবিটল যা শরীরে লাক্সেটিভের কাজ করে। আপেলে থাকা আয়রনও হজমে সাহায্য করে।

কমলার রস: ভিটামিন সি ও ফাইবারে পরিপূর্ণ কমলা লেবু। যা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

শশার রস:
শশার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। যা শরীরে ন্যাচারাল লাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে।
বিস্তারিত

Saturday, May 12, 2018

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে প্রতিদিন পান করুন লবঙ্গ চা

প্রাকৃতিক শক্তিতে ভরপুর এই বিশেষ চা-টি শুধু আপনার রসনা তৃপ্তি করবে না, সেই সঙ্গে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতেও নানাদিক থেকে প্রতিনিয়ত সাহায্য় করে যাবে। তাই তো বলি আর অপেক্ষা নয়, আজই বাজার থেকে লবঙ্গ কিনে এনে বানিয়ে ফেলুন এই হার্বাল চাটি। আর চেখে দেখুন কেমন লাগে! আসলে লবঙ্গের শরীরে উপস্থিত ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন...

সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়:  একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লবঙ্গ চা খাওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে দেহের প্রতিটি কোনায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কর্মক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে শরীরের সচলতাও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

রক্তে শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে:  গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগের প্রকোপ যে হারে বেড়েছে তাতে সবারই প্রতিদিন লবঙ্গ চা খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে থাকা নাইজেরিসিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমে:  লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ এই ধরনের হাড়ের রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এক কাপ লবঙ্গ চা বানিয়ে কয়েক ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। তারপর সেই ঠান্ডা চা ব্যথা জায়গায় কম করে ২০ মিনিট লাগালে দেখবেন যন্ত্রণা একেবারে কমে গেছে। প্রসঙ্গত, জয়েন্ট পেন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দাঁতের ব্যাথা কমায়:  লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। তাই তো এবার থেকে দাঁতে অস্বস্তি বা মাড়ি ফোলার মতো ঘটনা ঘটলে এক কাপ গরম গরম লবঙ্গ চা খেয়ে নেবেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:  একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত এক কাপ করে লবঙ্গ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরে অন্দরে অ্যান্টি-ক্যান্সার প্রপাটিজের পরিমাণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, শরীরের কোনও জায়গায় টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সাইনাসের প্রকোপ কমায়:  মাঝে মধ্য়েই কি সাইনাসের আক্রমণ সহ্য করতে হয়? তাহলে তো বলতে হয় এই প্রবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা। কারণ লবঙ্গ যে এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাজে আসতে পারে, সে বিষয়ে কি জানা ছিল? আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে উপস্থিত ইগুয়েনাল নামে একটি উপাদান সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আজও এই ধরনের অসুখের চিকিৎসায় লবঙ্গের উপরই ভরসা করে থাকেন।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:  লাঞ্চ বা ডিনারের আগে লবঙ্গ দিয়ে বানানো এক কাপ গরম গরম চা খেলে হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে পেটের দিকে রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটে। ফলে খাবার হজম হতে সময় লাগে না। তাই যাদের কম ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খেলেও বদ-হজম হয়, তারা লবঙ্গ চা পান করে একবার দেখতে পারেন। এমনটা করলে উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি।

ত্বকের সংক্রমণ সারাতে কাজে আসে:  এবার থেকে কোনও ধরনের ত্বকের সংক্রমণ হলেই চোখ বুজে ক্ষতস্থানে লবঙ্গ চা লাগাতে ভুলবেন না। এমনটা করলে দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারে সময়ই লাগবে না। আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণজনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না।

নিমেষে জ্বরের প্রকোপ কমায়:  লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে এবং ই, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে শরীরে উপস্থিত ভাইরাসেরা সব মারা পরে। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
বিস্তারিত

Sunday, April 15, 2018

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান, মৃত্যু ১৪৪ জনের! এতো জটিলতা কেন ?

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান। গত ১৩ বছরে বিশ্বব্যাপী রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মারা গেছে ১৪৪ জন এবং আহত হয়েছে এক হাজার ৩৯১। রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে নানা ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন ১০ হাজার অভিযোগ থেকে এ পরিসংখ্যানটি পাওয়া গেছে। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে গবেষণা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই ফলাফল তুলে ধরেছে।

সম্প্রতি ঢাকার একজন বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজির চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: মজিবুর রহমান ভূঁইয়া সিঙ্গাপুরে রোবোটিক সার্জারি করাতে গিয়ে মারা গেছেন। তিনি ইউরোলজি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। ঢাকার অনেক ইউরোলজিস্ট দৈনিক এ ধরনের অস্ত্রোপচার করে থাকেন সফলতার সাথে। মরহুম অধ্যাপক মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক মজিব অধিকতর সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের জন্য গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে রোবোটিক অস্ত্রোপচার করতে। কিন্তু রোবটের ভুল প্রগ্রামিংয়ের কারণে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মুজিবুর রহমানের একটি প্রধান আর্টারি কেটে ফেলে। ফলে তার পেট মুহূর্তেই রক্তে ভরে যায় এবং তিনি রক্ত স্বল্পতায় দ্রুত মারা যান। অথচ এই রোগের অসাধারণ কার্য্যকর ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথিক সিকিৎসা শাস্ত্রে।

চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে ঢাকার একজন বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক মজিবুর রহমানকে অনুরোধ করেছিলেন যেন অস্ত্রোপচারটি ওই অধ্যাপকের কাছেই সম্পন্ন করেন কিন্তু তিনি আগে থেকেই মনস্থির করেছিলেন যে, তিনি ইউরোলজিস্টের হাতে করবেন, সিঙ্গাপুরে গিয়ে রোবোটিক অস্ত্রোপচারই করবেন। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, ‘অধ্যাপক মজিবুর রহমান আরসিসি রেনাল সেল কার্সিনোমা’ রোগে ভুগছিলেন। এটা এক ধরনের ক্যান্সার।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশে রোবোটিক সার্জারি করতে গিয়ে সমস্যায় আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। পরে তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং সমস্যা আক্রান্ত স্থানটি ওপেন করে দ্রুততার সাথে সার্জারি করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়।

রোবোটিক সার্জারি বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা: মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈপুণ্য ও উৎকর্ষতা না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় হয়তো রোগী জীবনের জন্য বেঁচে গেলেও শারীরিক অথবা মানসিকভাবে পঙ্গুতের শিকার হতে পারেন। অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, মেশিন বলুন অথবা রোবটই বলুন এর চালকের অতি উচ্চ মাত্রার প্রশিক্ষণ ও মেশিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকতে হবে এবং একই সাথে জবাবদিহিতা না থাকলে এসব থেকে কল্যাণের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

এফডিএ তাদের গবেষণায় বলেছে, রোবোটিক সার্জারিতে মৃত্যুসংক্রান্ত রিপোর্ট এলেও এ সম্বন্ধে তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়। ফলে ‘চিকিৎসকের ভুলের কারণে রোগী মারা গেছে, না মেশিনের ভুল ছিল অথবা সার্জারির পর অন্য কোনো কারণে মারা গেছে’ এ সম্বন্ধে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না।

এফডিএ’র গবেষণায় বলা হয়েছে ১০ হাজার রোবোটিক সার্জারির তথ্য থেকে জানা গেছে, আট হাজার ৬১টি অস্ত্রোপচারের সময় রোবটের ভুলের কারণে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি সমস্যা আক্রান্ত হয়েছে। এফডিএ বলেছে, গাইনি ও ইউরোলজির অস্ত্রোপচারে অপেক্ষাকৃত কম সমস্যা হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অথবা অন্যান্য সমস্যার অভিযোগ এসেছে কার্ডিওথোরাসিক, মাথা ও ঘাড়ের অস্ত্রোপচারে।

তবে যুক্তরাজ্যের রয়াল কলেজ অব সার্জনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবোটিক সার্জারি ইনফেকশনের ঝুঁকি কমায় এবং রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি তার উল্টোটি ঘটছে। 

মানুষ একটি সহজ বিষয়কে নিজেরাই জটিল করে তুলে এবং নিজেরাই সেই জটিলতায় ভুগে এর জন্য তারা কখনো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে দোষারোপ করতে পারবে না। কারণ প্রতিটি সমস্যারই সহজ সমাধান রয়েছে। ইউরোলজি সংক্রান্ত নতুন এবং ক্রনিক সকল সমস্যারই সুচিকিৎসা রয়েছে হোমিওতে এবং হাজার হাজার মানুষ সুস্থ হচ্ছে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে। আপনার সমস্যায় অযথাই সার্জারিতে না গিয়ে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন - আশা করি আপনাকে বিফল হতে হবে না। 
বিস্তারিত

Wednesday, February 21, 2018

গরমে যখন তখন ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি… কিছু বিষয়ে সতর্ক হোন

