Showing posts with label IBS. Show all posts
Showing posts with label IBS. Show all posts

Saturday, November 10, 2018

আইবিএস রোগীর খাবার ও IBS থেকে মুক্তির স্থায়ী উপায় (প্রাকৃতিক হোমিও চিকিৎসা)

আইবিএস (IBS) রোগীর খাবার: Irritable Bowel Syndrom (IBS) বা মানসিক অস্থিরতাজনিত আমাশয় রোগ। এ রোগের কোনো স্বীকৃত কারণ পাওয়া যায়নি। তাই একে Functional disorder বলা হয়। Irritable Bowel Syndrome (IBS) বা আই.বি.এস একটি সাধারন রোগ যা বৃহদান্ত্রের ফাংশনাল লক্ষণ সমূহের সমষ্টি। ফাংশনাল মানে হলো যার কোন গঠনগত ক্রটি নাই। কিন্তু কার্যকারিতায় ক্রটি রয়েছে। বিস্তারিত ভিটিওতে দেখুন-

আইবিএস এর লক্ষণ সমূহ

পেটে ব্যাথা,খাবার পর অস্বস্থি বোধ,পেট ফেঁপে যাওয়া,মলের সমস্যা,ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য — সাথে আরো কিছু সাধারণ লক্ষণ থাকতে পারে:
  • দূর্বলতা,মাথাব্যাথা,বমি বমি ভাব ইত্যাদি ,কারো কারো স্বল্প লক্ষণ থাকে, কারো কারে তীব্র লক্ষণ দেখাদেয়।
  • আইবিএস-এর যে উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়, সেগুলো হল—পেটে ব্যথা, পেট কামড়ানো—পায়খানা করলে কষ্ট কমে,পায়খানায় পরিবর্তন—ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনও দুই-ই পেট ফাঁপা পেটে বেশি গ্যাস হওয়া, বেশি বাতকর্ম হওয়া,হঠাৎ করে শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা, যেতে তর সয় না,পায়খানা করে আসার পরপর-ই আবার পায়খানা পাওয়া,পায়খানা করে পেট পরিষ্কার হল না—এমন মনে হওয়া,মলদ্বার দিয়ে আম যাওয়া।আইবিএস-এর জন্য যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তার জন্য রোগী অনেক সময় অবসাদ বা উদ্বেগে ভোগেন।

আইবিএস-এর প্রধানত তিনটে ধরন

  • ডায়রিয়া প্রধান আইবিএস
  • কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান আইবিএস। ডায়রিয়া-কোষ্ঠকাঠিন্য মিশ্র আইবিএস
সব সময় যে একজন একই ধরনের উপসর্গে ভুগবেন এমন না নয়, উপসর্গ বদলাতে পারে, এমনও হতে পারে যখন দীর্ঘ সময় ধরে কোন উপসর্গ নেই বা অল্প উপসর্গ আছে।
যে উপসর্গ থাকলে অবহেলা করা উচিত হবে না আইবিএস-এর মতো উপসর্গের সঙ্গে যদি নিচের উপসর্গগুলো থাকে তাহলে হয়ত আইবিএস নয়, অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা রয়েছেঃওজন কমছে, অথচ কারণ বোঝা যাচ্ছে না,পেটে বা মলদ্বারের কাছে কোনও ফোলা,মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া,রক্তাল্পতা 

কেন হয় এমন রোগ?

  • প্রথমত, আপনার পূর্বপুরুষদের মধ্যে যদি এমন রোগের ভুক্তভোগী থাকেন, তবে সেক্ষেত্রে আপনার হবার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না, অর্থাৎ বংশগত কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • দ্বিতীয়ত, আপনাকে যদি অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্থতা বা দুশ্চিন্তা গ্রাস করে থাকে, তবে আপনার পেটের এই সমস্যা হতেই পারে।
  • তৃতীয়ত, গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনাল ইনফেকশান, যা কিনা জল, খাবার বা অন্য যেকোনো কারণে পেটের সংক্রমণ থেকে হয়ে থাকে, এ ধরনের ইনফেকশানজনিত কারণেও পেটের এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আইবিএস-এর উপসর্গ

দেখা গেছে নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও পানীয় উপসর্গ শুরু করতে পারে—তবে সবারই যে সব কিছুতে হবে এমন নয়। এগুলো হলঃএ্যালকোহল,ঠান্ডা পানীয় (যেগুলোতে গ্যাস মেশানো থাকে),চকোলেট,চা-কফি-কোলার মতো কেফিন-যুক্ত পানীয়,প্যাকেটের জলখাবার—বিস্কুট বা মুচমুচে।বেশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার,ভাজা খাবার। আইবিএস-এর রোগী যদি খাবার-দাবারের ডায়েরি রাখেন, তাহলে কোন খাবারে উপসর্গ হচ্ছে বুঝতে সুবিধা হয়।এছাড়া আগেই বলেছি মানসিক চাপও আইবিএস-এর উপসর্গ শুরু করতে পারে। তাই মানসিক চাপ কমানোও আইবিএস-এর চিকিৎসার মধ্যে অন্যতম।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? 

