Showing posts with label রোগ ব্যাধি. Show all posts
Showing posts with label রোগ ব্যাধি. Show all posts

Saturday, January 12, 2019

পুরুষের লিঙ্গ প্রদাহ (Inflammation of the Penis) !! কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকার

বর্তমান যুগে অ‌নেক পুরুষের মধ্যেই একটা সমস্যা বেশ প্রকট হয়ে উঠছে, তা হ‌লো লি’ঙ্গ প্রদাহ বা ব্যালানাই‌টিস, বাংলায় যাকে মনোষ বলা হয়ে থাকে। ব্যালানাইটিস শব্দটি গ্রিক ব্যালানস থেকে এসেছে। ব্যালানস শব্দের অর্থ লিঙ্গ মুন্ডু বা লিঙ্গের মাথা। লি’ঙ্গাগ্রের চামড়া আক্রান্ত হলে তাকে বলে ব্যালানোপসথাইটিস। লিঙ্গমুন্ডুর চারপাশে এক ধরনের ময়লা জমা ও নিঃসরণের কারণে জায়গাটা বাতাসের সংস্পর্শ কম পায় এবং সেখানে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয়; এ কারণে লি’ঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হয় ও লি'ঙ্গমুন্ডু ফুলে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যাদের খতনা করা হয়নি, তারাই এ সমস্যায় বেশি ভোগেন।

পুরুষের লিঙ্গ প্রদাহ রোগের কারণ

সাবান, শাওয়ার জেল বা কনডমের উপরিভাগের আঠালো পদার্থ পুরুষাঙ্গের মুখে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে যা থেকে ব্যালানাইটিস হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ যেমন- পেইনকিলার, ঘুমের ঔষধ, ল্যাক্সেটিভ (কোষ্ঠকাঠিন্যে ব্যবহৃত ঔষধ) ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। এগুলোকে ফিক্সড ড্রাগ ইরাপশনও বলে।

সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ঈস্ট যেমন- ক্যান্ডিডা অ্যালবিকান্স পুরুষাঙ্গের উপরিভাগেই থাকে। তাপ, চাপ, সাবান দিয়ে ওই স্থান পরিষ্কার করলে বা একেবারেই পরিষ্কার না করলে এসিড লেভেল ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, যার কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগে কোনভাবে কেটে গেলে বা আঁচড় লাগলে এই রোগ হতে পারে।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ইনফেকশনে হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ইনফেকশন থেকেই ব্যালানাইটিস হতে পারে।চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, খতনা করা হয়নি এমন ছেলেদের মধ্যে এ রোগের প্রকোশ বেশি। খতনা করা হয়নি এমন যে কোনো বয়সী পুরুষের যে কোনো সময় লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হতে পারে। যেসব পুরুষের লিঙ্গাগ্রের চামড়া টাইট বা আঁটোসাঁটো থাকে অর্থাৎ চামড়া পেছনের দিকে টেনে নামানো কষ্টকর অথবা যেসব পুরুষ লিঙ্গ ঠিক মতো পরিষ্কার করেন না তারা ব্যালানাইটিস বা লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ রোগে আক্রান্ত হন। তবে খতনা করানো হয়েছে এমন ছেলেও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের কারণেও লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহ হয়, বিশেষ করে যদি রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না থাকে।

লিঙ্গের পরিচ্ছন্নতা: অনেকেই লিঙ্গের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। বিশেষ করে ছোট ছেলেরা এ ব্যাপারে সচেতন নয়। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, লিঙ্গমুন্ডুতে প্রদাহের সাথে লিঙ্গের পরিচ্ছন্নতার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ সম্পূর্ণ লিঙ্গ ধৌত করেন না এবং যেসব পুরুষ খতনা করাননি তারা সচরাচর ব্যালানাইটিসে আক্রান্ত হন। আবার সাবান দিয়ে লিঙ্গ অতিরিক্ত পরিষ্কার করলেও ব্যালানাইটিস হয়।
লক্ষণ: এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন।

পেনিস বা পুরুষাঙ্গে লালভাব দেখা দেওয়া (Penis redness)পুরুষাঙ্গে ব্যথা হওয়া (Penis pain)ডায়পার র‍্যাশ (Diapper Rash)ত্বকের ফুসকুড়ি (Skin rash)অস্বাভাবিক ত্বক (Abnormal appearing skin)জ্বর (Fever)

মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা হওয়া (Painful urination)কাশি (Cough)তলপেটের নিচের দিকে ব্যথা হওয়া (Suprapubic pain)পেনিস বা পুরুষাঙ্গ দিয়ে তরল নির্গত হওয়া (Penile discharge)ত্বকের ক্ষত (Skin lesion)ত্বকে চুলকানি (Itching of skin)