ফ্রিজের ঠাণ্ডা করা পানি পান করলে মেদ ঝরে। অনেকেই এই যুক্তিকে পূঁজি করে তীব্র গরমের সময় যখন তখন ফ্রিজের পানি খেয়ে তৃপ্ত হন। কাঠফাটা রোদের মধ্যে স্বস্তি পাওয়ার এটাই যেন একমাত্র উপায়। ঠাণ্ডা পানির উপকারিতার পক্ষে ব্যাখ্যা হল, ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রা আর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার মধ্যে রয়েছে অনেকটা পার্থক্য।

আপনার পানকৃত ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক করতে শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে, এতে মেদ ঝরতে পারে। তবে এই মেদ হ্রাসের পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই এতে খুশি হওয়ার কারণ নেই। বরং ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করার ক্ষতিকর দিকটি উপকারের চেয়ে অনেক প্রকট।

খাবার খাওয়ার মাঝে কিংবা শেষে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করলে তা খাবারের চর্বি অংশটুকু কঠিন অবস্থায় পরিণত করে। ফলে শরীরে মেদ কমার চেয়ে বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি। একই সঙ্গে ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে শরীর ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর এ কারণে খাবার পরিপাকের প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ঠাণ্ডা পানির সহায়তায় খাবারের সেই কঠিন হওয়া অতিরিক্ত চর্বিকে পরিপাক করাটা শরীরের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এসব অতিরিক্ত চর্বি কখনো কখনো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়। ধমনিতেও ধীরে ধীরে চর্বি জমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সুস্থ থাকার জন্য শরীরের তাপমাত্রা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের তাপমাত্রার মধ্যে যোগসূত্র থাকাটা খুব জরুরি। অথচ আমরা বাইরে থেকে ঘরে এসে তড়িঘড়ি করে ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে খেয়ে ফেলি। এটা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি তাহলে কখন পান করবেন? পিপাসা হচ্ছে সেই অনুভূতি, যা খুব সহজেই জানিয়ে দেয়, শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে। তাই তৃষ্ণা মেটাতে তাড়াতাড়ি পানি পান করতে হবে। সুতরাং একমাত্র পরিতৃপ্তির জন্য মাঝেমাঝে স্বাভাবিক পানির সঙ্গে ফ্রিজের পানি মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই সেই পানির শীতলতা থাকবে পরিবেশ ও শরীরের তাপমাত্রার সহ-অবস্থানে।

যাদের অ্যাজমা, টনসিলাইটিস কিংবা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি একেবারেই নিষিদ্ধ। আবহাওয়া যতই গরম থাকুক না কেন ঠাণ্ডা পানিতে আপনার শরীরের ক্ষতি করে বসতে পারে। তাই সাবধান থাকা জরুরি।
বিস্তারিত

Sunday, February 4, 2018

কোন রক্তের গ্রুপে কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত

ডায়েট চার্ট মেনে অনেকেই খাওয়া দাওয়া করে থাকেন। তাতে শরীর সুস্থ যেমন থাকে, তেমন মুডও থাকে ভাল। তবে লো-ক্যালরি, হাই এনার্জি ডায়েটেও অনেকে যেন ঠিক মনের মতো ফল পাচ্ছেন না। মানে, ওজন ঝরিয়ে ফেলে ঠিক যেমনটা স্লিম হতে চান তেমনটা কিছুতেই যেন হয়ে ওঠছে না। এর কারণ জানেন? গবেষকরা জানাচ্ছেন, আমরা আমাদের রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী ডায়েট মেনে চলি না বলেই এমনটা হয়ে থাকে।

নিউরোপ্যাথ ড. পিটার ডি’অ্যাডামো জানান, রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী খাবার খেলে শুধু যে ওজম কমে তা নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়, সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে। জেনে নিন কোন গ্রুপের রক্ত হলে ডায়েটে কোন ধরনের খাবার রাখা উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘ও’:- এ ধরনের রক্ত যাদের রয়েছে তারা উচ্চমাত্রায় প্রোটিন খেলে যথেষ্ট উপকৃত হবে। এক্ষেত্রে বেশি করে সাদা মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, মাছ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সবজি এবং নানা ধরনের দানাযুক্ত খাবার যথেষ্ট উপকার করবে। সীম ও বীজধরনের খাবার এবং ডেইরি পণ্য খাওয়া উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘এ’:- এ রক্তের গ্রুপের মানুষদের জন্য মাংসবিহীন খাবারই সবচেয়ে উপযুক্ত। এক্ষেত্রে সবজি ও ফলমূল হতে পারে সবচেয়ে আদর্শ খাবার। এছাড়া নানা ধরনের ডাল, দানাদার খাবার, লাল আটার রুটি, সীমের বিচি ও বিভিন্ন ধরনের বীজ খাওয়া উচিত বেশি করে।

রক্তের গ্রুপ ‘বি’:- ‘বি’ গ্রুপের রক্ত যাদের রয়েছে তাদের প্রধানত সবুজ সবজি, ডিম, কিছু ধরনের মাংস ও কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। তাদের ভুট্টা, গম, ডাল, টমেটো ও চিনাবাদাম এড়িয়ে চলা উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘এবি’:- রক্তের গ্রুপ যাদের ‘এবি’ তাদের খাবারে থাকা উচিত সয়াবিন, সামুদ্রিক খাবার, দুগ্ধজাত সামগ্রী ও সবুজ সবজি। এছাড়া ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, ধূমপান ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বর্জন করা উচিত।
বিস্তারিত

Thursday, January 25, 2018

দাঁত রোগমুক্ত রাখতে করণীয় এবং দাঁতের যত্নে প্রাকৃতিক ঔষধগুলি কি কি জেনে নিন।

বাংলায় একটা কথা আছে, যা প্রতিটি মানুষই তার জীবনকালে একবার না একবার শুনেই থাকেন, তা হল দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে হয়, না হলে পরে আফসোস করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। আপনাকে যাতে এমন কথা শুনতে না হয় সেজন্যই আজ এই লেখায় দাঁত বাঁচাতে এমন সহজ কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে আপনার দাঁতের কোনও ক্ষয় তো হবেই না, সেই সঙ্গে বুড়ো বয়সে দাঁত পড়ে যাওয়ার চিন্তাও দূর হবে
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝুন। একটা মধুর হাসি তখনই সম্পূর্ণ হবে, যখন তার সঙ্গে থাকবে হিরের মতো ঝকঝকে দাঁত। মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। শরীরের সঙ্গে দাঁতেরও যত্ন নেওয়া দরকার। দাঁত ভালো রাখতে আমাদের নিয়মিত চিকিত্সকের পরামর্শসহ আরও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ

দাঁতের কালো দাগ: সমস্যা এবং সমাধান

দাঁত থাকুক সুন্দর, ঝকঝকে, রোগমুক্ত; কে না চায় এমন। কিন্তু হয়ে উঠে কি? কথায় বলে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্জাদা বুঝে না। এটাই হয় মূলত। সাধারণত দেখা যায় দাঁতের চিকিৎসা সময় মত না করানোর ফলেই দাঁতের যত সমস্যার শুরু হয়। সময় মত চিকিৎসা করালে যে সমস্যা কোন সমস্যাই না, অসময়ে চিকিৎসা করাতে গেলে ঐ সমস্যাই বড় সমস্যা হয়ে দাড়ায়।

অনেকেরই দেখা যায় দাঁতের মাড়ির ওপর কালো দাগ পড়েছে। আর সেখানে প্রচন্ড ব্যাথা, গর্ত হওয়া বা ফাঁকা হওয়া, রক্ত পড়া সহ বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা অনেকেই দাতে লবন এবং সরিষার তেল দিয়ে দাঁত মাজি। কিন্তু ডাক্তারদের মতে এটা করা ঠিক নয়। বরং দাঁতে কালো দাগ দেখা দেবার সাথে সাথে আমাদের যা করা উচিৎ তা হলো একজন দাঁতের ডাক্তার দেখানো।

মূলত দাঁতে কালো দাগ দেখা মানে হচ্ছে এটি দাঁত ক্ষয়ের প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যা। প্রথম অবস্থাতেই এটির চিকিৎসা করালে এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা ফিলিং করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের ব্যয়বহুল রুট ক্যানেল করানোর মত ঝামেলা এড়ানো যায় সহজেই।

আর আপনি যদি সময় মত দাঁতের এই কালো দাগ দূর করে ফিলিং করান, তাহলে দাঁতে অ্যাপিক্যাল অ্যাবসেস হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। আর না করালে এবং অ্যাপিক্যাল অ্যাবসেস হলে রুট ক্যানেল করে ফিলিং করালে যদিও দাঁত রক্ষা করা যায়, কিন্তু তা খুবই ব্যয়বহুল।

কিছু নিয়ম মানুনঃ- দাঁতের নিয়মিত সুরক্ষার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। এগুলি মেনে চললে অনেকাংশেই আমরা আমাদের দাঁতকে রাখতে পারবো ঝকঝকে সাদা, রোগমুক্ত।

প্রতিদিন সকালের নাস্তার পর, এবং রাত্রে ঘুমাবার আগে দাঁত ব্রাশ করুন।
(রমজানে,সেহেরী খাওয়ার পর)
  • দিনে মাত্র একবার দাঁতব্রাশ করলে তা অবশ্যই রাত্রে ঘুমাবার আগে দেড় থেকে দুমিনিট দাঁত ব্রাশ করা শ্রেয়, এর বেশী বা কম নয়
  • ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁকার মধ্যে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করতে পারেন
  • যে কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, চুইংগাম, কেক, ফাস্টফুড খাবার পর অবশ্যই পানি দিয়ে ভালো ভাবে কুলকুচি করবেন
  • মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন, তবে টানা ব্যবহার করবেন না, ৪/৫ দিন ব্যবহারের পর আবার ৪/৫ দিন ব্যবহার বাদ দিন
  • অতিরিক্ত ফ্লুরাইড ব্যবহার করে এমন টুথপেষ্ট লম্বা সময় ব্যবহার করবেন না, এতে আপনার দাঁতে সাদা দাগ পড়া সহ ভেঙ্গে যেতে পারে
  • সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করবার নিয়মটি আপনার দাঁতের ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো ভাবে শিখে নিন
  • দাঁতে সমস্যা থাকুক চাই না থাকুত, বছরে অন্তত ২/১ বার দন্ত চিকিৎসককে দেখানো উচিত

দাঁতের যত্নে কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদানগুলো

দাঁতের ক্ষয় হওয়ার পেছনে মূলত আমাদের খাদ্যাভ্যাস অনেকাংশে দায়ী থাকে। এই যেমন সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে যে যে খাবারগুলি বিশেষ করে দাঁতের ক্ষয় করে থাকে, মিষ্টিজাতীয় খাবার তার মধ্যে অন্যতম। শুধু কী আর খাবার, সেই সঙ্গে খাবার খেয়ে ঠিক মতো মুখ না ধোওয়া, দাঁতের যত্ন না করার মতো বিষয়ও দাঁতের ক্ষয়ের পিছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এই বদঅভ্যাসগুলি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি নিয়ম করে এই লেখায় আলোচিত ঘরোয়া দাওয়াইগুলো মেনে চলা যায়, তাহলে দাঁত নিয়ে আর কখনও চিন্তাই করতে হবে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী।

১. তেল মালিশ:- শরীরকে চাঙ্গা রাখতে তেল মালিশের উপকারিকাতর কথা শুনেছি। কিন্তু দাঁতে তেল মালিশ! এই ব্যাপারটা তো ঠিক বুঝলাম না ভাই? আসলে দাঁতের তেল মালিশ বলতে সহজ কথায় বিশেষ কিছু তেল দিয়ে কুলকুচি করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১ চামচ নারকেল তেল নিয়ে কুলকুচি করার পর যদি গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা যায়, তাহলে দাঁতের ক্ষয় হওয়ার ভয় অনেকটাই কমে আসে। প্রসঙ্গত, নারকেল তেল দিয়ে কম করে ২০ মিনিট কুলি করতে হবে, তবেই মিলবে সুফল!

২. হলুদ:- এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ দাঁতে পোকা লাগতে দেয় না। সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের হাত থেকে দাঁতকে রক্ষা করতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এক্ষেত্রে প্রথমে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়োতে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটা ব্রাশে লাগিয়ে দিনে কম করে দুবার দাঁত মাজতে হবে। এমনটা যদি কয়েকমাস করা যায়, তাহলে দাঁত নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না।

৩. পেয়ারা পাতা:- দাঁতের সুরক্ষায় এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান দাঁতের স্বাস্থ্যকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল দাঁতের সুরক্ষায় কীভাবে ব্যবহার করতে হবে পেয়ারা পাতাকে? এক্ষেত্রে ১-২টা পেয়ারা পাতা নিয়ে কিছুক্ষণ চিবিয়ে ফেলে দিতে হবে। এমনটা করলে পেয়ারা পাতার রস দাঁতের ভেতরে প্রবেশ করে নিজের খেল দেখানোর সুযোগ পেয়ে যাবে। আর এমনটা হওয়া মাত্র দাঁতের শক্তি বাড়তে শুরু করবে।

৪. গ্রিন টি:- শরীরকে সুস্থ রাখতে গ্রিন টি-এর যেমন কোনও বিকল্প হয় না, তেমনি দাঁতের সুরক্ষাতেও এই পানীয়টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লেগে থাকে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি খেলে দাঁতের বেশ উপকার হয়, সেই সঙ্গে শরীররে প্রতিটি অঙ্গ এতটাই কর্মক্ষম হয়ে ওঠে যে সার্বিকভাবে শরীরের উন্নতি ঘটে।

৫. তুলসি পাতা:- মুখের ভেতরে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলার মধ্যে দিয়ে তুলসি পাতা একদিকে যেমন মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, তেমনি ক্যাভিটি এবং প্লাকের মতো সমস্যাকেও ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা নিয়ে রোদে শুকিয়ে একটা পাউডার বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পাউডার দিয়ে প্রতিদিন দাঁত মাজলেই দেখবেন উপকার পেতে শুরু করেছেন।

৬. পিপারমেন্ট পাতা:-  ২০১৩ সালে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই পাতাটি নিয়মিত খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে পোকা লাগার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। কারণ পিপারমেন্ট পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো পিপারমেন্ট পাতা ফেলে পানিটা ফুটিয়ে নিন। যখন দেখবেন পানিটা ভাল রকম ফুটতে শুরু করেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে, পানিটা ছেঁকে নিয়ে ভাল করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

৭. আমলকি:- এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরে প্রবেশ করার পর শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় না, সেই সঙ্গে দাঁতের বাইরের স্তরকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে ক্যাভিটি হোক কী ব্যাকটেরিয়া, কোনও কিছুই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই তো দাঁতের পাশাপাশি শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিন ১-২টা আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
বিস্তারিত

Wednesday, January 24, 2018

নিয়মিত এক কাপ চা পান করার যে উপকারিতাগুলি আপনি জানেন না !!

শরীরের ঝিমভাব কাটাতে অনেকেই চা পান করে থাকেন। কারও পছন্দ চিনি ছাড়া লাল চা, কারও আবার বেশি দুধ ও চিনি সহযোগে কড়া চা। চায়ের কতই না রূপভেদ। কিন্তু ধর্ম-বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ একটা ব্যাপারে একমত হবেনই, চা ছাড়া দিন যে কাটে না।

সম্প্রতি চায়ের গুণাগুণ সম্পর্কে একটি নতুন সমীক্ষা হয়েছে। বের হয়েছে তার ফলাফলও। যেখানে বলা হচ্ছে, যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের বুদ্ধি, একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা যারা চা পান করেন না, তাদের চেয়ে বেশি।

গবেষকরা বলছেন, চায়ের মধ্যে ক্যাফিন ও থিয়ানিন রয়েছে। এই উপাদানগুলো মানুষকে সদা সতর্ক থাকতে সাহায্য করে। একাগ্রতা বাড়ায়। মস্তিষ্কে ‘ক্রিয়েটিভ জুসে’র প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় এক কাপ চা।

এই তত্ত্ব হাতেকলমে প্রমাণ করতে ২৩ বছর বয়সী ৫০ জন যুবককে দুটি দলে ভাগ করা হয়। তাদের মধ্যে একদলকে শুধু পানি দেয়া হয়, ওপর দলটিকে দেয়া হয় পানি ছাড়াও নিয়মিত লিকার চা পান করতে। দুটি দলকেই নানা কাজের ভার দেয়া হয়। তাদের কিছু অঙ্ক কষতে দেয়া হয়, ইতিহাসের কয়েকটি প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়।

এবার ফল যা বলছে, তাতে দেখা যায়, যারা নিয়মিত চা পান করেছেন, তাদের স্কোর ৬.৫৪। আর যারা চা পান করেননি, তাদের গড় স্কোর ৬.০৩।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, বারবার চা চাওয়ার অভ্যাসে গিন্নি বিরক্ত হলেও এই প্রবণতা কিন্তু মোটেও ক্ষতিকারক নয়। তবে ঘনঘন পান করার অভ্যাস থাকলে দুধ-চিনি ছাড়া লিকার চা বা গ্রিন টি পান করুন। এতে সুস্থও থাকবেন বেশিদিন, আর বাড়বে বুদ্ধি-একাগ্রতাও।
বিস্তারিত

Tuesday, January 23, 2018

নীরব ঘাতক হাড়ের ক্যান্সারের মারাত্মক লক্ষণগুলো সবারই জেনে রাখা দরকার

আজকাল বোন ক্যান্সার বা হাড়ের রোগের কথা বেশ শুনতে পাওয়া যায়। আর এই ক্যান্সারে মৃত্যুর হারটাও অনেক চড়া। তবে ভয়ের বিষয়টা হচ্ছে এই ক্যান্সারের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

তাই সত্যি বলতে কি, নিশ্চিতভাবে কারো ক্ষেত্রেই বলা সম্ভব না যে তার এই হাড়ের ক্যান্সার হবে কি হবে না। তাহলে উপায়? উপায় হচ্ছে কারণ ও লক্ষণ গুলো সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে রাখা ও সতর্ক হওয়া।

ম্যালিগন্যান্ট বোন টিউমার থেকেই মূলত হাড়ের ক্যানসার হয়। হাড়ের কোষে টিউমার, অস্টিওজেনেটিক দেহকলার মারাত্মক টিউমার, কন্ড্রোমা সারকোমাটোসাম ইত্যাদির কারণেও এটি হয়ে থাকে। তবে হাড় ক্যানসারের লক্ষণ ক্ষেত্রে অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

বোন ক্যানসারের কারণ

হাড়ের ক্যানসারের কারণ এখনও সঠিক ভাবে জানা যায়নি। হাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ও সংক্রমণের ফলেই ক্যানসার হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

এছাড়াও হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, জেনেটিক ফ্যাক্টর, ভাইরাস সংক্রমণ, রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণেও হাড়ের ক্যানসার হতে পারে।

এবার জানুন নীরব ঘাতক হাড়ের ক্যান্সারের মারাত্মক লক্ষণগুলো সম্পর্কে….

১) হাড়ে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া:- হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ার অর্থ যে আপনি কোনো ভাবে ব্যথা পেয়েছেন তা নাও হতে পারে। হাড়ের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে হাড়ে ব্যথা হওয়া। এই ব্যথা একটানা হবে না। হুট করেই ব্যথা শুরু হওয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাতের বেলা ব্যথা শুরু হওয়া, ভারী কোনো জিনিস তোলার পর ব্যথা হওয়া বা হাঁটার ফলে হাড়ে ব্যথা হওয়া হতে পারে হাড়ের ক্যান্সারের লক্ষণ। সুতরাং হাড়ের ব্যথা অবহেলা করবেন না।

২) ব্যথার স্থান ফুলে যাওয়া:- কোনো কারণে ব্যথা পাওয়া ছাড়া হাড় ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি যদি ব্যথা হওয়ার স্থান অনেক ফুলে যায়, বিশেষ করে জয়েন্টের স্থান ফুলে যায় তাহলে এটি সাধারণ ব্যাপার নাও হতে পারে। এছাড়াও ফুলে যাওয়া স্থানে গোটার মতো অনুভব হওয়া মাত্র সতর্ক হোন। ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৩) হাড় ভাঙা বা হাড়ে ফ্র্যাকচার হওয়া:- হাড় অনেক মজবুত, ষ্টীলের চাইতেও মজবুত হয়ে থাকে মানুষের হাড় যা খুব সহজে ভাঙে না। কিন্তু হাড়ের ক্যান্সার হওয়ার ফলে হাড়ের ভেতরে ক্ষয় হতে থাকে এবং হাড়ের ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি পায়। যার কারণে সাধারণ কাজ যেমন উঠাবসার করা, হাঁটু গেঁড়ে বসা বা বিছানায় গড়াগড়ি খাওয়ার সময়েও হাড় ভাঙা বা হাড় ফ্র্যাকচার হওয়ার ঘটনা মোটেই স্বাভাবিক নয়। এটি হাড়ের ক্যান্সারের লক্ষণ।

৪) অন্যান্য লক্ষণ সমূহ:- এই সকল লক্ষণের পাশাপাশি আরও সাধারণ কিছু লক্ষণ নজরে পড়ে থাকে, যেমন-
  • কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকা
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব করা
  • রক্তশূন্যতায় ভোগা
  • ঘন ঘন এবং অতিরিক্ত জ্বর হওয়া ইত্যাদি।
মনে রাখুন,উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো চোখে পড়লে নিশ্চিত হয়ে যাবেন না যে আপনি হাড়ের ক্যান্সারেই আক্রান্ত। আর্থ্রাইটিস, মাংসপেশি বা লিগামেন্ট ইনজুরিতে যারা ভোগেন তাদের মধ্যেও এইধরনের কিছু লক্ষণ নজরে পড়ে। সুতরাং ঘাবড়ে বা ভয় পেয়ে যাবেন না। লক্ষণ দেখা মাত্র ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বিস্তারিত

Thursday, January 18, 2018

পায়ের পেশীতে ব্যাথা হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ

৩৮ বছর বয়সী সমীর সিনহা তার পায়ের পেছনের মাংসপেশীতে প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করার সময় ব্যাথা অনুভব করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একটু জোরে হাঁটলে ব্যাথা আরো বেশি অনুভুত হয়। তবে বসে পড়লে আর ব্যাথা থাকে না।

অবশেষে একদিন তিনি ডাক্তার দেখাতে গেলেন। ডাক্তার তাকে বেশ কিছু টেস্ট করাতে দেন। টেস্টে ধরা পড়ে সমীর পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ (পিএডি)-তে আক্রান্ত। পিএডি এমন একটি লক্ষণ যা নির্দেশ করে যে আপনার ধমনী আপনার পায়ে যে রক্ত সরবরাহ করছে তা প্রদাহযুক্ত, দূর্বল বা অবরুদ্ধ। সময় মতো ডাক্তার দেখানোয় বেঁচে যান সমীর।

আমাদের বেশিরভাগেরই হার্টঅ্যাটাকের তীব্রতা সম্পর্কে বুঝ থাকলেও লেগ অ্যাটাক সম্পর্কে আমরা একদমই সচেতন নই। পুনের রুবি হল ক্লিনিকের ভাসকুলার অ্যান্ড এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ড. ডি আর কামারকার বলেন, “সধারণত একজন রোগী তখনই পায়ের নিচের অংশের পেছনের মাংসপেশীতে এবং উরুতে ব্যথা অনুভব করেন যখন পায়ে রক্ত চলাচলের শিরা-উপশিরাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে আসে বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এটি লেগ অ্যাটাক হিসেবেও পরিচিত। পিএডির প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ঘটে। ব্লক যদি খুব তীব্র হয় তাহলে রোগীরা অবিরত জ্বালাপোড়ামূলক ব্যাথা অনুভব করেন। পায়ের আঙ্গুলগুলোর রঙ চটে যায় বা এমনকি গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। যার ফলে আবার পায়ের আঙ্গুলগুলো কালোও হয়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ধূমপায়ীদের মধ্যে এ ধরনের পায়ের ব্যাথা দেখা দিলে সঙ্গেই সঙ্গেই সতর্ক হতে হবে।

৫০০ মিটারের কম দূরত্ব হাঁটলে যদি আপনার পায়ে বা পশ্চাদ্দেশের মাংসপেশীতে ব্যাথা অনুভুত হয় তাহলে আজই আপনিও পিএডির ডাক্তারি টেস্ট করান। এর আরো কিছু লক্ষণ হলো, পায়ের নিম্নাংশের ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং লোম পড়ে যাওয়া।

জীবন-যাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই পিএডির ঝুঁকি কমে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে, ডায়েট কন্ট্রোল, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হাঁটাহাঁটির মতো সাধারণ ব্যায়াম। এছাড়া সাইকেল চালানোর মাধ্যমেও পিএডিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

মানসিক চাপও দেহের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং তাও এড়িয়ে চলতে হবে।
বিস্তারিত

Friday, January 12, 2018

কোলেস্টেরল কমানোর ৭টি বিস্ময়কর উপায়

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, চর্বি ও চিনি বেশি খাওয়া শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে কোলেস্টেরল কমানোর সাত উপায়ের কথা।
১. এড়িয়ে চলুন ট্রান্স ফ্যাটঃ কোলেস্টেরল কমানোর একটি প্রাকৃতিক উপায় হলো ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবারগুলো এড়িয়ে চলা, যেমন—বার্গার, পিৎজা, চিপস ইত্যাদি। ট্রান্স ফ্যাট বাজে কোলেস্টেরল বাড়ার প্রধান কারণ

২. মুরগির মাংস খানঃ লাল মাংস, যেমন—গরু, খাসি ইত্যাদি বাদ দিয়ে খাদ্যতালিকায় মুরগির মাংস বা লিন মিট রাখুন।

৩. ওটস খানঃ কোলেস্টেরল কমানোর আরেকটি উপায় হলো প্রতিদিন সকালে ওটস খাওয়া। ওটসের মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটি কোলেস্টেরল কমাতে কাজ করে

৪. ব্যায়াম করুনঃ প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। পুস আপ, লেগ লিফটস, হিপ রোটেশন ইত্যাদি করতে পারেন

৫. ফল খানঃ কোলেস্টেরল কমাতে ফল খান। অধিকাংশ ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশ। এগুলো শরীর থেকে বাজে কোলেস্টেরল কমায়

৬. দারুচিনির কফিঃ গবেষণায় বলা হয়, কফিতে দারুচিনি যোগ করলে কোলেস্টেরল কমে। তাই এটিও খেয়ে দেখতে পারেন

৭. মাছ খানঃ কোলেস্টেরলের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য মাছ খুব উপকারী। তাই খাদ্যতালিকায় মাছ রাখুন
বিস্তারিত

Sunday, January 7, 2018

কলার ১২টি অসাধারণ স্বাস্থ্য গুণ - যা আপনার হয়তো অজানা

কলা বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় একটি ফল। মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি বেশ সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি খাবার। কলা শরীরে শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলায় আছে ১১৬ ক্যালোরি, ক্যালসিয়াম ৮৫মি.গ্রা., আয়রন ০.৬মি.গ্রা. , অল্প ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ৮মি.গ্রা., ফসফরাস ৫০মি.গ্রা.,পানি ৭০.১%, প্রোটিন ১.২%, ফ্যাট/চর্বি ০.৩%, খনিজ লবণ ০.৮%, আঁশ ০.৪%,শর্করা ৭.২%।

কলার স্বাস্থ্য গুণ সমূহ

  1. কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী আছে। তাই মাত্র একটি কলা খেলেই অনেক সময় পর্যন্ত সেটা শরীরে শক্তি যোগায়।
  2. যারা রক্ত শূন্যতায় ভুগছেন তাদের জন্য কলা খুবই উপকারী একটি ফল। কারণ কলায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে।
  3. কলায় আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। তাই নিয়মিত কলা খেলে হাড় ভালো থাকে।
  4. যারা নিয়মিত বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভুগেন তারা প্রতিদিন একটি করে কলা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন সহজেই।
  5. কলায় উপস্থিত ভিটামিন বি৬, বি১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।
  6. কলায় ট্রিপ্টফ্যান আছে যা সেরোটনিনে রূপান্তরিত হয়ে মন ভালো করে দিতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত কলা খেলে বিষণ্ণতা দূর হয়।
  7. সবচেয়ে বড় কথা হলো স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী।
  8. প্রায় দুই মিনিট ধরে কলার খোসা দাঁতের উপর ঘষলে এটি দাঁতের উপরে থাকা ময়লা ও দাগ দূর করে দাঁতকে সাদা করে তুলবে। মিনারেলে ভরপুর কলার খোসা দাঁতকে সাদা ঝকঝকে করে তুলতে পারে।
  9. ডায়রিয়া হলে শরীরে পানি শূন্যতা হয়ে যায় এবং শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। এসময়ে কলা খেলে শরীরের পটাশিয়ামের অভাব দূর হবে এবং হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
  10. কলায় ফ্যাটি এসিডের চেইন আছে যা ত্বকের কোষের জন্য ভালো এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই ফ্যাটি এসিড চেইন পুষ্টি গ্রহণ করতেও সাহায্য করে।
  11. কলা মন ভালো করে দেয়। কলায় ট্রাইপটোফ্যান আছে যা সেরোটনিনে রূপান্তরিত হয়ে মন ভালো করে দিতে সাহায্য করে।
  12. কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো। স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী।
বিস্তারিত

Friday, January 5, 2018

বিরক্তিকর নাক ডাকা বন্ধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় কী?

কেউ নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে ভাবলেই মনে হবে আহ্ লোকটা কী শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু নাকডাকা মোটেই কোনো শান্তির লক্ষণ নয়। নাকডাকার পেছনে বেশ কিছু অসুখ দায়ী। এর মধ্যে আছে প্রাণঘাতী অসুখও। আর যদি বিছানা কারো সঙ্গে শেয়ার করতে হয়, তাহলে নাকডাকার কারণে ওই সঙ্গীর ঘুমের বারোটা বেজে যেতে পারে। পাশ্চাত্যে অনেক বিয়ে ভেঙে যায় শুধু নাকডাকার কারণে।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন অনেকেই। যিনি নাক ডাকেন, তাঁর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে আর অবধারিতভাবেই পাশের মানুষটির জন্য হয়ে ওঠে চরম বিরক্তিকর। সাধারনত, মধ্যবয়স্ক ৪০ ভাগ পুরুষ ও ২০ ভাগ নারী ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন।অথচ সাধারণ কতগুলো নিয়ম মেনে চললে নাক ডাকার এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

ভুক্তভোগীর কথা- আমার কলেজ জীবনের সহপাঠি ঘনিষ্ট বন্ধু শোভন আমার রুমমেট। তার নাকডাকার পরিমান এত বেশী যে আমার ঘুম আসতে খুবই কষ্ট হয়। গভীর সম্পর্কের কারনে কিছু বলতে ও পারি না। অনেকটা সহ্য করেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে কমপিউটার নিয়ে বসে থাকি।কয়েক দিন আগে তাকে নিয়ে ডাক্তারের  কাছে গিয়েছিলাম ডাক্তার কোন ঔষধ না দিয়ে কিছু পরামর্শ দেয়।

কিন্ত পরামর্শে কোন কাজ হচ্ছে না। বরং আমার বন্ধু আমার জন্য কানের তুলি নিয়ে আসে যাতে ওর নাক ডাকার আওয়াজ আমার কানে না আসে।তারপরও কাজ হচ্ছে না। তার নাক ডাকার আওয়াজ এত বেশী যে তুলি ব্যবহারের পর হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনলেও আওয়াজ আমার কানে আসে। তবে এই পদ্ধতিতে আমার বন্ধুর কোন উপকার না হলেও আমার কিছু উপকার হয়েছে অন্য কোন আওয়াজ না আসায় আমার সকাল বেলার ঘুম ভাল হয়।

সবার আগে জেনে নিই মানুষ কেন নাক ডাকে?

ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপথে কোনো বাঁধা পেলে বাতাস শ্বাসযন্ত্রে কাঁপুনির সৃষ্টি করে। এরই ফলে নাক ডাকার শব্দ হয়।
  • ওজন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে গলার চারপাশের চর্বি জমা হয়।
  • গলার পেশির নমনীয়তা কমে গেলে।
  • জন্মগত কারণে শ্বাসযন্ত্র সরু হলে বা চোয়ালে কোনো সমস্যা থাকলে।
  • ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ঘুমের ওষুধ এই সমস্যা বাড়ায়।
  • থাইরয়েডের সমস্যা ও গ্রোথ হরমোনের আধিক্যজনিত রোগে।
যখন কারও নাক ডাকে, তখন তাকে লক্ষ্য করলে দুটো জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। যার নাক ডাকছে সে চিত হয়ে শুয়ে আছে আর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। গভীর ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস খুব গভীর হয়। একে বলে গভীর শ্বাস। চিত হয়ে থাকার সময় আমাদের জিভ গলবিলের ভিতর ঠেলে যায়। ফলে বাতাসের পথ সংকীর্ণ হয়ে আসে। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস ওই সংকীর্ণ পথে ঢুকতে গিয়ে বাধা পায়। ফলে বাতাসের বেগ আরও বেড়ে যায়। তালুর পিছনে যে নরম তালু রয়েছে, বাতাসের চাপে তাতে কাঁপন হয়। এর ফলে যে শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকেই আমরা নাসিকা গর্জন বা নাকডাকা বলে থাকি।

যে অসুখে নাক ডাকে

সাধারণত মুটিয়ে গেলে, নাকের সাইনাসে সমস্যা থাকলে, নাকে পলিপ থাকলে কিংবা অ্যালার্জির কারণে মানুষ যখন ঘুমিয়ে যায় তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বিশেষ শব্দ হয়। এ শব্দই নাকডাকা। তাছাড়া স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে নিঃশ্বাস সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া নামের একটি অসুখের কারণে বহু মানুষ নাকডাকে। এ অসুখের কারণে শ্বাস বন্ধ হয়ে ঘুমের মধ্যে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। জীবনের কোন একটা পর্যায়ে কমবেশি সবাই নাক ডাকায় অভ্যস্ত থাকে৷ বিশেষ করে শরীরের ওজন যাদের মাত্রাতিরিক্ত তাদের বেলায় এই প্রবণতা একটু বেশি৷

গবেষকদের মতে, পুরুষদের মধ্যে ৪০ এবং মহিলাদের মধ্যে ২৪ ভাগই নাক ডাকায় অভ্যস্ত৷ ঘুমের ঘোরে নাক ডাকলেও এদের কেউই তা টের পান না কিংবা টের পেলেও দোষের কিছু মনে করেন না তারা৷ কিন্তু আশেপাশে অবস্থানকারীদের এটি মহাবিরক্তির কারণ৷ স্বামীর নাকডাকা অভ্যাস সহ্য করতে না পেরে আলাদা বসবাস এমনকি বিয়ে বিচ্ছেদের মতো ঘটনার নজিরও চোখে পড়ে৷ চোখে পড়ে এর উল্টোটিও৷ এসবের কথা বাদ দিয়েই বিজ্ঞানীরা শুনিয়েছেন এ সংক্রান্ত এক ভয়ংকর তথ্য৷ তাদের মতে, উচ্চগ্রামে নাকডাকা অভ্যাসের সঙ্গে রয়েছে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের নিবিড় যোগসূত্র৷

হাঙ্গেরির একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি ১২ হাজার নারী-পুরুষের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন৷ এ সময় তাদের কাছে নাকডাকা অভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব তথ্য৷ প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্তের উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা একটি নিবন্ধ রচনা করেন৷ ঐ নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, শরীরের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হলে নাকডাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে৷ আর এ কারণেই ঘুমের ঘোরে যারা নাকডাকায় অভ্যস্ত অন্যদের তুলনায় তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে ৩৪ ভাগ বেশি৷ পক্ষান্তরে, সাধারণ লোকের চেয়ে তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে ৬৭ ভাগ৷ গবেষকদের ভাষায়, উচ্চগ্রামে নাকডাকা ও শব্দ করে নিঃশ্বাস ফেলার প্রবণতা থেকে সহজেই হৃদরোগ সনাক্ত করা হয়৷ তাদের মতে, একেবারে নীরবে যারা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ-বর্জন করেন তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একেবারেই কম৷

সমাধান কি ?

বিজ্ঞান বলছে, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা মানেই অসুস্থতা, তা কিন্তু নয়৷ বার্লিনের শারিটে ইউনিভার্সিটির স্লিপ মেডিসিন বিভাগের প্রধান গবেষক আলেকজান্ডার ব্লাউ বেশ দীর্ঘ গবেষণার পর জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই নাকডাকা কোন একটা অসুস্থতার লক্ষণ, কিন্তু সব ক্ষেত্রে সেটা বাস্ততবসম্মত নয়।

কিন্তু ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ সম্পর্কে জার্মান গবেষণাকেন্দ্র ডিজিএসএম- এর ইয়ান লোয়লার বলছেন, নাকের হাড়ের গঠনে বিচ্যুতি থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মদ্যপান, নাক ডাকার কারণ একটি নয় অনেকগুলো। সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, যে সমস্ত ব্যক্তির নাক ডাকে বিস্তর পরিমাণে, তাঁদের কিন্তু সতর্ক হওয়া দরকার, কারণ নাক ডাকা বড়মাপের অসুস্থতা ডেকে আনতে পারে।

ডিজিএসএম এর গবেষণা বলছে, যে সব মানুষ ঘুমের মধ্যে বিস্তর পরিমাণে নাক ডাকায় ভোগেন, তাঁদের চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয়, ম্যালিগন্যান্ট স্নোরিং। বিশদভাবে বললে, অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ আপনিয়া (Obstructive Sleep Apnea) বা সংক্ষেপে ওএসএ। যারা এই ওএসএ-র শিকার তাঁদের অনেকেই ভোগেন হার্টের সমস্যায়। এদের মধ্যে কারও যদি থাকে উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিসের মত রোগ, তাহলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকতে ডাকতে অনেক সময় ত্রিশ সেকেন্ড পর্যন্ত কোন অক্সিজেন শরীরে পৌঁছায় না সেই ব্যক্তির। রক্তে কার্বনের পরিমাণ বাড়তে থাকে৷ সেটা তো মস্ত এক জটিলতা।

ডিজিএসএম তাদের গবেষণায় বলেছেন, যারা এই ওএসএ তে ভুগছেন, সচরাচর সারারাত নাক ডেকে ঘুমিয়েও পরের দিনটা তাঁরা অবসন্ন বোধ করেন, ঝিমুনি আসে, কাজে ছন্দ পান না। তার কারণটাও ওই রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা তাঁদের জন্য জরুরি।দ্রুত এই সমস্যা দূর করার উপায়ও বলেছে ডিজিএসএম। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়াটা জরুরি। ঘুমের আগে কোন অবস্থাতেই অ্যালকোহল পান না করা দরকার এবং সেইসঙ্গে চিকিৎসা তো অবশ্যই।

নিজস্ব কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন প্রাথমিকভাবে
  • চিৎ বা উপুড় হয়ে না ঘুমিয়ে কাত হয়ে ঘুমান।
  • মুটিয়ে গিয়ে থাকলে ওজন কমান।
  • নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিশ্চিত হোন নাকে কোনো অসুখ আছে কি না।
স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার রোগ আছে কি না, তা দেখান। দেশের বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালে এখন এ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা হচ্ছে। অনেক সময় চিত হয়ে ঘুমালে জিব পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালি বন্ধ করে দেয়।

নাক ডাকা কমাতে কিছু কার্যকরি পদ্ধতির ব্যবহার হয়তো অনেকেই  জানেননা । বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী  এবার  দেখুন এই পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করে আপনি নিজে অথবা প্রিয়জনকে  নাক ডাকা থেকে মুক্তি দিতে পারেন কি না ? আর যদি কোন পদ্ধতিতেই কাজ না করে তাহলে একজন রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে কিছু দিন প্রপার ট্রিটমেন্ট নিয়ে দেখতে পারেন। হয়তো আশানুরূপ ফল পেতে পারেন। 
বিস্তারিত

Wednesday, January 3, 2018

রক্তে কোলেস্টেরল সমস্যা? নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন খাবার রুটিনে চাই সচেতনতা

আপনি কি কোলেস্টেরল পরীক্ষা করিয়েছেন? পরীক্ষার পর কি কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি ধরা পড়েছে? যদি সেটা বেশি হয়ে থাকে, তাহলে আপনি জেনে খুশি হবেন যে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো সত্যিই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বেশ কাজে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে শরীরে কোলেস্টেরলের আধিক্য দেখা দিতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ধমনিসংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।

তাই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রম রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে বশে রাখে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। তবে এটি ব্যক্তির কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রোগের ইতিহাসের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তাই রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা খাবেন-

জলপাইয়ের তেল এবং জলপাইয়ের তৈরি খাদ্য:- অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেলে রয়েছে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই। গবেষণায় দেখা গেছে, মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড দেহের খারাপ কলেস্টেরল এলডিএলকে কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএলকে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যদি কেউ দেহের ভালো কোলেস্টেরলকে বাড়িয়ে খারাপ কোলেস্টেরলকে কমাতে চায়, তার জলপাইয়ের তেল বা জলপাইয়ের তৈরি খাবার অবশ্যই খেতে হবে।

প্রতিদিন খাবারে এক অথবা দুই চামচ জলপাইয়ের তেল সালাদ বা রান্নায় ব্যবহার করলে শরীরে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরণ হবে।

সবজি:- সবজি দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ জাতীয় খাবার যেমন: শুষ্ক সোয়া প্রোডাক্ট, মটরশুটি, টফু ইত্যাদি।

ননি ছাড়া দই এবং দুগ্ধজাত খাদ্য:- যদি আপনি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণকে কমাতে চান, তাহলে ননিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিতে হবে। এর মানে এই নয় যে আপনি দুধের তৈরি খাবার খাবেন না। যদি দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়া হয় তবে ক্যালসিয়াম, মিনারেল এ ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান থেকে শরীর বঞ্চিত হবে। এগুলো মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে। দুধের তৈরি খাবার অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় প্রতিরোধেও দারুণ সাহায্য করে।

তাই দুধের তৈরি খাবার খেতে হবে। তবে সেটি হবে ননি ছাড়া। ননিবিহীন দই বিশেষত প্রোটিনের জন্য খুব ভালো উৎস্য। এ ছাড়া এ থেকে আপনি পেতে পারেন ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোব্যাসিলাস মাইক্রো-অর্গানিজম; যেগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট-সম্বৃদ্ধ ফল ও সবজি:- সব ধরনের সবজি ও ফল আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। বিশেষত যেসব সবজিতে ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে সেগুলো বেশি খেতে হবে।

ভিটামিন সি :- ভিটামিন সি রয়েছে সব ধরনের সাইট্রাস ফলে। যেমন : কমলা, গ্রেপফল, লেবু ইত্যাদি। সব ধরনের বেরি জাতীয় ফল। যেমন : ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি ইত্যাদি। পেয়ারা ও আমের মধ্যেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ক্যাবেজ বা পাতাকপি পরিবারের খাবারেও আছে ভিটামিন সি। যেমন : সবুজ বা চায়নিজ পাতাকপি, ব্রকোলি ইত্যাদি। ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উৎস হচ্ছে মরিচ।

বিটা ক্যারোটিন :- গাঢ় হলুদ ফলে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। যেমন : আম, হলুদ পিচফল, কাঁঠাল ইত্যাদি। সবজির মধ্যে যেমন : কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঠবাদাম, গাজর ইত্যাদির মধ্যেও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এ ছাড়া গাঢ় সবুজ সবজি যেমন : ব্রকোলি, পাতাকপি ইত্যাদি খেতে হবে শরীরে বিটা ক্যারোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য।

যদি আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় তবে অবশ্যই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখতে হবে।

রসুন এবং অন্যান্য পেঁয়াজ পরিবারের সদস্য:- সুস্বাস্থ্যের জন্য রসুন খাওয়ার ইতিহাস বহু পুরোনো। গবেষকরা বলছেন, রসুন, পেঁয়াজ ও পেঁয়াজজাতীয় খাবার শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখে। তরকারি ও সালাদে আমরা এটি ব্যবহার করতে পারি। এগুলো বেশ হৃৎপিণ্ডবান্ধব খাদ্য।

অপ্রক্রিয়াজাত দানাজাতীয় খাবার:- সব ধরনের অপ্রক্রিয়াজাত দানাজাতীয় খাবারে ভিটামিন বি ও মিনারেলস রয়েছে। এগুলো চর্বি ও কোলেস্টেরল কমায়। এ ধরনের খাদ্য যেমন : রুটি, গম, ভুট্টা, ওটমিলস ইত্যাদি। ওটস-এর মধ্যে রয়েছে হাই সলিউবল ফাইবার যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর।

মাছ:- গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে তিনদিন অথবা এর বেশি সময় মাছ খায়, তাদের শরীরে খারাপ কলেস্টেরল কম থাকে। যারা উচ্চ রক্তচাপ এবং বিভিন্ন হৃদরোগে ভুগছেন তাদের জন্য মাছ খুব উপকারী। এর মধ্যে হাই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড-জাতীয় খাদ্য:- আগেই বলা হয়েছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড শরীরে কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে এই খাবার খাই না। এখন বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ব্যবহার করা হয়। শিমজাতীয় খাদ্য, ওয়ালনাট, জলপাই ইত্যাদির মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।

অলিভ অয়েল:- অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে অলিভ অয়েলে। যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট হেলদি রাখে।

বাদাম:- আমন্ড, কাঠবাদাম একদিকে যেমন সুস্বাদু, তেমনই হেলদিও বটে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তবে বাদাম যেন নুন বা চিনি মাখানো না হয়।

অ্যাভাকাডো:- প্রচুর পরিমাণে বিটা-সিস্টোসেরল থাকে, যা রক্তে HDL বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ধারণ করে।

ওটমিল:- দ্রবণীয় ফাইবার আছে ওটমিলে, যা রক্তে LDL বা ব্যাড কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। এবং রক্তে কোলেস্টেরলের অ্যাবসরপশন বা শোষণ কমায়। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে যে ধরনের খাবার খেতে হবে

এই খাবারগুলো নিয়মিত আপনার খাদ্য তালিকায় রেখে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
বিস্তারিত

Saturday, December 30, 2017

যেভাবে বাড়বে পুরুষের কর্মক্ষমতা !

বর্তমানে খাবারে ভেজাল, বায়ুতে দূষণ এবং পানিতে জীবাণু রয়েছে! এ রকম অভিযোগ কম-বেশি আমরা সবাই করে থাকি।এসবের সঙ্গে লড়াই করে রোজ বেঁচে থাকতে হয় আমাদের। রোজ ভেজাল জীবনযাপনের কারণে আমাদের শরীরে দেখা দেয় পুষ্টির ঘাটতি।এতে অল্পতেই আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, দুর্বলতার কারণে আপনার পারিবারিক জীবনেও দেখা দিয়েছে হতাশা।

এখন উপায়? পুরুষের কর্মক্ষমতা বাড়বে যেভাবে!

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের সমাধান পাওয়া কঠিন। তবে একেবারে অসম্ভব নয়। তারা প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি একটি ওষুধের কথা বলেছেন, এতে রয়েছে এমন শক্তি যা শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শরীরকে সব দিক থেকে সুস্থ রাখতে সক্ষম।

এ ওষুধ প্রতিদিন খেলে আমাদের শরীরে নানাবিধ ঘাটতি যেমন দূর হয়, তেমনি ছোট-বড় প্রায় কোনো রোগই ছুঁতে পারে না।

আসুন এ ব্যাপারে একটি ঘরোয়া ওষুধ তৈরির উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী জেনে নিই;

ওষুধটি তৈরিতে প্রয়োজন পড়বে ২ চা চামুচ পেঁপের বীজ ও ১ চা চামুচ মধু। পেঁপের বীজ বেটে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এই ওষুধটি প্রতিদিন খেলে এনজাইম স্পার্ম কাউন্টের উন্নতি ঘটবে। যাতে আপনার দুর্বলতা অনেকটাই কেটে যাবে।

এ ওষুধটি দুর্বলতা কাটিয়ে উর্বরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আর কি কি উপকার করবে তা নিম্নে আলোচনা করা হল-
  • এই ওষুধে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান, যা শরীর থেকে সব রকমের ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষ বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে এতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও কমে যায়।
  • এ ওষুধটি স্টমার ক্ষতিকর পোকাদের মেরে ফেলে। কারণ স্টমায় এসব ক্ষতিকারক উপাদানের মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত হজমের সমস্যা বাড়বে। আর এ ধরনের রোগের হাত থাকে বাঁচাতে এই ঘরোয়া ওষুধটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।
  • এই ওষুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা পেশি গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো যদি পেশীবহুল শরীর পেতে চান, তাহলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন এই ঘরোয়া ওষুধটি।
  • যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের তো এই ওষুধটি খাওয়া খুব জরুরি। কারণ পেঁপে এবং মধুতে রয়েছে বেশ কিছু লিপিডস এবং পটাশিয়াম, যা মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • আপনি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়লে পেঁপে এবং মধু মিশ্রিত এই ওষুধটি খাওয়া শুরু করে দিন। কারণ এতে রয়েছে গ্লকোসিনোলেট নামে একটি উপাদান, যা সেলের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ক্লান্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।
  •  ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে ওই ওষুধটি। এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
বিস্তারিত

Monday, December 18, 2017

যাইতুনের (জয়তুন, জলপাই) তেলের অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

শরীর যেমন, তেমনি সেখানে রোগের অভাব নেই। রোগ যেমন আছে তেমনি আছে তার প্রতিকার তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের পথই উত্তম। যাইতুনের তেল ব্যবহারে কী কী রোগকে প্রতিরোধ করা যায় আজ আমরা তার কিছুটা জেনে নিই।

যে ফলগুলোর প্রসঙ্গ মহাগ্রন্থ আল কোরআনে এসেছে তার অন্যতম হলো জয়তুন বা জলপাই। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আর তিনি এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপাদন করেন ফসল। জয়তুন (জলপাই) খেজুর, আঙুর ও সব ধরনের ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে! (সূরা নাহ্ল : ১১)।

জয়তুন বা জলপাই হচ্ছে এক ধরনের টক ফল। এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া ও তুরস্কের সামুদ্রিক অঞ্চল, ইরানের উত্তরাঞ্চল তথা কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণে ভালো জন্মে। তাছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তেলের কারণে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জলপাই গাছ এক ধরনের চিরহরিৎ বৃক্ষ। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এশিয়া, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার কিছু অংশে এটা ভালো জন্মে। জলপাই গাছ ৮ থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা ৪ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ১ থেকে ৩ সেন্টিমিটার প্রশস্ত হয়ে থাকে! জলপাই ফল বেশ ছোট আকারের, লম্বায় ১-২.৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।
যুদ্ধে শান্তির প্রতীক জলপাইয়ের পাতা এবং মানুষের শরীরের শান্তির দূত জলপাইয়ের তেল, যা অলিভ অয়েল (olive oil) আরবিতে জয়তুন, (জলপাই তেল) যেটাকে liquid gold বা ‘তরল স্বর্ণ’ নামেও ডাকা হয়। হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা জয়তুন (জলপাই) তেল ভক্ষণ করো এবং শরীরে মাখাও! (ইবনে মাজা : ৩৩২০)। সেই গ্রিক সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকেই এ তেল ব্যবহার হয়ে আসছে রন্ধন কর্মে ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। আকর্ষণীয় এবং মোহনীয় সব গুণাবলিই এ জলপাই তেলের মধ্যে রয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশে এ তেলের ব্যবহার তেমন একটা নেই।

শুধু শীতকালে শরীরে মাখা বা মালিশের কাজে ব্যবহার হয়, তাও খুবই কম! এছাড়া এ তেল খাওয়ার কাজে ব্যবহার নেই বললেই চলে। তবে জলপাই ফল সবাই খায়। আমাদের দেশে জলপাই খুবই সস্তা এবং এর আচার বেশ জনপ্রিয় এ দেশে। জলপাই ফলের দামের তুলনায় এর তেলের দাম আকাশচুম্বী! এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে. যেগুলো আমাদের শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘খাবারে জলপাইয়ের তেল ব্যবহারের ফলে শরীরের ব্যাড কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ হয় এবং গুড কোলেস্টেরল জন্ম হয়। তাছাড়া পাকস্থলীর জন্য এ তেল অনেক উপকারী।

দেহের এসিড কমায়, যকৃৎ (liver) পরিষ্কার করে, যা প্রতিটি মানুষের ২-৩ দিনে একবার করে দরকার হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য দিনে এক চামচ জলপাই তেল বহু উপকারী। সাধারণত সন্তান জন্মের পর মায়েদের পেটে সাদা রঙের স্থায়ী দাগ পড়ে যায়, গর্ভধারণ করার পর থেকেই পেটে জলপাই তেল (olive oil) মাখলে কোনো জন্ম দাগ পড়ে না। এটা একটি পরীক্ষিত ব্যাপার। জলপাই তেল গায়ে মাখলে বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক কুঁচকানো প্রতিরোধ হয়। 

কোলেস্টেরল কমায়:- গবেষকরা ২.৫ কোটি (25 million) লোকের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন, ‘প্রতিদিন দুই চামচ কুমারী’ জলপাই তেল (virgin olive oil) এক সপ্তাহ ধরে খেলে ক্ষতিকারক এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমায় এবং উপকারী এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরল বাড়ায়। 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে :- স্প্যানিশ (span) গবেষকরা দেখেছেন, খাবারে জলপাই তেল ব্যবহার করলে ক্লোন ক্যান্সার (colon cancer) প্রতিরোধ হয়। আরও কিছু গবেষক জানিয়েছেন, ‘এটা ব্যথানাশক (pain killer) হিসেবেও কাজ করে। 

উত্তম প্রতিষেধক:- তাছাড়া গোসলের পানিতে ১ থেকে ৪ চামচ মিশিয়ে গোসল করলে শরীর আরামদায়ক অনুভূত হয়। মেয়েদের রূপ বর্ধনের জন্য এটা অনেকটাই কার্যকর। জলপাই তেল যে কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় তা আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম জাওযি (রহ.) তার (The medicine of the prophet) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন! বাজারে কয়েক ধরনের জলপাই তেল (অলিভ অয়েল) পাওয়া যায়। যেমন : এক. Extra virgin. এটা প্রথম ধাপ, সরাসরি জলপাই থেকে তৈরি। এসিডের পরিমাণ এক শতাংশের নিচে। রান্নার জন্য বা সালাদে গবেষকরা এর প্রস্তাব করেন। দুই. virgin - Extra virgin এর পরের ধাপ এটা। এতে এসিডের পরিমাণ ১ থেকে ২ শতাংশ থাকে। তিন. Refine pure তৃতীয় ধাপ, এতে এসিডের পরিমাণ ৩ থেকে ৪ শতাংশ।জয়তুন একাধারে ফল ও তরকারি হয়ে থাকে। এর তেল সর্বাধিক পরিষ্কার ও স্বচ্ছ এবং অসংখ্য গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকে। এটি হাজারো রোগের উত্তম প্রতিষেধক!

ক্যান্সার প্রতিরোধক :- কালো জলপাই 'ই' ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এটা শরীরের চর্বিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। শরীরের ডিএনএ সেল নষ্ট হয়ে গেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ আশঙ্কা থেকে রক্ষা করতে পারে জলপাই তেল। এ তেল ব্যবহারে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় কম থাকে। মাছের তেলেও এ উপকার পাওয়া যায়।

চামড়া ও চুলের স্বাস্থ্য:- কালো জলপাই ফ্যাটি এসিড এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসে সমৃদ্ধ। এতে আছে ভিটামিন 'ই'। এটা শরীরে যেভাবে প্রয়োগ করা হোক না কেন আলট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন থেকে চামড়াকে রক্ষা করে। যা স্কিন ক্যান্সার থেকে মানুষকে রক্ষা করে। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার পর কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল মুখে মাখলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। গোসলের আগেও জলপাই তেল শরীরে মাখলে অনেক ধরনের সমস্যা থেকে চামড়া ভালো থাকে। নিজেকে শক্তপোক্ত এবং কর্মক্ষম রাখতে যেমন খাবারের প্রয়োজন তেমনি চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য চুলেরও খাবারের প্রয়োজন। চুলের খাবার হিসেবে জলপাই তেল দারুণ কার্যকরী। ডিমের কুসুমের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল নিয়ে চুলে ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়।

আয়রনের ভালো উৎস:- কালো জলপাই আয়রনে সমৃদ্ধ। শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দিলে আমাদের টিস্যুগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। আর তখনই আমরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি অথবা আমাদের ঠাণ্ডা লাগে। শুধু তা-ই নয়, আয়রন শরীরে শক্তি উৎপাদনের দারুণ এক উৎস। সর্বোপরি শরীরের সব অঙ্গের কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত আয়রন প্রয়োজন।

চোখের উপকারে জলপাই:- কালো জলপাই চোখের জন্য দারুণ উপকারী। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন যে পরিমাণ ভিটামিন 'এ' প্রয়োজন হয় তার দশ ভাগের এক ভাগ সহজেই পাওয়া যায় এক কাপ কালো জলপাইয়ে। এই পরিমাণ ভিটামিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। ভিটামিন 'এ'র অভাব হলে রাতকানা রোগ দেখা দিতে পারে। গ্লুকোমাসহ চোখের অন্য সব রোগ থেকে মুক্ত থাকার জন্য ভিটামিন 'এ' দরকার।
বিস্তারিত

Monday, December 8, 2014

স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সময় সকাল সাড়ে ৬টা, বলছেন চিকিৎসকরা

স্ট্রোক অর্থ কিন্তু হার্ট অ্যাটাক নয়। আমরা প্রায়ই স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক গুলিয়ে ফেলি। স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের রোগ। যদি কোনো কারণে (আঘাতজনিত কারণ ছাড়া) মস্তিষ্কের কোনো অংশের রক্ত চলাচল বাধা প্রাপ্ত হয় এবং তা ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগী মৃত্যুবরণ করে, তা হলে এ অবস্থার নাম স্ট্রোক। ৮০ শতাংশ ইসকেমিক স্ট্রোক (সেরিব্রাল থ্রোমবোসিস অথবা অ্যামবোলিজম)। ইসকেমিক স্ট্রোক মস্তিষ্কে ও রক্তনালির রক্তে জমাট বেঁধে অথবা শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে বিশেষ করে হার্ট থেকেজমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে নিয়ে রক্তনালির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। বাকি ২০ শতাংশ স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত।

স্ট্রোকের কারণ

বার্ধক্য, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, ডায়াবেটিস মেলিটাস (বহুমূত্র), রক্তে বেশি কোলেস্টেরল এবং হার্টের ভাল্বের রোগ, অনিয়মিত হার্টবিট, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি।

উপসর্গ ও লক্ষণ

স্ট্রোকের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বমি। কোনো ক্ষেত্রে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, শরীরের এক বা একাধিক অংশ অবশ হয়ে যাওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কথা বলা বন্ধসহ প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।

স্ট্রোকের প্রধান উপসর্গ

প্যারালাইসিস এ রোগের প্রধান উপসর্গ। সাধারণত একদিকের হাত-পা, কখনো কখনো মুখম-লের একাংশ প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। স্ট্রোকের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী প্যারালাইসিসের ধরন ও পরিমাণ নির্ভর করে। কারো আংশিক প্যারালাইসিস হয় আবার কেউ হাত বা পা একেবারেই নাড়াতে পারেন না। কারো হাত-পায়ের অনুভূতি ঠিক থাকে, কারো থাকে না। যাদের ডানদিকের প্যারালাইসিস হয়, তাদের কথা বলতে কষ্ট হয় অথবা তারা কথা বলতেই পারেন না কিংবা বুঝতে পারেন না। এ ধরনের রোগীর ভালো হতে সময় লাগে বেশি। যাদের ইনফ্রাকশন ধরনের স্ট্রোক হয়, তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা কম থাকলেও ভালো হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং অনেক রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকেন। হিমোরেজ বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের রোগীদের অবস্থা, লক্ষণ ও উপসর্গ নির্ভর করে ব্রেইনের কোন অংশ কীভাবে কতটুকু ড্যামেজ হয়েছে তার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। রক্তচাপ বেশি থাকে। রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। যারা প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেন, দ্বিতীয়বার রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কম থাকে, তাদের প্যারালাইসিস অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ভালো হয়। স্থায়ী পঙ্গুত্বের আশঙ্কাও কম থাকে।

স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সময়

সকাল সাড়ে ৬টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সবথেকে বেশি। বস্টনের ব্রিগহ্যাম অ্যান্ড উইমেন্স হসপিটাল অ্যান্ড ওরগ্যান হেল্থ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনির্ভাসিটির একটি সমীক্ষা দাবি করেছে এমনটাই।

গবেষকরা বলছেন প্রোটিন, প্লাসমিনোজেন অ্যাকটিভিটের ইনহিবিটর-1 (PAI-1), কারণে সকালবেলা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। গবেষক ফ্রাঙ্ক শিয়র জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ শরীরে PAI-1 সবথেকে বেশি মাত্রায় থাকে।

অন্য গবেষক স্টিভেন শি-র মতে সকালবেলা মানুষের সার্কাডিয়ান সিস্টেমে PAI-1 সবথেকে বেশি মাত্রায় সঞ্চালিত হয়। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হলে সেই সঞ্চালনের মাত্রা কম হয়। স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনকারী ধমনী বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে প্রয়োজনীয় রক্ত মস্তিষ্কে পৌছতে পারে না। যে কোনও ধরণের স্ট্রোক পুরুষদের থেকে মহিলাদের জন্য বেশি ক্ষতিকারক বলেও মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।
বিস্তারিত