যদি আপনার মনে হয় আইবিএস হচ্ছে, তাহলে ডাক্তার দেখানো উচিত। ডাক্তার দেখে নেবেন আপনার অন্ত্রে কোন জীবানু-সংক্রমণ আছে কিনা, সিলিয়াক ডিজিজ কিনা (যে রোগে রোগী গ্লুটেন সহ্য করতে পারেন না) বা খাদ্যনালিতে কোনও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ আছে কিনা। তবে এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের কাছে যাবেন কারণ এর একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। এলোপ্যাথিতে এর কোন চিকিৎসা নেই তাই এলোপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে এই রোগ নিয়ে যাওয়া অর্থহীন। 

আইবিএস আক্রান্ত রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • সারাদিনে বারে বারে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • রাতের বেলায় অবশ্যই হালকা খাবার খাবেন।
  • বারে বারে অল্প অল্প করে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে বেশি বেশি ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
  • পেট ভরে কোনো খাবার খাবেন না, সাথে চেষ্টা করুন খাবার গ্রহণের মাঝে পানি না পান করে খাবার গ্রহণের আগে এক গ্লাস পানি পান করতে। এতে পেট কিছুটা পানি দ্বারা ভর্তি হয়ে থাকবে এবং খাবার হজমেও সাহায্য করবে।
  • খাবারের তালিকায় মাছ, মুরগি, সালাদ, আলু, ভুট্টা, সাইট্রাস জাতীয় ফল- এগুলো রাখার চেষ্টা করুন।
  • রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • আইবিএস রোগের সাথে জ্বর, রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ এসব লক্ষণ আইবিএস এর না হয়ে অন্য কোনো রোগেরও হতে পারে।

আইবিএস এর জন্য এড়িয়ে চলার জন্য খাবারের তালিকা

স্বাস্থ্যবিষয়ক মতে, অ্যালকোহল, ক্যাফেটেড পানীয় এবং কার্বনেটেড পানীয়গুলি প্রায়ই আইব্সের উপসর্গ দেখা দেয় যেমন পেট ব্যথা বা অস্বস্তি, ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।
আইসক্রিম এবং দুগ্ধ আইবিএস চালু করতে পারে। পনির, দুধ, আইসক্রিম এবং মাখনের মত ডেইরি পণ্যগুলি আইবিএস লক্ষণগুলি ব্যাহত করতে পারে। যারা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের মতো ল্যাকটোজ অশনাক্তকারী না, তাদের জন্যও দুগ্ধজাত দ্রব্যগুলি পেটে ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং অস্বস্তিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন ল্যাকটোজ, দুধ ফ্যাট, কেসিিন এবং ভাঁজ সমস্যাযুক্ত হতে পারে।

চকলেট অন্ত্র জ্বালিয়ে দিতে পারে। হার্ড চকোলেটের চর্বি এবং ক্যাফিনে উপসর্গ সংকোচনের কারণ হতে পারে, যা ব্যথা এবং অস্বস্তিতে পরিণত হয়। হেল্পফরিআইবিসের মতে কমবয়সী, কোকো পাউডার আইবিএস রোগীদের জন্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমে আরো বেশি সহনীয় হতে পারে কারণ এটি চর্বিহীন। রেসিপি মধ্যে হার্ড চকলেট জন্য কোকো পাউডার বিকল্প।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মত উচ্চ চর্বি খাদ্য এড়ানো উচিত। সব ফ্যাট কোলোনিক সংকোচনকে উত্তেজিত করে যা বেদনাদায়ক পেটে ক্রাম্পিং হতে পারে। আমেরিকান কলেজ অফ গ্যাস্ট্রোন্টারোলজি অনুযায়ী, আইবিএস রোগীদের উচ্চ চর্বিযুক্ত ও নিম্ন ফাইবার খাবারের জন্য উচ্চ ফাইবার খাবারের বিকল্প হওয়া উচিত। চর্বিযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে মাংস, হাঁস চামড়া, বাদাম, আভাকাডোস, শর্টেনিং, মার্জারিন, মটর, পনির, ক্রিম, পুরো দুধ, উদ্ভিজ্জ তেল, গভীর ভাজা খাবার, অনেক ক্যান্ডি, আইসক্রিম এবং চকলেট।

পাস্তা থেকে এড়ানো উচিত,কিছু শর্করার এবং চিনিযুক্ত বিকল্পগুলি পেটে চাপ, ফুসকুড়ি, গ্যাস এবং অন্যান্য অন্ত্রবিহীন অসুখের কারণ হতে পারে। মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের মেডিকেল পেশাজীবীরা সাদা চাল, পেস্তা, সাদা রুটি এবং সাদা ময়দার মতো সুশৃঙ্খল কার্বোহাইড্রেটগুলি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, যা শরীরের চিনিতে রূপান্তর করে।কিছু মানুষ চিনির বিকল্প ম্যানিনিটোল এবং সেরিবটোলের সাথেও সমস্যা হতে পারে। আইওয়া হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে ফ্রুকটাস বিশেষ করে সমস্যাযুক্ত হতে পারে।

মাশরুম এড়িয়ে চলুন, জুরিটি খালি আছে কি না তা আইবিএস এর উপসর্গের কারণ। আপনার শরীর অন্যের চেয়ে ভিন্ন, তাই আপনি যে খামির আপনার জন্য একটি সমস্যা হতে পারে, কিন্তু IBS সঙ্গে অন্যদের জন্য না। আগস্ট ২005 সালের "গুট" এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি খামির আইবিএস এর জন্য একটি ট্রিগার। খামারে আন্ডারগ্রাউন্ড, বা ক্যানডিডা, আইবিএস লক্ষণগুলি দেখাতে পারে। খামির মধ্যে- এবং ছাঁচ উত্পাদনকারী খাদ্যগুলি এড়ানো হয় খামিরবিহীন রুটি, মদ, বিয়ার, মাশরুম, চিজ এবং শুকনো ফল। চিনি এবং পরিশ্রুত কার্বোহাইড্রেটগুলিও খিদে দেয় এবং আইবিএসকে উত্তেজিত করে। "বিএমসি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি" এর 2012 বিষয়টি ব্যাখ্যা করে যে যখন আপনি খামির এলার্জি হতে পারে না, আপনি এটির প্রতি সংবেদনশীল হতে পারেন।

আলু চিপস ময়দার আঠা থাকতে পারে। কিছু লোক দেখায় যে গম এড়িয়ে যাওয়া আইবিএসের উপসর্গ উন্নত করে। অন্যরা দেখায় যে তারা সব গ্লুটেনজাত দ্রব্যকে বাদ দিতে হবে, যার মধ্যে গম, বার্লি, রাই, বানানো এবং কখনও কখনও ওট। যদি আপনি গ্লুটেন-ফ্রী যেতে চান, তবে সিলেইস ডায়েটিং করার পরে সাহায্য করতে পারেন। যেহেতু গম এবং গ্লুট্যান অনেক পণ্য পাওয়া যায়, তাই লেবেলগুলি পড়তে গুরুত্বপূর্ণ। গ্লুটেন এবং গম স্যুপ, সসেজ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, হিমায়িত খাবার এবং আলু চিপগুলিতে পাওয়া যায়।

তাজা ফল এবং সবজি খান। পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টারের ইউনিভার্সিটি অনুযায়ী, কিছু ওষুধ, মটরশুটি ও মটরশুটি, সেইসাথে তাজা ফল যেমন দ্রবণযুক্ত ফাইবারের মধ্যে উচ্চ হয় এবং যদি যোগ করা হয় তবে অন্ত্রে জ্বালামতে পারে খুব দ্রুত ডায়াবেটিস লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে গ্যাস, ব্লোটিং, ক্রাম্পিং বা ডায়রিয়া। যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, তবে প্রথমে ধনীভাবে আপনার খাদ্যের কাঁচামাল চাষের আগে রান্না করা ফল ও সবজি চেষ্টা করুন।
বিস্তারিত

Friday, October 19, 2018

IBS কি? আইবিএস কেন হয়, লক্ষণ, রোগীর খাবার এবং আই বি এসের চিকিৎসা

IBS কি? ibs কি ভালো হয়? ibs রোগের পরামর্শ। ইংরেজি পেটের পীড়া Irritable Bowel Syndrome (IBS) আইবিএস হচ্ছে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। ইংরেজিতে সিনড্রোম শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে একটি রোগের বিভিন্ন উপসর্গ বা লক্ষণের সমষ্টি। তাই আইবিএসকে পেটের কয়েকটি উপসর্গ বা লক্ষণের সমন্বয়ে সংজ্ঞা হিসেবে ধরা হয়। এ রোগে পেট অধিকতর স্পর্শকাতর হয় বলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। পাশ্চাত্য দেশে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজন মানুষ এ রোগে তার জীবদ্দশায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। নাটোরের একটি গ্রামে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন পুরুষে ২০ দশমিক ৬ জন এবং ১০০ জন নারীর মধ্যে ২৭ দশমিক ৭ জন এ রোগে আক্রান্ত হন।

আইবিএস কেন হয়?

আজ পর্যন্ত এ রোগের প্রকৃত কারণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারে নি  অথচ বহু বছর আগেই হোমিওতে এর ঔষধ তৈরী করে রেখেছেন হোমিওপ্যাথিক প্রভাররা। অনেক কারণে এ রোগ হয় বলে চিকিৎসার অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি - এটি হলো এলোপ্যাথিক চিকিৎসাবিদদের মতামত। এখন পর্যন্ত কেবল উপসর্গের চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে ভালো রাখার চেষ্টা করছে এলোপ্যাথি। স্নায়ুর চাপ এবং দুশ্চিন্তা, খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের প্রদাহ এবং সংক্রমণ, হরমোন (নারীদের মাসিকচক্রের সঙ্গে), মাদক গ্রহণ, বংশগত কারণ, পেটের যেকোনো অপারেশন ও দীর্ঘকাল ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আইবিএসের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয় এটি অনেকেরই জানার কথা।

IBS আইবিএস এর লক্ষণ 

পেটব্যথা, পেটফাঁপা, পায়খানার সঙ্গে আম যাওয়া, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমন্বয় ইত্যাদি। কোনো রোগীকে আইবিএস হিসেবে শনাক্ত করতে হলে এ লক্ষণগুলোতে অন্তত দুটি লক্ষণ তিন মাস পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্য যেসব লক্ষণ থাকতে পারে, সেগুলো হলো—পেটে অত্যধিক গ্যাস, পেটে অত্যধিক শব্দ, বুক জ্বালা, বদহজম, পায়খানা সম্পূর্ণ না হওয়া, পেটে ব্যথা হলে টয়লেটে যাওয়ার খুব তাড়া, পেটব্যথা হলে পাতলা পায়খানা হওয়া, শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন কিংবা মিলনের সময় ব্যথা। কিন্তু যদি পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে, শরীরের ওজন কমে যায় এবং হঠাৎ পায়খানার ঘনত্বের পরিমাণ কমে যায়, তবে এগুলো অন্য কোনো রোগের এমনকি কোলোরেকটাল ক্যানসারের উপসর্গও নির্দেশ করে।

IBS রোগ নির্ণয়

এ রোগ সাধারণত উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়। রোগীর বয়স ও সুনির্দিষ্ট লক্ষণের ওপর নির্ভর করে এক বা একাধিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে লক্ষণের ওপর নির্ভর করে রোগ শনাক্ত করা যায়। বয়স ৪০ বছরের ওপরে হলে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আইবিএস রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক থাকবে। পরীক্ষাগুলো হলো
  • রক্ত পরীক্ষা
  • মল পরীক্ষা
  • পেটের এক্স-রে
  • বেরিয়াম এনেমা
  • প্রক্টোসিগময়ডোস্কপি/কোলোনোস্কপি
উল্লেখ্য হোমিও চিকিৎসায় এই সকল টেস্ট করার খুব একটা দরকার পড়ে না 

IBS  আইবিএসএর সঠিক হোমিও  চিকিৎসা

আইবিএস ঝুঁকিপূর্ণ রোগ নয়, সংক্রামক রোগও নয়, এমনকি বংশগত রোগও নয়। এ রোগ অন্ত্রের ক্যানসার কিংবা অন্য কোনো ক্যানসারের কারণ নয়, এ কথাগুলো রোগীর চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীকে ভালো করে বুঝতে হবে। অনেক সময় ডাক্তারগণ এই রোগের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা দিতে পারে না তাই তারা এটাকে মানুষিক রোগ বলতেও দ্বিধা করে না। যখনই দেখবেন তারা আপনার রোগ সারাতে ব্যর্থ - সেখানেই তারা আপনাকে মানুষিক রোগী বানিয়ে দিবে - একটা হাস্যকর বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়। আইবিএস সমস্যায় অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন। ঠিকঠাক ভাবে ডাক্তার চিকিৎসা দিতে পারলে এই রোগ থেকে নিশ্চিত আরোগ্য লাভ করবেন।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ বা চিকিৎসার মাধ্যমে কি এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা যায় ? অনেকেই আই বি এস রোগ থেকে মুক্তি পেতে বা এই সম্পর্কে পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রে এরকম একটি প্রশ্ন করে থাকেন। উত্তর হলো - হাঁ, প্রপার হোমিও চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে আপনি চিরদিনের জন্য মুক্তি লাভ করবেন। তবে এখানে কিছু বিষয় আপনার মাথায় রাখতে হবে - আর সেটা হলো অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে আপনাকে চিকিৎসা নিতে হবে।

আমি অভিজ্ঞ কথাটি বললাম এই কারণে যে - কিছু কিছু ডিগ্রীধারী নতুন ডাক্তার রয়েছেন তাদের চিকিৎসা হয়তো ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে পারে। কিন্তু একজন অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার যিনি সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৮ বছর প্রাকটিস করছেন এবং ক্রনিক রোগগুলির চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তার ট্রিটমেন্ট ব্যর্থ হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম থাকে।

আই.বি.এস এমনিতেই একটি জটিল প্রকৃতির রোগ তার উপর অনেকেই দেখা যায় - ২/৪ দিন কিছু ঔষধ খেয়েই ভালো হয়ে যেতে চান। যারা এই ভুলটি করেন তারাই এই রোগে বেশি কষ্ট ভোগ করেন এবং দীর্ঘদিন কষ্ট করতে থাকেন। আপনাকে বুঝতে হবে - যেকোন ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রে আপনি যদি প্রপার ট্রিটমেন্ট না নিয়ে - একবার এই ঔষধ, আরেকবার ঐ ঔষধ খেতে থাকেন তাহলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া তো দূরের কথা বরং রোগ জটিলতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার কারণে একজন চিকিৎসককে পর্যন্ত শেষকালে সুচিকিৎসা দিয়ে রোগীকে ভালো করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

তাই Irritable Bowel Syndrome (IBS) বা আই.বি.এস, পুরাতন আমাশয় বা পেটের পীড়াসহ যেকোন ক্রনিক রোগে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। যদি ট্রিটমেন্ট ঠিক ঠাক ভাবে করা হয় আপনার রোগ যত পুরাতন বা তীব্রই হোক না কেন - এটি নির্মূল হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। আরো কিছু জানার থাকলে ফোন করে জেনে নিবেন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত

Saturday, April 21, 2018

আই.বি.এস (IBS) ও পুরাতন আমাশয় ভালো হচ্ছে হোমিও চিকিৎসায়

ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম - আই.বি.এস Irritable Bowel Syndrome (IBS), পুরাতন আমাশয় এবং অন্যান্য ক্রনিক লিভার এবং পরিপাকতন্ত্রের পীড়ায় হোমিও ডাক্তাররা খুব সহজেই হ্যান্ডেল করছেন অথচ এই সব ক্ষেত্রে এলোপ্যাথির নামকরা ডাক্তারগণ পর্যন্ত যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এইগুলিকে মানুষিক ব্যাধি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এই সকল রোগ সমূহ সারাতে কেন এলোপ্যাথি চিকিৎসা ব্যর্থ ! আর কেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগণ খুব সহজেই এই রোগগুলি নির্মূল করতে পারছেন ? এরই তাৎপর্য খুঁজবো আজকে। আশা করি পুরু আর্টিকেলটি মনযোগ দিয়ে পড়বেন।

প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে বর্তমান বিশ্বে এলোপ্যাথিই এক মাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। পৃথিবীতে এখন প্রায় ১৫০টিরও বেশি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি চালু রয়েছে : এখানে দেখুন >>>। এবার হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে - এলোপ্যাথি থাকতে কেন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে ? এর উত্তর খুব সহজ। অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার বিকল্প চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয় এবং অনেক জটিল এবং কঠিন রোগ থেকে এই সকল চিকিৎসার মাধ্যমে খুব সহজেই মানুষজন সুস্থতা লাভ করছে বিধায় বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এবার আপনাকে বুঝতে হবে এলোপ্যাথিতে একটি রোগের কার্যকর চিকিৎসা নেই এর মানে এই নয় যে পৃথিবীতে আপনার রোগের কোন চিকিৎসা নেই! এর মানে এই নয় যে আপনি কখনো ভালো হবে না ! আপনাকে শুধু খুঁজে বের করতে হবে, কোন চিকিৎসা ব্যবস্হায় আপনার রোগের স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। এটাই হল আপনার প্রথম কাজ। তারপর দ্বিতীয় কাজ হলো আপনাকে চিকিৎসা নেয়া।

এবার আসুন আমরা আবার আগের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। আই.বি.এস (IBS) এবং পুরাতন আমাশয়ের মতো রোগগুলি এলোপ্যাথি নিরাময়ে ব্যর্থ আর এর প্রধান কারণ হলো - আজ পর্যন্ত এলোপ্যাথিক বিজ্ঞানীরা আই.বি.এস (IBS) রোগের পেছনে দায়ী প্রকৃত কারণটি কি সেটাই আবিষ্কার করতে পারেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা। তাই তারা এটাকে মানুষিক রোগ বলে চালিয়ে দিয়ে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করছে। যার কারণে এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণ এই রোগের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা দিতে পারেন না। তার মানে এই নয় যে, এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই!

আগেই বলেছি - অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে আর বর্তমান বিশ্বে, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে হোমিওপ্যাথি এক নম্বর স্থান শুরু থেকেই দখল করে আছে। এলোপ্যাথি লবি যদি WHO কে হোমিওপ্যাথিকে স্বীকৃতি দিতে বাধা না দিতো তাহলে হয়তো আজ বিশ্বে হোমিওপ্যাথিই প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতির স্থানটি দখল করে নিতো। উল্লেখ করা প্রয়োজন, যিনি হোমিওপ্যাথির আবিস্কারক তিনি পূর্বে নিজেই একজন নামকরা এলোপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই হোমিওপ্যাথি জনপ্রিয়। এর প্রধান কারণ হলো যেখানে এলোপ্যাথি জটিল ও কঠিন রোগগুলি নিরাময়ে ব্যর্থ সেখানে হোমিওপ্যাথি মন্ত্রের মতো কার্য্যকর।

আই.বি.এস (IBS) এবং পুরাতন আমাশয় কেন হোমিও চিকিৎসায় ভালো হয়

হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা ঠিকই যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে আই.বি.এস (IBS) এবং পুরাতন আমাশয়ের মতো জটিল রোগগুলি স্থায়ী ভাবে নির্মূল করে রোগীকে সুস্থ করে তুলছেন। কিন্তু তাদের এই সাফল্যের পেছনে কারণটি কি ? আসুন এ সম্পর্কে আমরা জেনে নিই। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন হোমিওপ্যাথিতে একই রোগের জন্য রয়েছে অনেক উন্নত মানের কার্য্যকর ঔধষ। শুধু তাই নয় এই সকল ঔষধও আবার বিভিন্ন শক্তি বা পাওয়ারে বিন্যস্ত করা। বিস্তারিত পর্যালোচনা পূর্বক লক্ষণ সাদৃশ্যে অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারগণ তাদের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সকল ঔষধের পাওয়ার সিলেকশন করে প্রয়োগ করে থাকেন।
আপনি এটা জেনেও অবাক হবেন যে - হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধেই রয়েছে রোগীর - শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। আর তাই তো হোমিওপ্যাথি এত কার্যকর এবং স্থায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। আই.বি.এস, পুরাতন আমাশয় এবং অন্যান্য ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রে একেক জন রোগীর শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে সে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের ব্যক্তি ভেদে লক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারদের এই সকল রোগ স্থায়ী ভাবে সারাতে মোটেও বেগ পেতে হয় না।

তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অযথাই এলোপ্যাথির পেছনে ছুটাছুটি করে আপনার টাকা পয়সা এবং সময় নষ্ট না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার রোগ ভালো হচ্ছে না এর জন্য ঐ ডাক্তারের ঔষধ এবং ঔষধের পাওয়ার সিলেকশনে ভুল থাকতে পারে। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। তাছাড়া ডাক্তারের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও হোমিও চিকিৎসা দানের ক্ষত্রে একটি বড়ো ফ্যাক্টর। একজন হোমিও ডাক্তার যত অভিজ্ঞ হবেন তার চিকিৎসাও তত অব্যর্থ হবে। তাই সব সময় অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়াই হলো অতি উত্তম। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন সব সময়। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত