Showing posts with label পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা. Show all posts
Showing posts with label পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা. Show all posts

Monday, November 19, 2018

গ্যাস্ট্রিক আলসার - কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়

আলসার হয় পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালের স্তরে। আরো হয় অন্ত্রনালীর এক অংশে যাকে বলা হয় 'স্মল ইনটেস্টাইন'। পাকস্থলীতে আলসার হলো পেপটিক আলসারের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ। পাচক রস থেকে পাকস্থলীকে রক্ষায় পাতলা শ্লেষ্মার যে স্তর থাকে, তা হ্রাস পেলে দেখা দেয় আলসার। এর পরিমাণ কমে গেলে পাচক রস পাকস্থলীর দেয়াল খেয়ে ফেলতে থাকে।

সাদারণত দুই ধরনের আলসার দেখা যায়। পাকস্থলী এবং অয়েসোফাগাস আলসার। দুটোর আবির্ভাব ঘটে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। অফেসোফাগাস সচরাচর দেখা যায় না। এটি হয় বেশি বেশি অ্যালোকোহল সেবনে। অন্যদিকে, এলোমেলো জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে দেখা দেয় পাকস্থলীর আলসার।

আলসারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি লক্ষণ স্পষ্টভাবে জড়িত। প্রধান লক্ষণটি হলো বুক ও নাভীমূলের মধ্যে ব্যথা হওয়া। আরেকটি বড় লক্ষণ হলো রক্ত বমি হওয়া। এই ব্যথা কিন্তু অ্যান্টাসিডের মতো ওষুধ খেলে আরো বেড়ে যায়।

অনেক কারণে আলসার দেখা দেয়। ব্যাকটেরিয়া আছে যাকে দেখা যায় পাকস্থলির শ্লেষ্মার স্তরে। এরা স্মল ইনটেস্টাইনেরও থাকে। ব্যথা উপশমে নিয়মিত ওষুধ খেলে বাড়তি ঝুঁকি দেখা যায়। এ সময় ধূমপান, অ্যালোকোহল সেবন এবং মসলাদার খাবার খেলে আরো বেশি সমস্যা দানা বাঁধে। পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে প্রদাহ দেখা দেয়। এই অতি পরিচিত রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো জেনে নেওয়া যাক।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের সাধারণ কারণ

  • হেলিকোবেকটার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া আলসারের কারণ হতে পারে। পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই সংক্রমণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। চুমু, খাবার বা পানি আদান-প্রদানের কারণে এমনটা হয়।
  • নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার জন্যে একই ঘটনা ঘটে। ননস্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি ওষুধ (এনএসএআইডি) পাকস্থলী এবং স্মল ইনটেস্টাইনে প্রদাহের কারণ হয়। বয়স্কদের মধ্যে পেপটিক আলসার অনেক বেশি দেখা যায় অতিমাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার কারণে।
  • অন্যান্য ওষুধের কারণে আলসার দেখা দেয়। স্টেরয়েড, অ্যান্টিকগুলান্ট, কমমাত্রার অ্যাসপিরিন খেলে আলসার হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণ

আলসার যাদের রয়েছে বা হতে চলেছে তারা চোখ-কান খোলা রাখলে লক্ষণগুলো বুঝতে পারবেন। খেয়াল রাখুন-
  • পেটের ওপর ও মাঝামাঝি অংশে ব্যথা হবে। মনে হবে যেন পুড়ে যাচ্ছে। কেবলমাত্রা এন্টাসিড খেলেই এই ব্যথা থেকে মুক্তি মেলে।
  • খাওয়ার পর আলসারের ব্যথা নির্ভর করে ঠিক কোন স্থানে রোগ হয়েছে তার ওপর। গ্যাস্ট্রিক আলসার হলে খাওয়ার পর পরই পেটে ব্যথা বাড়তে পারে। আর ডুয়োডেনাল আলসার হলে পেটের ব্যথা বাড়ে খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর।
  • খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেটে ব্যথা শুরু হয়। এটা আলসারের লক্ষণ।
  • ক্রমাগত ঢেঁকুর ওঠা এবং বমি ভাব আসা।
  • অবসাদ ভাব ঘিরে ধরে। সাধারণত বমির আগে দিয়ে এমনটা মনে হয়।

গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তির উপায় 

এই সমস্যা স্থায়ী ভাবে নির্মূল করার উন্নত মানের ঔষধ রয়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে। আপনি যদি এই বহুদিন যাবৎ গ্যাস্ট্রিক আলসার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে লোকাল কোন হোমিও ডাক্তারের কাছে না গিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে চিকিৎসা নিন। ইনশাল্লাহ এই সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি লাভ করবেন।
বিস্তারিত

পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়

কোষ্ঠ অর্থ হচ্ছে মলাশয় আর কোষ্ঠকাঠিন্য অর্থ হচ্ছে মলাশয়ের মল ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া বা মলে কাঠিন্যহেতু মলত্যাগে কষ্টবোধ হওয়া। যথেষ্ট পরিমাণ আঁশজাতীয় বা সেলুলোজ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরও যদি সপ্তাহে তিন বারের কম স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মলত্যাগ হয়, তবে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ভালোভাবে জীবনযাপন করাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শৌচাগারে লম্বা সময় কাটিয়েও অনেক ক্ষেত্রে মল পরিষ্কার হয় না। অনেকে তো কোষ্ঠকাঠিন্যের ভয়ে নানা ধরনের খাবার খাওয়াও ছেড়ে দেন। হয় তো আপনিও এই সমস্যায় ভুগছেন।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

  • বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ অজানা
  • সুষম খাবার, আঁশজাতীয় খাবার কম খাওয়া
  • পানি কম পান করা
  • শর্করা বা আমিষ যুক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া
  • ফাস্টফুড, মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া
  • সময়মত খাবার না খাওয়া
  • কায়িক পরিশ্রম কম করা
  • দুশ্চিন্তা করা
  • বিভিন্ন রোগ, যেমনঃ ডায়াবেটিস, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা টিউমার, থাইরয়েডের সমস্যা, অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার, কাঁপুনিজনিত রোগ, স্নায়ু রজ্জুতে আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ইত্যাদি হওয়া
  • দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা
  • বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, যেমনঃ ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ, পেট ব্যথার ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, পেপ্টিক আলসার এর ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ সেবন করা
পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ/উপসর্গ কি কি?

  • স্বাভাবিক এর চেয়ে কম সংখ্যকবার মলত্যাগ করা
  • ছোট, শুষ্ক, শক্ত পায়খানা হওয়া
  • মল ত্যাগে অত্যন্ত কষ্ট হওয়া
  • পায়খানা করতে অধিক সময় লাগা
  • পায়খানা করতে অধিক চাপের দরকার হওয়া
  • অধিক সময় ধরে পায়খানা করার পরও পূর্ণতার অনুভূতি না আসা
  • পেট ফুলে থাকা
  • আঙুল, সাপোজিটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমের সাহায্যে পায়খানা করা
  • মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথার অনুভব হওয়া
  • মলদ্বারে চাপের অনুভূতি হওয়া।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করা না হলে কি কি অসুবিধা হতে পারে?

  • অর্শ বা পাইলস হওয়া
  • এনাল ফিশার বা মলদ্বারে আলসার হওয়া
  • রেকটাল প্রোলেপস বা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা
  • পায়খানা ধরে রাখতে না পারা
  • খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লাগা
  • প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া
  • খাদ্যনালীতে আলসার বা ঘা, এমনকি পারফোরেশন বা ছিদ্র হওয়া ।
এই সমস্যা স্থায়ী ভাবে নির্মূল করার উন্নত মানের ঔষধ রয়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে। আপনি যদি এই বহুদিন যাবৎ কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে লোকাল কোন হোমিও ডাক্তারের কাছে না গিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে চিকিৎসা নিন। ইনশাল্লাহ এই সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি লাভ করবেন।
বিস্তারিত

Saturday, November 10, 2018

আইবিএস রোগীর খাবার ও IBS থেকে মুক্তির স্থায়ী উপায় (প্রাকৃতিক হোমিও চিকিৎসা)

আইবিএস (IBS) রোগীর খাবার: Irritable Bowel Syndrom (IBS) বা মানসিক অস্থিরতাজনিত আমাশয় রোগ। এ রোগের কোনো স্বীকৃত কারণ পাওয়া যায়নি। তাই একে Functional disorder বলা হয়। Irritable Bowel Syndrome (IBS) বা আই.বি.এস একটি সাধারন রোগ যা বৃহদান্ত্রের ফাংশনাল লক্ষণ সমূহের সমষ্টি। ফাংশনাল মানে হলো যার কোন গঠনগত ক্রটি নাই। কিন্তু কার্যকারিতায় ক্রটি রয়েছে। বিস্তারিত ভিটিওতে দেখুন-

আইবিএস এর লক্ষণ সমূহ

পেটে ব্যাথা,খাবার পর অস্বস্থি বোধ,পেট ফেঁপে যাওয়া,মলের সমস্যা,ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য — সাথে আরো কিছু সাধারণ লক্ষণ থাকতে পারে:
  • দূর্বলতা,মাথাব্যাথা,বমি বমি ভাব ইত্যাদি ,কারো কারো স্বল্প লক্ষণ থাকে, কারো কারে তীব্র লক্ষণ দেখাদেয়।
  • আইবিএস-এর যে উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়, সেগুলো হল—পেটে ব্যথা, পেট কামড়ানো—পায়খানা করলে কষ্ট কমে,পায়খানায় পরিবর্তন—ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনও দুই-ই পেট ফাঁপা পেটে বেশি গ্যাস হওয়া, বেশি বাতকর্ম হওয়া,হঠাৎ করে শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা, যেতে তর সয় না,পায়খানা করে আসার পরপর-ই আবার পায়খানা পাওয়া,পায়খানা করে পেট পরিষ্কার হল না—এমন মনে হওয়া,মলদ্বার দিয়ে আম যাওয়া।আইবিএস-এর জন্য যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তার জন্য রোগী অনেক সময় অবসাদ বা উদ্বেগে ভোগেন।

আইবিএস-এর প্রধানত তিনটে ধরন

  • ডায়রিয়া প্রধান আইবিএস
  • কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান আইবিএস। ডায়রিয়া-কোষ্ঠকাঠিন্য মিশ্র আইবিএস
সব সময় যে একজন একই ধরনের উপসর্গে ভুগবেন এমন না নয়, উপসর্গ বদলাতে পারে, এমনও হতে পারে যখন দীর্ঘ সময় ধরে কোন উপসর্গ নেই বা অল্প উপসর্গ আছে।
যে উপসর্গ থাকলে অবহেলা করা উচিত হবে না আইবিএস-এর মতো উপসর্গের সঙ্গে যদি নিচের উপসর্গগুলো থাকে তাহলে হয়ত আইবিএস নয়, অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা রয়েছেঃওজন কমছে, অথচ কারণ বোঝা যাচ্ছে না,পেটে বা মলদ্বারের কাছে কোনও ফোলা,মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া,রক্তাল্পতা 

কেন হয় এমন রোগ?

  • প্রথমত, আপনার পূর্বপুরুষদের মধ্যে যদি এমন রোগের ভুক্তভোগী থাকেন, তবে সেক্ষেত্রে আপনার হবার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না, অর্থাৎ বংশগত কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • দ্বিতীয়ত, আপনাকে যদি অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্থতা বা দুশ্চিন্তা গ্রাস করে থাকে, তবে আপনার পেটের এই সমস্যা হতেই পারে।
  • তৃতীয়ত, গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনাল ইনফেকশান, যা কিনা জল, খাবার বা অন্য যেকোনো কারণে পেটের সংক্রমণ থেকে হয়ে থাকে, এ ধরনের ইনফেকশানজনিত কারণেও পেটের এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আইবিএস-এর উপসর্গ

দেখা গেছে নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও পানীয় উপসর্গ শুরু করতে পারে—তবে সবারই যে সব কিছুতে হবে এমন নয়। এগুলো হলঃএ্যালকোহল,ঠান্ডা পানীয় (যেগুলোতে গ্যাস মেশানো থাকে),চকোলেট,চা-কফি-কোলার মতো কেফিন-যুক্ত পানীয়,প্যাকেটের জলখাবার—বিস্কুট বা মুচমুচে।বেশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার,ভাজা খাবার। আইবিএস-এর রোগী যদি খাবার-দাবারের ডায়েরি রাখেন, তাহলে কোন খাবারে উপসর্গ হচ্ছে বুঝতে সুবিধা হয়।এছাড়া আগেই বলেছি মানসিক চাপও আইবিএস-এর উপসর্গ শুরু করতে পারে। তাই মানসিক চাপ কমানোও আইবিএস-এর চিকিৎসার মধ্যে অন্যতম।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? 

যদি আপনার মনে হয় আইবিএস হচ্ছে, তাহলে ডাক্তার দেখানো উচিত। ডাক্তার দেখে নেবেন আপনার অন্ত্রে কোন জীবানু-সংক্রমণ আছে কিনা, সিলিয়াক ডিজিজ কিনা (যে রোগে রোগী গ্লুটেন সহ্য করতে পারেন না) বা খাদ্যনালিতে কোনও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ আছে কিনা। তবে এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের কাছে যাবেন কারণ এর একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এলোপ্যাথিতে এর কোন চিকিৎসা নেই তাই এলোপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে এই রোগ নিয়ে যাওয়া অর্থহীন। 

আইবিএস আক্রান্ত রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • সারাদিনে বারে বারে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • রাতের বেলায় অবশ্যই হালকা খাবার খাবেন।
  • বারে বারে অল্প অল্প করে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে বেশি বেশি ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
  • পেট ভরে কোনো খাবার খাবেন না, সাথে চেষ্টা করুন খাবার গ্রহণের মাঝে পানি না পান করে খাবার গ্রহণের আগে এক গ্লাস পানি পান করতে। এতে পেট কিছুটা পানি দ্বারা ভর্তি হয়ে থাকবে এবং খাবার হজমেও সাহায্য করবে।
  • খাবারের তালিকায় মাছ, মুরগি, সালাদ, আলু, ভুট্টা, সাইট্রাস জাতীয় ফল- এগুলো রাখার চেষ্টা করুন।
  • রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • আইবিএস রোগের সাথে জ্বর, রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ এসব লক্ষণ আইবিএস এর না হয়ে অন্য কোনো রোগেরও হতে পারে।

আইবিএস এর জন্য এড়িয়ে চলার জন্য খাবারের তালিকা

স্বাস্থ্যবিষয়ক মতে, অ্যালকোহল, ক্যাফেটেড পানীয় এবং কার্বনেটেড পানীয়গুলি প্রায়ই আইব্সের উপসর্গ দেখা দেয় যেমন পেট ব্যথা বা অস্বস্তি, ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।
আইসক্রিম এবং দুগ্ধ আইবিএস চালু করতে পারে। পনির, দুধ, আইসক্রিম এবং মাখনের মত ডেইরি পণ্যগুলি আইবিএস লক্ষণগুলি ব্যাহত করতে পারে। যারা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের মতো ল্যাকটোজ অশনাক্তকারী না, তাদের জন্যও দুগ্ধজাত দ্রব্যগুলি পেটে ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং অস্বস্তিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন ল্যাকটোজ, দুধ ফ্যাট, কেসিিন এবং ভাঁজ সমস্যাযুক্ত হতে পারে।

চকলেট অন্ত্র জ্বালিয়ে দিতে পারে। হার্ড চকোলেটের চর্বি এবং ক্যাফিনে উপসর্গ সংকোচনের কারণ হতে পারে, যা ব্যথা এবং অস্বস্তিতে পরিণত হয়। হেল্পফরিআইবিসের মতে কমবয়সী, কোকো পাউডার আইবিএস রোগীদের জন্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমে আরো বেশি সহনীয় হতে পারে কারণ এটি চর্বিহীন। রেসিপি মধ্যে হার্ড চকলেট জন্য কোকো পাউডার বিকল্প।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মত উচ্চ চর্বি খাদ্য এড়ানো উচিত। সব ফ্যাট কোলোনিক সংকোচনকে উত্তেজিত করে যা বেদনাদায়ক পেটে ক্রাম্পিং হতে পারে। আমেরিকান কলেজ অফ গ্যাস্ট্রোন্টারোলজি অনুযায়ী, আইবিএস রোগীদের উচ্চ চর্বিযুক্ত ও নিম্ন ফাইবার খাবারের জন্য উচ্চ ফাইবার খাবারের বিকল্প হওয়া উচিত। চর্বিযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে মাংস, হাঁস চামড়া, বাদাম, আভাকাডোস, শর্টেনিং, মার্জারিন, মটর, পনির, ক্রিম, পুরো দুধ, উদ্ভিজ্জ তেল, গভীর ভাজা খাবার, অনেক ক্যান্ডি, আইসক্রিম এবং চকলেট।

পাস্তা থেকে এড়ানো উচিত,কিছু শর্করার এবং চিনিযুক্ত বিকল্পগুলি পেটে চাপ, ফুসকুড়ি, গ্যাস এবং অন্যান্য অন্ত্রবিহীন অসুখের কারণ হতে পারে। মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের মেডিকেল পেশাজীবীরা সাদা চাল, পেস্তা, সাদা রুটি এবং সাদা ময়দার মতো সুশৃঙ্খল কার্বোহাইড্রেটগুলি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, যা শরীরের চিনিতে রূপান্তর করে।কিছু মানুষ চিনির বিকল্প ম্যানিনিটোল এবং সেরিবটোলের সাথেও সমস্যা হতে পারে। আইওয়া হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে ফ্রুকটাস বিশেষ করে সমস্যাযুক্ত হতে পারে।

মাশরুম এড়িয়ে চলুন, জুরিটি খালি আছে কি না তা আইবিএস এর উপসর্গের কারণ। আপনার শরীর অন্যের চেয়ে ভিন্ন, তাই আপনি যে খামির আপনার জন্য একটি সমস্যা হতে পারে, কিন্তু IBS সঙ্গে অন্যদের জন্য না। আগস্ট ২005 সালের "গুট" এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি খামির আইবিএস এর জন্য একটি ট্রিগার। খামারে আন্ডারগ্রাউন্ড, বা ক্যানডিডা, আইবিএস লক্ষণগুলি দেখাতে পারে। খামির মধ্যে- এবং ছাঁচ উত্পাদনকারী খাদ্যগুলি এড়ানো হয় খামিরবিহীন রুটি, মদ, বিয়ার, মাশরুম, চিজ এবং শুকনো ফল। চিনি এবং পরিশ্রুত কার্বোহাইড্রেটগুলিও খিদে দেয় এবং আইবিএসকে উত্তেজিত করে। "বিএমসি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি" এর 2012 বিষয়টি ব্যাখ্যা করে যে যখন আপনি খামির এলার্জি হতে পারে না, আপনি এটির প্রতি সংবেদনশীল হতে পারেন।

আলু চিপস ময়দার আঠা থাকতে পারে। কিছু লোক দেখায় যে গম এড়িয়ে যাওয়া আইবিএসের উপসর্গ উন্নত করে। অন্যরা দেখায় যে তারা সব গ্লুটেনজাত দ্রব্যকে বাদ দিতে হবে, যার মধ্যে গম, বার্লি, রাই, বানানো এবং কখনও কখনও ওট। যদি আপনি গ্লুটেন-ফ্রী যেতে চান, তবে সিলেইস ডায়েটিং করার পরে সাহায্য করতে পারেন। যেহেতু গম এবং গ্লুট্যান অনেক পণ্য পাওয়া যায়, তাই লেবেলগুলি পড়তে গুরুত্বপূর্ণ। গ্লুটেন এবং গম স্যুপ, সসেজ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, হিমায়িত খাবার এবং আলু চিপগুলিতে পাওয়া যায়।

তাজা ফল এবং সবজি খান। পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টারের ইউনিভার্সিটি অনুযায়ী, কিছু ওষুধ, মটরশুটি ও মটরশুটি, সেইসাথে তাজা ফল যেমন দ্রবণযুক্ত ফাইবারের মধ্যে উচ্চ হয় এবং যদি যোগ করা হয় তবে অন্ত্রে জ্বালামতে পারে খুব দ্রুত ডায়াবেটিস লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে গ্যাস, ব্লোটিং, ক্রাম্পিং বা ডায়রিয়া। যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, তবে প্রথমে ধনীভাবে আপনার খাদ্যের কাঁচামাল চাষের আগে রান্না করা ফল ও সবজি চেষ্টা করুন।
বিস্তারিত

Friday, November 9, 2018

পুরাতন আমাশয় থেকে মুক্তির উপায় (ভিডিও)! স্থায়ী হোমিও চিকিৎসা।

যারা ক্রনিক ডিসেন্ট্রিতে ভুগছেন তারা হয়তো প্রতিনিয়ত খুঁজে চলেছেন - পুরাতন আমাশয় নিরাময়ের উপায়, পুরাতন আমাশয় থেকে মুক্তির উপায়, পুরাতন আমাশয়ের চিকিৎসা, পুরাতন আমাশয় রোগের চিকিৎসা, আমাশয় রোগের ঔষধের নাম, আমাশয় নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায়, আমাশয় নিরাময়ের ঘরোয়া উপায়, আমাশয় এর ঔষধ ইত্যাদি। কিন্তু আপনি জানেন কি ?
এলোপ্যাথিতে পুরাতন আমাশয়সহ প্রায় ৮০% ক্রনিক রোগেরই কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। সে সকল ক্ষেত্রে সুস্থ থাকার জন্য এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা আপনাকে সারা জীবন ধরে ঔষধ খেয়ে যেতে বলবেন। আর এলোপ্যাথিক ঔষধ দীর্ঘদিন খেতে থাকলে সেগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেক জটিল এবং কঠিন রোগে মানুষজন আক্রান্ত হয়ে থাকে। যেমন - পাকস্থলীর আলসার হয় এবং লিভার, কিডনি নষ্ঠ হয়ে যায়। 
অথচ সার্জারির বহির্ভুত প্রায় সকল রোগের কার্যকর ও স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে একমাত্র হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে। তাই পুরাতন আমাশয় নিরাময়ের উপায় সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা গ্রহণ করা।

পুরাতন আমাশয়  চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এল্যপাথিক স্থায়ী ঔষধ তেমন আবিস্কৃত হয় নি। কিন্তু এই রোগ থেকে স্থায়ী ভাবে মুক্তি পেতে হলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের নিকট থেকে প্রপার হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করুন। বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন -
বিস্তারিত

Wednesday, November 7, 2018

পাইলস কি ? অর্শ বা পাইলস থেকে মুক্তির উপায় ! গেজ রোগের চিকিৎসা

যদি এই সমস্যায় আপনি আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনি হয়তো - পাইলস ডাক্তার, পাইলস কেন হয়, পাইলস হলে করণীয়, পাইলস এর ওষুধ, পাইলস থেকে মুক্তির উপায়, পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা, পাইলস এর হোমিও চিকিৎসা, পাইলস অপারেশন ইত্যাদি খুঁজে বেড়াচ্ছেন। পাইলস, অরিশ বা অর্শ -গেজ যাই বলেন মলদ্বারের এই জটিল রোগ নিয়ে কষ্টে ভোগা মানুষের সংখ্যা আমাদের দেশে প্রচুর।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে কারো কারো ক্ষেত্রে তা ক্যান্সারের ক্ষতে রূপ নেয়। তাছাড়া সঠিক চিকিৎসার অভাবে এনিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগীকে। এল্যোপাথিকে অপারেশন করার পর সেটা স্থায়ী নির্মূল না হওয়াতে সেটা পূনরায় জটিল আকার ধারন করে কয়েক বছর পরেই। আমাদের দেশে সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার অভাবে প্রায় পরিবারেই এই জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়।

অর্শের লক্ষণসমূহ

অর্শ বা পাইলস কিভাবে বুঝা যাবে এই নিয়ে অনেকে আবার চিন্তিত থাকে। চলুন তাহলে দেখে নেই কিভাবে অর্শ বা পাইলস হয়েছে বুঝতে পারবেন।মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ
  • পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হলে।
  • মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে।
  • মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হলে।
  • কোন কোন ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।
মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ
  • মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।
  • কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

অর্শ বা পাইলস রোগে করণীয়

  • কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করার চেষ্টা করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পানি(প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস) পান করতে হবে।
  • সহনীয় মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা।
  • প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।
  • টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করার চেষ্টা করতে হবে।
  • সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লেকজেটিভ বেশী গ্রহণ না করা।
  • মল ত্যাগে বেশী চাপ না দেয়া।
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া আমাশয় থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে।

অর্শ বা পাইলস থেকে মুক্তির উপায়

পাইলসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এল্যপাথিক স্থায়ী ঔষধ তেমন আবিস্কৃত হয় নি। তবে অপারেশন করা হয়। কিন্তু পাইলসের অপারেশন সেনসেটব জায়গায় হওয়ায় তা কখনো ক্যান্সারে রুপ নেয় আাবার পুনরায় তৈরি হয়। এই রোগ থেকে মুক্তির স্থায়ী উপায় হলো অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের নিকট থেকে প্রপার হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করা। 
বিস্তারিত

Friday, October 19, 2018

IBS কি? আইবিএস কেন হয়, লক্ষণ, রোগীর খাবার এবং আই বি এসের চিকিৎসা

IBS কি? ibs কি ভালো হয়? ibs রোগের পরামর্শ। ইংরেজি পেটের পীড়া Irritable Bowel Syndrome (IBS) আইবিএস হচ্ছে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। ইংরেজিতে সিনড্রোম শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে একটি রোগের বিভিন্ন উপসর্গ বা লক্ষণের সমষ্টি। তাই আইবিএসকে পেটের কয়েকটি উপসর্গ বা লক্ষণের সমন্বয়ে সংজ্ঞা হিসেবে ধরা হয়। এ রোগে পেট অধিকতর স্পর্শকাতর হয় বলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। পাশ্চাত্য দেশে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজন মানুষ এ রোগে তার জীবদ্দশায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। নাটোরের একটি গ্রামে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন পুরুষে ২০ দশমিক ৬ জন এবং ১০০ জন নারীর মধ্যে ২৭ দশমিক ৭ জন এ রোগে আক্রান্ত হন।

আইবিএস কেন হয়?

আজ পর্যন্ত এ রোগের প্রকৃত কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারে নি  অথচ বহু বছর আগেই হোমিওতে এর ঔষধ তৈরী করে রেখেছেন হোমিওপ্যাথিক প্রভাররা। অনেক কারণে এ রোগ হয় বলে চিকিৎসার অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি - এটি হলো এলোপ্যাথিক চিকিৎসাবিদদের মতামত। এখন পর্যন্ত কেবল উপসর্গের চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে ভালো রাখার চেষ্টা করছে এলোপ্যাথি। স্নায়ুর চাপ এবং দুশ্চিন্তা, খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের প্রদাহ এবং সংক্রমণ, হরমোন (নারীদের মাসিকচক্রের সঙ্গে), মাদক গ্রহণ, বংশগত কারণ, পেটের যেকোনো অপারেশন ও দীর্ঘকাল ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আইবিএসের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয় এটি অনেকেরই জানার কথা।

IBS আইবিএস এর লক্ষণ 

পেটব্যথা, পেটফাঁপা, পায়খানার সঙ্গে আম যাওয়া, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমন্বয় ইত্যাদি। কোনো রোগীকে আইবিএস হিসেবে শনাক্ত করতে হলে এ লক্ষণগুলোতে অন্তত দুটি লক্ষণ তিন মাস পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্য যেসব লক্ষণ থাকতে পারে, সেগুলো হলো—পেটে অত্যধিক গ্যাস, পেটে অত্যধিক শব্দ, বুক জ্বালা, বদহজম, পায়খানা সম্পূর্ণ না হওয়া, পেটে ব্যথা হলে টয়লেটে যাওয়ার খুব তাড়া, পেটব্যথা হলে পাতলা পায়খানা হওয়া, শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন কিংবা মিলনের সময় ব্যথা। কিন্তু যদি পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে, শরীরের ওজন কমে যায় এবং হঠাৎ পায়খানার ঘনত্বের পরিমাণ কমে যায়, তবে এগুলো অন্য কোনো রোগের এমনকি কোলোরেকটাল ক্যানসারের উপসর্গও নির্দেশ করে।

IBS রোগ নির্ণয়

এ রোগ সাধারণত উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়। রোগীর বয়স ও সুনির্দিষ্ট লক্ষণের ওপর নির্ভর করে এক বা একাধিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে লক্ষণের ওপর নির্ভর করে রোগ শনাক্ত করা যায়। বয়স ৪০ বছরের ওপরে হলে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আইবিএস রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক থাকবে। পরীক্ষাগুলো হলো
  • রক্ত পরীক্ষা
  • মল পরীক্ষা
  • পেটের এক্স-রে
  • বেরিয়াম এনেমা
  • প্রক্টোসিগময়ডোস্কপি/কোলোনোস্কপি
উল্লেখ্য হোমিও চিকিৎসায় এই সকল টেস্ট করার খুব একটা দরকার পড়ে না 

IBS  আইবিএসএর সঠিক হোমিও  চিকিৎসা

আইবিএস ঝুঁকিপূর্ণ রোগ নয়, সংক্রামক রোগও নয়, এমনকি বংশগত রোগও নয়। এ রোগ অন্ত্রের ক্যানসার কিংবা অন্য কোনো ক্যানসারের কারণ নয়, এ কথাগুলো রোগীর চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীকে ভালো করে বুঝতে হবে। অনেক সময় ডাক্তারগণ এই রোগের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা দিতে পারে না তাই তারা এটাকে মানুষিক রোগ বলতেও দ্বিধা করে না। যখনই দেখবেন তারা আপনার রোগ সারাতে ব্যর্থ - সেখানেই তারা আপনাকে মানুষিক রোগী বানিয়ে দিবে - একটা হাস্যকর বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়। আইবিএস সমস্যায় অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন। ঠিকঠাক ভাবে ডাক্তার চিকিৎসা দিতে পারলে এই রোগ থেকে নিশ্চিত আরোগ্য লাভ করবেন।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ বা চিকিৎসার মাধ্যমে কি এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা যায় ? অনেকেই আই বি এস রোগ থেকে মুক্তি পেতে বা এই সম্পর্কে পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রে এরকম একটি প্রশ্ন করে থাকেন। উত্তর হলো - হাঁ, প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে আপনি চিরদিনের জন্য মুক্তি লাভ করবেন। তবে এখানে কিছু বিষয় আপনার মাথায় রাখতে হবে - আর সেটা হলো অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে আপনাকে চিকিৎসা নিতে হবে।

আমি অভিজ্ঞ কথাটি বললাম এই কারণে যে - কিছু কিছু ডিগ্রীধারী নতুন ডাক্তার রয়েছেন তাদের চিকিৎসা হয়তো ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে পারে। কিন্তু একজন অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার যিনি সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৮ বছর প্রাকটিস করছেন এবং ক্রনিক রোগগুলির চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তার ট্রিটমেন্ট ব্যর্থ হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম থাকে।

আই.বি.এস এমনিতেই একটি জটিল প্রকৃতির রোগ তার উপর অনেকেই দেখা যায় - ২/৪ দিন কিছু ঔষধ খেয়েই ভালো হয়ে যেতে চান। যারা এই ভুলটি করেন তারাই এই রোগে বেশি কষ্ট ভোগ করেন এবং দীর্ঘদিন কষ্ট করতে থাকেন। আপনাকে বুঝতে হবে - যেকোন ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রে আপনি যদি প্রপার ট্রিটমেন্ট না নিয়ে - একবার এই ঔষধ, আরেকবার ঐ ঔষধ খেতে থাকেন তাহলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া তো দূরের কথা বরং রোগ জটিলতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার কারণে একজন চিকিৎসককে পর্যন্ত শেষকালে সুচিকিৎসা দিয়ে রোগীকে ভালো করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

তাই Irritable Bowel Syndrome (IBS) বা আই.বি.এস, পুরাতন আমাশয় বা পেটের পীড়াসহ যেকোন ক্রনিক রোগে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। যদি ট্রিটমেন্ট ঠিক ঠাক ভাবে করা হয় আপনার রোগ যত পুরাতন বা তীব্রই হোক না কেন - এটি নির্মূল হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। আরো কিছু জানার থাকলে ফোন করে জেনে নিবেন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত