Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts

Sunday, May 20, 2018

রোযায় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনাকে যা যা খেতে হবে ?

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারণ এক সমস্যা হলেও এই সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের কাছে অত্যন্ত আতঙ্কের। কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ হল শরীরে ঠিক মতো হাইড্রেশন না হওয়া। আর তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা তরল প্রয়োজন। আর রোযায় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে পেটপুড়ে খেলে হজমের সময় নানা সমস্যা করে। ফলের মধ্যে প্রচুর পানি বা রস থাকার পাশাপাশি থাকে ফাইবারও। যা হজমে সাহায্য করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খেতে পারেন এসব জুস-

মুসাম্বির রস: পৌষ্টিকনালী থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে মুসাম্বির রস। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এই রস কাজে দেয়।

আনারসের রস: আনারসের মধ্যে থাকা উত্সেচক ব্রোমেলিন হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

তরমুজের রস: গরম কালে শরীরে ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাই এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। আবার গরম কালে প্রচুর তরমুজ ওঠে। তরমুজের রস এই সময় পেট ঠান্ডা রাখতে, হজমে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

লেবুর রস: লেবুতে থাকা ভিটামিন সি হজমে ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আপেলের রস: আপেলের মধ্যে সরবিটল যা শরীরে লাক্সেটিভের কাজ করে। আপেলে থাকা আয়রনও হজমে সাহায্য করে।

কমলার রস: ভিটামিন সি ও ফাইবারে পরিপূর্ণ কমলা লেবু। যা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

শশার রস:
শশার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। যা শরীরে ন্যাচারাল লাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে।
বিস্তারিত

Saturday, May 12, 2018

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে প্রতিদিন পান করুন লবঙ্গ চা

প্রাকৃতিক শক্তিতে ভরপুর এই বিশেষ চা-টি শুধু আপনার রসনা তৃপ্তি করবে না, সেই সঙ্গে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতেও নানাদিক থেকে প্রতিনিয়ত সাহায্য় করে যাবে। তাই তো বলি আর অপেক্ষা নয়, আজই বাজার থেকে লবঙ্গ কিনে এনে বানিয়ে ফেলুন এই হার্বাল চাটি। আর চেখে দেখুন কেমন লাগে! আসলে লবঙ্গের শরীরে উপস্থিত ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন...

সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়:  একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লবঙ্গ চা খাওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে দেহের প্রতিটি কোনায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কর্মক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে শরীরের সচলতাও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

রক্তে শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে:  গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগের প্রকোপ যে হারে বেড়েছে তাতে সবারই প্রতিদিন লবঙ্গ চা খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে থাকা নাইজেরিসিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমে:  লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ এই ধরনের হাড়ের রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এক কাপ লবঙ্গ চা বানিয়ে কয়েক ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। তারপর সেই ঠান্ডা চা ব্যথা জায়গায় কম করে ২০ মিনিট লাগালে দেখবেন যন্ত্রণা একেবারে কমে গেছে। প্রসঙ্গত, জয়েন্ট পেন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দাঁতের ব্যাথা কমায়:  লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। তাই তো এবার থেকে দাঁতে অস্বস্তি বা মাড়ি ফোলার মতো ঘটনা ঘটলে এক কাপ গরম গরম লবঙ্গ চা খেয়ে নেবেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:  একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত এক কাপ করে লবঙ্গ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরে অন্দরে অ্যান্টি-ক্যান্সার প্রপাটিজের পরিমাণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, শরীরের কোনও জায়গায় টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সাইনাসের প্রকোপ কমায়:  মাঝে মধ্য়েই কি সাইনাসের আক্রমণ সহ্য করতে হয়? তাহলে তো বলতে হয় এই প্রবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা। কারণ লবঙ্গ যে এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাজে আসতে পারে, সে বিষয়ে কি জানা ছিল? আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে উপস্থিত ইগুয়েনাল নামে একটি উপাদান সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আজও এই ধরনের অসুখের চিকিৎসায় লবঙ্গের উপরই ভরসা করে থাকেন।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:  লাঞ্চ বা ডিনারের আগে লবঙ্গ দিয়ে বানানো এক কাপ গরম গরম চা খেলে হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে পেটের দিকে রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটে। ফলে খাবার হজম হতে সময় লাগে না। তাই যাদের কম ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খেলেও বদ-হজম হয়, তারা লবঙ্গ চা পান করে একবার দেখতে পারেন। এমনটা করলে উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি।

ত্বকের সংক্রমণ সারাতে কাজে আসে:  এবার থেকে কোনও ধরনের ত্বকের সংক্রমণ হলেই চোখ বুজে ক্ষতস্থানে লবঙ্গ চা লাগাতে ভুলবেন না। এমনটা করলে দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারে সময়ই লাগবে না। আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণজনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না।

নিমেষে জ্বরের প্রকোপ কমায়:  লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে এবং ই, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে শরীরে উপস্থিত ভাইরাসেরা সব মারা পরে। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
বিস্তারিত

Sunday, April 15, 2018

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান, মৃত্যু ১৪৪ জনের! এতো জটিলতা কেন ?

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান। গত ১৩ বছরে বিশ্বব্যাপী রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মারা গেছে ১৪৪ জন এবং আহত হয়েছে এক হাজার ৩৯১। রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে নানা ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন ১০ হাজার অভিযোগ থেকে এ পরিসংখ্যানটি পাওয়া গেছে। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে গবেষণা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই ফলাফল তুলে ধরেছে।

সম্প্রতি ঢাকার একজন বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজির চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: মজিবুর রহমান ভূঁইয়া সিঙ্গাপুরে রোবোটিক সার্জারি করাতে গিয়ে মারা গেছেন। তিনি ইউরোলজি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। ঢাকার অনেক ইউরোলজিস্ট দৈনিক এ ধরনের অস্ত্রোপচার করে থাকেন সফলতার সাথে। মরহুম অধ্যাপক মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক মজিব অধিকতর সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের জন্য গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে রোবোটিক অস্ত্রোপচার করতে। কিন্তু রোবটের ভুল প্রগ্রামিংয়ের কারণে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মুজিবুর রহমানের একটি প্রধান আর্টারি কেটে ফেলে। ফলে তার পেট মুহূর্তেই রক্তে ভরে যায় এবং তিনি রক্ত স্বল্পতায় দ্রুত মারা যান। অথচ এই রোগের অসাধারণ কার্য্যকর ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথিক সিকিৎসা শাস্ত্রে।

চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে ঢাকার একজন বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক মজিবুর রহমানকে অনুরোধ করেছিলেন যেন অস্ত্রোপচারটি ওই অধ্যাপকের কাছেই সম্পন্ন করেন কিন্তু তিনি আগে থেকেই মনস্থির করেছিলেন যে, তিনি ইউরোলজিস্টের হাতে করবেন, সিঙ্গাপুরে গিয়ে রোবোটিক অস্ত্রোপচারই করবেন। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, ‘অধ্যাপক মজিবুর রহমান আরসিসি রেনাল সেল কার্সিনোমা’ রোগে ভুগছিলেন। এটা এক ধরনের ক্যান্সার।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশে রোবোটিক সার্জারি করতে গিয়ে সমস্যায় আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। পরে তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং সমস্যা আক্রান্ত স্থানটি ওপেন করে দ্রুততার সাথে সার্জারি করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়।

রোবোটিক সার্জারি বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা: মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈপুণ্য ও উৎকর্ষতা না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় হয়তো রোগী জীবনের জন্য বেঁচে গেলেও শারীরিক অথবা মানসিকভাবে পঙ্গুতের শিকার হতে পারেন। অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, মেশিন বলুন অথবা রোবটই বলুন এর চালকের অতি উচ্চ মাত্রার প্রশিক্ষণ ও মেশিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকতে হবে এবং একই সাথে জবাবদিহিতা না থাকলে এসব থেকে কল্যাণের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

এফডিএ তাদের গবেষণায় বলেছে, রোবোটিক সার্জারিতে মৃত্যুসংক্রান্ত রিপোর্ট এলেও এ সম্বন্ধে তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়। ফলে ‘চিকিৎসকের ভুলের কারণে রোগী মারা গেছে, না মেশিনের ভুল ছিল অথবা সার্জারির পর অন্য কোনো কারণে মারা গেছে’ এ সম্বন্ধে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না।

এফডিএ’র গবেষণায় বলা হয়েছে ১০ হাজার রোবোটিক সার্জারির তথ্য থেকে জানা গেছে, আট হাজার ৬১টি অস্ত্রোপচারের সময় রোবটের ভুলের কারণে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি সমস্যা আক্রান্ত হয়েছে। এফডিএ বলেছে, গাইনি ও ইউরোলজির অস্ত্রোপচারে অপেক্ষাকৃত কম সমস্যা হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অথবা অন্যান্য সমস্যার অভিযোগ এসেছে কার্ডিওথোরাসিক, মাথা ও ঘাড়ের অস্ত্রোপচারে।

তবে যুক্তরাজ্যের রয়াল কলেজ অব সার্জনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবোটিক সার্জারি ইনফেকশনের ঝুঁকি কমায় এবং রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি তার উল্টোটি ঘটছে। 

মানুষ একটি সহজ বিষয়কে নিজেরাই জটিল করে তুলে এবং নিজেরাই সেই জটিলতায় ভুগে এর জন্য তারা কখনো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে দোষারোপ করতে পারবে না। কারণ প্রতিটি সমস্যারই সহজ সমাধান রয়েছে। ইউরোলজি সংক্রান্ত নতুন এবং ক্রনিক সকল সমস্যারই সুচিকিৎসা রয়েছে হোমিওতে এবং হাজার হাজার মানুষ সুস্থ হচ্ছে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে। আপনার সমস্যায় অযথাই সার্জারিতে না গিয়ে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন - আশা করি আপনাকে বিফল হতে হবে না। 
বিস্তারিত

Wednesday, February 21, 2018

গরমে যখন তখন ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি… কিছু বিষয়ে সতর্ক হোন

ফ্রিজের ঠাণ্ডা করা পানি পান করলে মেদ ঝরে। অনেকেই এই যুক্তিকে পূঁজি করে তীব্র গরমের সময় যখন তখন ফ্রিজের পানি খেয়ে তৃপ্ত হন। কাঠফাটা রোদের মধ্যে স্বস্তি পাওয়ার এটাই যেন একমাত্র উপায়। ঠাণ্ডা পানির উপকারিতার পক্ষে ব্যাখ্যা হল, ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রা আর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার মধ্যে রয়েছে অনেকটা পার্থক্য।

আপনার পানকৃত ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক করতে শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে, এতে মেদ ঝরতে পারে। তবে এই মেদ হ্রাসের পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই এতে খুশি হওয়ার কারণ নেই। বরং ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করার ক্ষতিকর দিকটি উপকারের চেয়ে অনেক প্রকট।

খাবার খাওয়ার মাঝে কিংবা শেষে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করলে তা খাবারের চর্বি অংশটুকু কঠিন অবস্থায় পরিণত করে। ফলে শরীরে মেদ কমার চেয়ে বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি। একই সঙ্গে ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে শরীর ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর এ কারণে খাবার পরিপাকের প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ঠাণ্ডা পানির সহায়তায় খাবারের সেই কঠিন হওয়া অতিরিক্ত চর্বিকে পরিপাক করাটা শরীরের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এসব অতিরিক্ত চর্বি কখনো কখনো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়। ধমনিতেও ধীরে ধীরে চর্বি জমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সুস্থ থাকার জন্য শরীরের তাপমাত্রা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের তাপমাত্রার মধ্যে যোগসূত্র থাকাটা খুব জরুরি। অথচ আমরা বাইরে থেকে ঘরে এসে তড়িঘড়ি করে ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে খেয়ে ফেলি। এটা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি তাহলে কখন পান করবেন? পিপাসা হচ্ছে সেই অনুভূতি, যা খুব সহজেই জানিয়ে দেয়, শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে। তাই তৃষ্ণা মেটাতে তাড়াতাড়ি পানি পান করতে হবে। সুতরাং একমাত্র পরিতৃপ্তির জন্য মাঝেমাঝে স্বাভাবিক পানির সঙ্গে ফ্রিজের পানি মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই সেই পানির শীতলতা থাকবে পরিবেশ ও শরীরের তাপমাত্রার সহ-অবস্থানে।

যাদের অ্যাজমা, টনসিলাইটিস কিংবা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি একেবারেই নিষিদ্ধ। আবহাওয়া যতই গরম থাকুক না কেন ঠাণ্ডা পানিতে আপনার শরীরের ক্ষতি করে বসতে পারে। তাই সাবধান থাকা জরুরি।
বিস্তারিত

Sunday, February 4, 2018

কোন রক্তের গ্রুপে কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত

ডায়েট চার্ট মেনে অনেকেই খাওয়া দাওয়া করে থাকেন। তাতে শরীর সুস্থ যেমন থাকে, তেমন মুডও থাকে ভাল। তবে লো-ক্যালরি, হাই এনার্জি ডায়েটেও অনেকে যেন ঠিক মনের মতো ফল পাচ্ছেন না। মানে, ওজন ঝরিয়ে ফেলে ঠিক যেমনটা স্লিম হতে চান তেমনটা কিছুতেই যেন হয়ে ওঠছে না। এর কারণ জানেন? গবেষকরা জানাচ্ছেন, আমরা আমাদের রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী ডায়েট মেনে চলি না বলেই এমনটা হয়ে থাকে।

নিউরোপ্যাথ ড. পিটার ডি’অ্যাডামো জানান, রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী খাবার খেলে শুধু যে ওজম কমে তা নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়, সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে। জেনে নিন কোন গ্রুপের রক্ত হলে ডায়েটে কোন ধরনের খাবার রাখা উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘ও’:- এ ধরনের রক্ত যাদের রয়েছে তারা উচ্চমাত্রায় প্রোটিন খেলে যথেষ্ট উপকৃত হবে। এক্ষেত্রে বেশি করে সাদা মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, মাছ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সবজি এবং নানা ধরনের দানাযুক্ত খাবার যথেষ্ট উপকার করবে। সীম ও বীজধরনের খাবার এবং ডেইরি পণ্য খাওয়া উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘এ’:- এ রক্তের গ্রুপের মানুষদের জন্য মাংসবিহীন খাবারই সবচেয়ে উপযুক্ত। এক্ষেত্রে সবজি ও ফলমূল হতে পারে সবচেয়ে আদর্শ খাবার। এছাড়া নানা ধরনের ডাল, দানাদার খাবার, লাল আটার রুটি, সীমের বিচি ও বিভিন্ন ধরনের বীজ খাওয়া উচিত বেশি করে।

রক্তের গ্রুপ ‘বি’:- ‘বি’ গ্রুপের রক্ত যাদের রয়েছে তাদের প্রধানত সবুজ সবজি, ডিম, কিছু ধরনের মাংস ও কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। তাদের ভুট্টা, গম, ডাল, টমেটো ও চিনাবাদাম এড়িয়ে চলা উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘এবি’:- রক্তের গ্রুপ যাদের ‘এবি’ তাদের খাবারে থাকা উচিত সয়াবিন, সামুদ্রিক খাবার, দুগ্ধজাত সামগ্রী ও সবুজ সবজি। এছাড়া ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, ধূমপান ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বর্জন করা উচিত।
বিস্তারিত

Thursday, January 25, 2018

দাঁত রোগমুক্ত রাখতে করণীয় এবং দাঁতের যত্নে প্রাকৃতিক ঔষধগুলি কি কি জেনে নিন।

বাংলায় একটা কথা আছে, যা প্রতিটি মানুষই তার জীবনকালে একবার না একবার শুনেই থাকেন, তা হল দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে হয়, না হলে পরে আফসোস করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। আপনাকে যাতে এমন কথা শুনতে না হয় সেজন্যই আজ এই লেখায় দাঁত বাঁচাতে এমন সহজ কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে আপনার দাঁতের কোনও ক্ষয় তো হবেই না, সেই সঙ্গে বুড়ো বয়সে দাঁত পড়ে যাওয়ার চিন্তাও দূর হবে
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝুন। একটা মধুর হাসি তখনই সম্পূর্ণ হবে, যখন তার সঙ্গে থাকবে হিরের মতো ঝকঝকে দাঁত। মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। শরীরের সঙ্গে দাঁতেরও যত্ন নেওয়া দরকার। দাঁত ভালো রাখতে আমাদের নিয়মিত চিকিত্সকের পরামর্শসহ আরও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ

দাঁতের কালো দাগ: সমস্যা এবং সমাধান

দাঁত থাকুক সুন্দর, ঝকঝকে, রোগমুক্ত; কে না চায় এমন। কিন্তু হয়ে উঠে কি? কথায় বলে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্জাদা বুঝে না। এটাই হয় মূলত। সাধারণত দেখা যায় দাঁতের চিকিৎসা সময় মত না করানোর ফলেই দাঁতের যত সমস্যার শুরু হয়। সময় মত চিকিৎসা করালে যে সমস্যা কোন সমস্যাই না, অসময়ে চিকিৎসা করাতে গেলে ঐ সমস্যাই বড় সমস্যা হয়ে দাড়ায়।

অনেকেরই দেখা যায় দাঁতের মাড়ির ওপর কালো দাগ পড়েছে। আর সেখানে প্রচন্ড ব্যাথা, গর্ত হওয়া বা ফাঁকা হওয়া, রক্ত পড়া সহ বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা অনেকেই দাতে লবন এবং সরিষার তেল দিয়ে দাঁত মাজি। কিন্তু ডাক্তারদের মতে এটা করা ঠিক নয়। বরং দাঁতে কালো দাগ দেখা দেবার সাথে সাথে আমাদের যা করা উচিৎ তা হলো একজন দাঁতের ডাক্তার দেখানো।

মূলত দাঁতে কালো দাগ দেখা মানে হচ্ছে এটি দাঁত ক্ষয়ের প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যা। প্রথম অবস্থাতেই এটির চিকিৎসা করালে এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা ফিলিং করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের ব্যয়বহুল রুট ক্যানেল করানোর মত ঝামেলা এড়ানো যায় সহজেই।

আর আপনি যদি সময় মত দাঁতের এই কালো দাগ দূর করে ফিলিং করান, তাহলে দাঁতে অ্যাপিক্যাল অ্যাবসেস হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। আর না করালে এবং অ্যাপিক্যাল অ্যাবসেস হলে রুট ক্যানেল করে ফিলিং করালে যদিও দাঁত রক্ষা করা যায়, কিন্তু তা খুবই ব্যয়বহুল।

কিছু নিয়ম মানুনঃ- দাঁতের নিয়মিত সুরক্ষার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। এগুলি মেনে চললে অনেকাংশেই আমরা আমাদের দাঁতকে রাখতে পারবো ঝকঝকে সাদা, রোগমুক্ত।

প্রতিদিন সকালের নাস্তার পর, এবং রাত্রে ঘুমাবার আগে দাঁত ব্রাশ করুন।
(রমজানে,সেহেরী খাওয়ার পর)
  • দিনে মাত্র একবার দাঁতব্রাশ করলে তা অবশ্যই রাত্রে ঘুমাবার আগে দেড় থেকে দুমিনিট দাঁত ব্রাশ করা শ্রেয়, এর বেশী বা কম নয়
  • ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁকার মধ্যে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করতে পারেন
  • যে কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, চুইংগাম, কেক, ফাস্টফুড খাবার পর অবশ্যই পানি দিয়ে ভালো ভাবে কুলকুচি করবেন
  • মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন, তবে টানা ব্যবহার করবেন না, ৪/৫ দিন ব্যবহারের পর আবার ৪/৫ দিন ব্যবহার বাদ দিন
  • অতিরিক্ত ফ্লুরাইড ব্যবহার করে এমন টুথপেষ্ট লম্বা সময় ব্যবহার করবেন না, এতে আপনার দাঁতে সাদা দাগ পড়া সহ ভেঙ্গে যেতে পারে
  • সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করবার নিয়মটি আপনার দাঁতের ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো ভাবে শিখে নিন
  • দাঁতে সমস্যা থাকুক চাই না থাকুত, বছরে অন্তত ২/১ বার দন্ত চিকিৎসককে দেখানো উচিত

দাঁতের যত্নে কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদানগুলো

দাঁতের ক্ষয় হওয়ার পেছনে মূলত আমাদের খাদ্যাভ্যাস অনেকাংশে দায়ী থাকে। এই যেমন সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে যে যে খাবারগুলি বিশেষ করে দাঁতের ক্ষয় করে থাকে, মিষ্টিজাতীয় খাবার তার মধ্যে অন্যতম। শুধু কী আর খাবার, সেই সঙ্গে খাবার খেয়ে ঠিক মতো মুখ না ধোওয়া, দাঁতের যত্ন না করার মতো বিষয়ও দাঁতের ক্ষয়ের পিছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এই বদঅভ্যাসগুলি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি নিয়ম করে এই লেখায় আলোচিত ঘরোয়া দাওয়াইগুলো মেনে চলা যায়, তাহলে দাঁত নিয়ে আর কখনও চিন্তাই করতে হবে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী।

১. তেল মালিশ:- শরীরকে চাঙ্গা রাখতে তেল মালিশের উপকারিকাতর কথা শুনেছি। কিন্তু দাঁতে তেল মালিশ! এই ব্যাপারটা তো ঠিক বুঝলাম না ভাই? আসলে দাঁতের তেল মালিশ বলতে সহজ কথায় বিশেষ কিছু তেল দিয়ে কুলকুচি করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১ চামচ নারকেল তেল নিয়ে কুলকুচি করার পর যদি গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা যায়, তাহলে দাঁতের ক্ষয় হওয়ার ভয় অনেকটাই কমে আসে। প্রসঙ্গত, নারকেল তেল দিয়ে কম করে ২০ মিনিট কুলি করতে হবে, তবেই মিলবে সুফল!

২. হলুদ:- এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ দাঁতে পোকা লাগতে দেয় না। সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের হাত থেকে দাঁতকে রক্ষা করতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এক্ষেত্রে প্রথমে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়োতে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটা ব্রাশে লাগিয়ে দিনে কম করে দুবার দাঁত মাজতে হবে। এমনটা যদি কয়েকমাস করা যায়, তাহলে দাঁত নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না।

৩. পেয়ারা পাতা:- দাঁতের সুরক্ষায় এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান দাঁতের স্বাস্থ্যকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল দাঁতের সুরক্ষায় কীভাবে ব্যবহার করতে হবে পেয়ারা পাতাকে? এক্ষেত্রে ১-২টা পেয়ারা পাতা নিয়ে কিছুক্ষণ চিবিয়ে ফেলে দিতে হবে। এমনটা করলে পেয়ারা পাতার রস দাঁতের ভেতরে প্রবেশ করে নিজের খেল দেখানোর সুযোগ পেয়ে যাবে। আর এমনটা হওয়া মাত্র দাঁতের শক্তি বাড়তে শুরু করবে।

৪. গ্রিন টি:- শরীরকে সুস্থ রাখতে গ্রিন টি-এর যেমন কোনও বিকল্প হয় না, তেমনি দাঁতের সুরক্ষাতেও এই পানীয়টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লেগে থাকে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি খেলে দাঁতের বেশ উপকার হয়, সেই সঙ্গে শরীররে প্রতিটি অঙ্গ এতটাই কর্মক্ষম হয়ে ওঠে যে সার্বিকভাবে শরীরের উন্নতি ঘটে।

৫. তুলসি পাতা:- মুখের ভেতরে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলার মধ্যে দিয়ে তুলসি পাতা একদিকে যেমন মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, তেমনি ক্যাভিটি এবং প্লাকের মতো সমস্যাকেও ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা নিয়ে রোদে শুকিয়ে একটা পাউডার বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পাউডার দিয়ে প্রতিদিন দাঁত মাজলেই দেখবেন উপকার পেতে শুরু করেছেন।

৬. পিপারমেন্ট পাতা:-  ২০১৩ সালে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই পাতাটি নিয়মিত খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে পোকা লাগার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। কারণ পিপারমেন্ট পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো পিপারমেন্ট পাতা ফেলে পানিটা ফুটিয়ে নিন। যখন দেখবেন পানিটা ভাল রকম ফুটতে শুরু করেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে, পানিটা ছেঁকে নিয়ে ভাল করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

৭. আমলকি:- এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরে প্রবেশ করার পর শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় না, সেই সঙ্গে দাঁতের বাইরের স্তরকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে ক্যাভিটি হোক কী ব্যাকটেরিয়া, কোনও কিছুই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই তো দাঁতের পাশাপাশি শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিন ১-২টা আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
বিস্তারিত

Wednesday, January 24, 2018

নিয়মিত এক কাপ চা পান করার যে উপকারিতাগুলি আপনি জানেন না !!

শরীরের ঝিমভাব কাটাতে অনেকেই চা পান করে থাকেন। কারও পছন্দ চিনি ছাড়া লাল চা, কারও আবার বেশি দুধ ও চিনি সহযোগে কড়া চা। চায়ের কতই না রূপভেদ। কিন্তু ধর্ম-বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ একটা ব্যাপারে একমত হবেনই, চা ছাড়া দিন যে কাটে না।

সম্প্রতি চায়ের গুণাগুণ সম্পর্কে একটি নতুন সমীক্ষা হয়েছে। বের হয়েছে তার ফলাফলও। যেখানে বলা হচ্ছে, যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের বুদ্ধি, একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা যারা চা পান করেন না, তাদের চেয়ে বেশি।

গবেষকরা বলছেন, চায়ের মধ্যে ক্যাফিন ও থিয়ানিন রয়েছে। এই উপাদানগুলো মানুষকে সদা সতর্ক থাকতে সাহায্য করে। একাগ্রতা বাড়ায়। মস্তিষ্কে ‘ক্রিয়েটিভ জুসে’র প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় এক কাপ চা।

এই তত্ত্ব হাতেকলমে প্রমাণ করতে ২৩ বছর বয়সী ৫০ জন যুবককে দুটি দলে ভাগ করা হয়। তাদের মধ্যে একদলকে শুধু পানি দেয়া হয়, ওপর দলটিকে দেয়া হয় পানি ছাড়াও নিয়মিত লিকার চা পান করতে। দুটি দলকেই নানা কাজের ভার দেয়া হয়। তাদের কিছু অঙ্ক কষতে দেয়া হয়, ইতিহাসের কয়েকটি প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়।

এবার ফল যা বলছে, তাতে দেখা যায়, যারা নিয়মিত চা পান করেছেন, তাদের স্কোর ৬.৫৪। আর যারা চা পান করেননি, তাদের গড় স্কোর ৬.০৩।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, বারবার চা চাওয়ার অভ্যাসে গিন্নি বিরক্ত হলেও এই প্রবণতা কিন্তু মোটেও ক্ষতিকারক নয়। তবে ঘনঘন পান করার অভ্যাস থাকলে দুধ-চিনি ছাড়া লিকার চা বা গ্রিন টি পান করুন। এতে সুস্থও থাকবেন বেশিদিন, আর বাড়বে বুদ্ধি-একাগ্রতাও।
বিস্তারিত