এই সমস্যার স্থায়ী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রয়েছে। তাই অভিজ্ঞ কোন হোমিও ডাক্তারে সাথে এই সমস্যা নির্মূলের জন্য আজই যোগাযোগ করুন।
বিস্তারিত

Saturday, October 20, 2018

বাতের ব্যথা - কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়।

বয়সকালে হাড়ের সন্ধিস্থলে ও মাংসপেশিতে ব্যথা হয়। যাকে সহজ ভাষায় বাতের ব্যথা বলা হয়। ‘বাত’ শব্দটি আমাদের সমাজে বহুল আলোচিত শব্দ। শরীর ব্যথা বিশেষ করে যে কোনো জয়েন্ট বা গিরায় ব্যথা হলেই তাকে আমরা বাত বলে থাকি। এছাড়া ঘাড়, কোমরে ব্যথা এবং এই ব্যথা হাত কিংবা পায়ের দিকে ছড়িয়ে গেলেও তার নাম হয়ে যায় বাত। বাতের ব্যথা অমাবস্যায় বাড়ে, পানির জোয়ারে বাড়ে কিংবা শীতে এর প্রকোপ বেশি হয় এমন কথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। আমাদের দেশে অনেক মানুষ বাতের ব্যথায় ভুগছেন। এই ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। ডাক্তারের পরিভাষায় আথ্রাইটিস বলে।
এর ফলে হাড়ের বিবৃতি ঘটে। পুরুষের তুলনায় মহিলারা এই রোগে বেশি ভোগে। খাদ্য তালিকায় অপর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ, ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে সংশ্লেষণ না হওয়া এবং অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম করার ফলে হাড় ক্ষয়ের সম্ভাবনা থাকে। পক্ষান্তরে বেশি পরিশ্রম না করার ফলে স্থূলতা মেনোপোজও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের অন্যতম কারণ বলে ধরা যায়। ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের ভেতরের অংশ ফাঁপা হয়ে যায়, ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজনের চাপ হাড়ের ওপর পড়ে এবং হাড় বাঁকা হতে শুরু করে। এক সময় দ্রুত তা ক্ষয় হতে হতে ভেঙে যায়। বড়দের এ সমস্যাকে অস্টিওম্যালাসিয়া বলে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শারীরিক, মানসিক শক্তি ও দেহ কোষের কর্মক্ষমতা বা সামর্থ্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে। টিস্যুর এই সামর্থ্য ক্রমাবনতির হার বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুপাতে হয়। ৫০/৬০ বছর বয়সের ব্যক্তিরা ভুগতে পারেন বিভিন্ন ধরনের বার্ধক্য জনিত সমস্যা ও জয়েন্ট বা মাংস পেশির ব্যথায় যাকে আমরা সহজ ভাষায় বাত বলে জানি। সাধারণত মহিলাদের ৪০ বছর পর পুরুষরা ৫০ বছর পর বয়সজনিত জয়েন্টের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশের ৫০ উর্দ্ধ জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগ লোক ব্যথা জনিত সমস্যায় ভোগেন।
বাতের ব্যথা - কারণ, লক্ষণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়।
বিশেষ করে যেসব জয়েন্ট শরীরের ওজন বহন করে এবং অতিরিক্ত ব্যবহৃত হয় যেমনঃ ঘাড়, কোমর, স্কন্ধ বা সোল্ডার জয়েন্ট এবং হাটু ব্যথার রোগী সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। বাতের ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে তার মধ্যে ৯০ ভাগ হচ্ছে ‘মেকানিকেল সমস্যা’। মেকানিকেল সমস্যা বলতে মেরুদণ্ডের মাংস পেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিক্স সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তনকে বুঝায়। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত হাঁড় ও জোড়ার ক্ষয় বা বৃদ্ধি, রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস বা গেটেবাত, অষ্টিওআথ্রাইটিস, অষ্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পন্ডাইলোসিস, বার্সাইটিস, টেন্ডিনাইটিস, স্নায়ুবিক রোগ, টিউমার, ক্যান্সার, মাংস পেশির রোগ, শরীরে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে রোগী তার দেহের জোড়ার কর্ম ক্ষমতা বা নড়াচড়ার ক্ষমতা হারায় এবং জোড়া সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে রোগী পঙ্গুত্ব বরণ করতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিন রোগেভোগে শরীরের মাংস পেশীগুলোও শুকিয়ে যেতে পারে।

তাই বাতের ব্যথা নিয়ে কষ্ট না পেয়ে যতদ্রুত সম্ভব হোমিও চিকিৎসা নিতে হবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাহারা বাতের ব্যথায় ভূগছেন তারা একজন বিশেষজ্ঞ একজন হোমিওচিকিৎসকের  এই সমস্যায় আপনি অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিয়ে এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। 
বিস্তারিত